• শিরোনাম

    * কারাগারের যে কাহিনীর শেষ নেই *টেকনাফের দন্ডিত ইয়াবা ডন সৈয়দ কাসিম ২০১৪ সাল থেকে কক্সবাজার কারাগারে

    অন্য কারাগারের ইয়াবা কারবারিও কক্সবাজারে

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ জুন ২০১৯ | ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

    অন্য কারাগারের ইয়াবা কারবারিও কক্সবাজারে

    কক্সবাজার জেলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতার ৮ গুণ বন্দী থাকায় বন্দীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠা মাত্রই ৮ গুণ বেশী বন্দীর অজুহাতটি ফলাও করে বলা হয়। অথচ একবারের জন্যও কক্সবাজার জেলা কারাগারের অতিরিক্ত বেশী বন্দী দেশের অন্যান্য কারাগারে সরিয়ে নেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হয়না। বরং উল্টো চট্টগ্রাম কারাগারের দন্ডপ্রাপ্ত কয়েদীদেরও কক্সবাজার কারাগারে নিয়ে আসা হয়। এমনকি কক্সবাজারে কোন মামলা না থাকা সত্বেও চট্টগ্রাম কারাগার থেকে ইয়াবা কারবারিদের কক্সবাজার কারাগারে রাখার নেপথ্যে কি কারণ থাকতে পারে তা খতিয়ে দেখা দরকার।
    এমনই একজন দন্ডিত কয়েদী কক্সবাজার কারাগারে রয়েছেন ২০১৪ সাল থেকে। দন্ডিত এই কয়েদীর নাম সৈয়দ কাসিম। তিনিও একজন বড় মাপের ইয়াবা ডন। টেকনাফ সীমান্তের গোদারবিল গ্রামের মৃত কালা মিয়ার পুত্র এবং টেকনাফ সদর ইউনিয়নের আবু সৈয়দ মেম্বারের ভাই তিনি। টেকনাফ সীমান্তের এই ইয়াবা ডন সৈয়দ কাসিম চট্টগ্রাম শহরে ধরা পড়েছিলেন দুই লাখ ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে।
    ধরা পড়ার পর তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম কারাগারে। কিন্তু চট্টগ্রাম কারাগারে থেকে কারবারের তেমন সুযোগ মিলে না। যা কক্সবাজার কারাগারে থেকে কারবারের সুযোগ রয়েছে সেটা নেই চট্টগ্রামে। তাই মোটা টাকার বিনিময়ে সৈয়দ কাসিম চট্টগ্রামে মামলা থাকলেও তিনি এসে যান কক্সবাজার কারাগারে। অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজার কারাগারে কারবারিরা মোবাইল ব্যবহারেরও সুযোগ পেয়ে যায়।
    কক্সবাজার কারাগারের তত্বাবধায়ক বজলুর রশিদ আখন্দ গতকাল নিশ্চিত করে বলেন যে, ইয়াবা ডন সৈয়দ কাসিম চট্টগ্রামের ইয়াবা পাচারের মামলায় ১০ বছরের কারাদন্ড প্রাপ্ত আসামী। তবে সৈয়দ কাসিমের ভাই জানিয়েছেন, কাসিম চট্টগ্রামের দায়রা মামলা নং-১২৪০/২০১৫ নম্বরের মামলায় ৪ বছরের দন্ড ভোগ করছেন।
    সৈয়দ কাসিম ২০১৪ সাল থেকেই কক্সবাজার কারগারে থাকার কথাও তিনি জানান। অথচ কক্সবাজারে তার নামে মামলা নেই বলে জানা গেছে। গতরাতে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ইয়াবা ডন সৈয়দ কাসিমের বিরুদ্ধে মামলা থাকার কোন তথ্য জানাতে পারেননি।
    কক্সবাজার কারাগারে বর্তমানে তিন হাজারেরও বেশী ইয়াবা কারবারি বন্দী রয়েছেন্। এসব কারবারি বন্দীদের কারনেই কারাগারের বন্দী জীবনের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তবুও কারবারিদের দেশের প্রত্যন্ত জেলার কারাগারে পাঠানো হচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, মাসিক মোটা অংকের টাকার লোভেই এসব কারবারিদের গিজ গিজ অবস্থা হলেও কক্সবাজার কারাগারেই তাদের রাখা হয়েছে। কারাগারে এতসব অতিরিক্ত বন্দী দেখিয়ে কারাভ্যন্তরের দুর্ণীতি-অনিয়ম ঢাকা দিতে চেষ্টা করছেন কারা কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে গত শুক্রুবার কক্সবাজার কারাগারে নুর মোহাম্মদ নামের একজন হাজতীকে দেখতে গিয়ে টোকেনের মাধ্যমে হাজতীর স্ত্রী তার একটি দামি মোবাইল ক্যান্টিনে জমা দিয়ে সেই মোবাইলটি গতকাল পর্যন্ত ফেরৎ পাননি। গতকাল কারাগারের তত্বাবধায়ক বিষযটি স্বীকার করেছেন। সেই হাজতী ইয়াবা কারবারি নুর মোহাম্মদ গতকাল জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি জানান, তাকে আগামী তিনদিন পর আবার আসতে বলেছেন। ###

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ