• শিরোনাম

    রোগীর স্বজনকে পুলিশে সোপর্দঃ অপ্রীতিকর ঘটনার জের

    আবারও সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বন্ধ

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ এপ্রিল ২০১৯ | ১:৩২ পূর্বাহ্ণ

    আবারও সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বন্ধ

    অপ্রীতিকর ঘটনার জের ধরে গতকাল ৩ঘন্টা হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ সকল বিভাগ বন্ধ ছিল

    কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের ধর্মঘট নৈরাজ্যের রেশ না কাটতেই আবারো অপ্রীতিকর ঘটনায় ধর্মঘটের কবলে পড়ে রোগিদের পোহাতে হয়েছে চরম ভোগান্তি। টানা ৩ ঘন্টা চিকিৎসা না পেয়ে রোগিদের কেউ কেউ বিনা চিকিৎসায় ফিরে গেছে। অনেক অসুস্থ রোগি ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেছে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অনেক রোগি চিকিৎসা না পেয়ে শয্যা ছেড়ে অন্যত্র চিকিৎসা নিয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনার জের ধরে ৩ ঘন্টা বন্ধ থাকলো চিকিৎসা কার্যক্রম। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। জানা গেছে, গতকাল এক শিশুর চিকিৎসা দেয়াকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের বহিঃর্বিভাগের একজন চিকিৎসকের সঙ্গে বাক-বিত-ায় জড়িয়ে পড়েন শহরের রুমালিয়ারছড়ার মোহাম্মদ প্রকাশ ম্যাক্স। এক পর্যায়ে তাঁদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। ওই সময় হঠাৎ করে একদল ইন্টার্ন চিকিৎসক এসে চড়াও হয় ম্যাক্সের উপর। মারধর করে তাকে।
    এরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয় জেলা প্রশাসনকে। পাশাপাশি পুলিশকেও অবহিত করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোহাম্মদ প্রকাশ ম্যাক্সকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
    সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, একটানা ৫ দিন পর চিকিৎসা সেবা সচল হওয়ার পর দুইদিনের মাথায় চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের ঘটেছে আরো দুটি অপ্রীতিকর ঘটনা। সর্বশেষ ৯ এপ্রিল ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনা। চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনের মধ্যে সংঘটিত এই ঘটনার জের ধরে আবারো তিন ঘন্টা চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখে চিকিৎসকেরা। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ঘোষণা দিয়েই চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখলেও রোগিদের সেবা দেয়া হয় বেলা ৩ টার দিকে। যা ৩ ঘন্টার চেয়ে বেশি সময় রোগিরা সেবা বঞ্চিত হয়। শুধু তাই নয়; ওই রোগীর স্বজনকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের এসব নৈরাজ্যের ঘটনায় রোগিরা সদর হাসপাতাল বিমূখ হচ্ছে আর চিকিৎসক আতংকে ভুগছে কক্সবাজারবাসী।
    জানা যায়, এক শিশু রোগীর চিকিৎসা দেয়াকে কেন্দ্র করে ৯ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালে বহি: বিভাগের চিকিৎসক সার্জন ডাঃ আনিসের সাথে শহরের রুমালিয়াছড়া এলাকার বাসিন্দা রোগীর স্বজন মোহাম্মদ ম্যাক্স নামে এক ব্যক্তির কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এঘটনার জের ধরে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জড়ো হয়ে ম্যাক্সকে মারধর করে আটকে রাখে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন।
    হাসপাতাল কতৃপক্ষের দাবি, ম্যাক্স সার্জন ডাঃ আনিস, জামসেদসহ তিন চিকিৎসককে মারধর করেছে। তাই তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে আটক ম্যাক্স এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
    আবদুল্লাহ এমডি ম্যাক্স জানান, তার স্বজন এক শিশু রোগীর চিকিৎসার ব্যাপারে জানতে তিনি বহি:বিভাগের দায়িত্বরত ডা. আনিসুল হোসেনের চেম্বারের যান। এতে শুরুতেই রেগে যান ডা. আনিস। এক পর্যায়ে দু’জনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। সাথে সাথে ডা. আনিস খবর দিয়ে ১৫/২০জন ইন্টার্ন চিকিৎসককে তার চেম্বারে নিয়ে আসেন। এসেই কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ম্যাক্সকে মারতে শুরু করে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাকে ওই কক্ষ ও কক্ষের বাইরে কিল, ঘুষিসহ ব্যাপক মারধর করে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। মারধর করে আটকে রেখে পুলিশ গেলে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
    এদিকে এই ঘটনার সাথে সাথে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয় বলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা অভিযোগ করেন। সরেজমিনের গিয়েও তার সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায়, চিকিৎসা বন্ধ রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা হাসপাতালে বাইরে অবস্থান করছেন। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দরজা তালাবদ্ধ দেখা যায়। দরজায় টাঙানো হয়েছে চিকিৎসা বন্ধের নোটিশ।
    সাংবাদিকেরা গেলে তাদের কাছে ঘটনা বর্ণনা দেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিধান পাল। তিনি তার বক্তব্য পেশ করেন। তবে তিনি দাবি করেন চিকিৎসা সেবা বন্ধ করা হয়নি। এসময় সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে সাংবাদিকদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। তবে হাসপাতাল সুন্দর ভাবে পরিচালনার জন্য সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। সাংবাদিককের সাথে ওই বৈঠকের পর খুলে দেয়া হয় জরুরী বিভাগ।
    সাধারণ লোকজন বলছেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া ইতিবাচক। কিন্তু এটিকে পুঁজি করে চিকিৎসকেরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এটা সকলের জন্য অশনি সংকেত এবং আশঙ্কাজনক। এতে সমাধান কোনোভাবেই আসবে না। বরং অপ্রীতিকর ঘটনা বার বার ঘটে যাবে। তার জন্য ইন্টার্ন ও বদমেজাজি চিকিৎসকদের লাগাম টানতে হবে।
    আটক ম্যাক্স’র বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদান ও চিকিৎসকের হামলার অভিযোগ এনে হাসপাতালের পক্ষ থেকে মামলা প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানান হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিধান পাল। এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন খন্দরকার জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতেই আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ