• শিরোনাম

    সদরে ১০ ভাগ ভোটারও পাওয়া যায়নি, আঙ্গুলে মেহেদী থাকলেই সমস্যা

    ইভিএম এ পরীক্ষামূলক ভোটগ্রহণে সাড়া কম

    শহীদুল্লাহ্ কায়সার | ৩০ মার্চ ২০১৯ | ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

    ইভিএম এ পরীক্ষামূলক ভোটগ্রহণে সাড়া কম

    ব্যাপক প্রচারের পরও গতকাল ২৯ মার্চ ইভিএম এ পরীক্ষামূলক ভোটগ্রহণ ব্যর্থ হলো। কক্সবাজার সদর উপজেলার ১০ ভাগ ভোটারও পরীক্ষামূলক ভোট দিতে যাননি। অনেক কেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তার তুলনায় ভোটারের উপস্থিতি ছিলো কম। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ভোটগ্রহণের জন্য প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসাররা শুধুই ভোটার আসার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে পাননি কাঙ্খিত ভোটার।
    হাতে গোনা কয়েকজন ভোটার গিয়ে শিখেছেন কিভাবে ইভিএম এ ভোট প্রদান করতে হয়। তবে তাদেরও পড়তে হয়েছে নানা সমস্যায়। বিশেষ করে মেশিন কিছুতেই প্রথমবার আঙ্গুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) শনাক্ত করতে পারছিলো না। একাধিকবার ছাপ দেয়ার পরই মেশিনগুলো ভোটারদের শনাক্ত করতে পেরেছে।
    এ ছাড়াও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ( ইভিএম) এ দেখা দিয়েছে সমস্যা। প্রথমবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে না এই মেশিন। তবে, এই মেশিনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল কিংবা তর্জনিতে মেহেদী অথবা অন্য কোন পদার্থ লাগানো হলেই এই মেশিন ভোটারদের শনাক্ত করতে পারে না। ফলে মেহেদী ব্যবহারকারী মহিলাদের ভোট প্রদানে দেখা দিতে পারে সমস্যা।
    ভোটার উপস্থিতি কম হলেও গতকাল পরীক্ষামূলক ভোটগ্রহণ কর্মসূচি ছিলো সন্তোষজনক। সকাল থেকেই প্রিসাইডিং অফিসারদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয় দুইটি করে ইভিএম। ইভিএম এ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তা সমাধানের জন্য সেনাবাহিনীর দুইজন সদস্য প্রত্যেক কেন্দ্রে নিয়োজিত ছিলেন। সকাল থেকেই জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষামূলক ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। দুপুর ১ টায় তিনি আসেন বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমিতে স্থাপিত ৯৮ নং কেন্দ্রে। সেখানে কর্মরত নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করা ছাড়াও ভোটগ্রহণ কার্যক্রম স্বচক্ষে দেখেন তিনি।
    গতকাল ২৯ মার্চ শুক্রবার সকালে শহরের বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, প্রিসাইডিং এবং পোলিং অফিসাররা ভোটগ্রহণের জন্য বসে আছেন। কিন্তু দেখা মিলছে না ভোটারের। সকাল সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত মাত্র পাঁচজন ভোটার পরীক্ষামূলক ভোট দিয়েছেন। ভোটার উপস্থিতির হতাশ নির্বাচনী কর্মকর্তারা।
    বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোঃ শহীদুল হক বলেন, ‘সকাল থেকেই কম উৎসাহ দেখতে পাচ্ছি। হয়তো প্রচারণায় ঘাটতি আছে।’ ইভিএম এ ভোট দান পদ্ধতি খুবই সহজ। কেউ একবার শিখে নিলেই তাকে আর দ্বিতীয়বার শেখাতে হবে না। এই পদ্ধতিতে জাল ভোট দেয়াও সম্ভব নয়।
    কক্সবাজার শহরের বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক ভোট দিতে যাওয়া মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, প্রথমবার বৃদ্ধাঙ্গুলের ছাপ দেয়ার পর ইভিএম আমাকে শনাক্ত করতে পারেনি। দ্বিতীয়বার ছাপ দেয়ার পরই আমার নাম কম্পিউটারের স্ক্রিনে ভেসে উঠে। এই অবস্থা চলমান থাকলে ইভিএম এর উপর সাধারণ মানুষের সন্দেহ সৃষ্টি হবে। শিক্ষিত ভোটারদের জন্য ইভিএম এ ভোট দেয়া সহজ হলেও অশিক্ষিতদের জন্য এই পদ্ধতি একটু কঠিন হবে বলে আমার মনে হলো।
    একই চিত্র শহরের বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমির। গতকাল এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দু’টি পরীক্ষামূলক কেন্দ্র স্থাপন করা হয় । সারাদিন কেন্দ্র দুটিতে বিরাজ করেছিলো নিরবতা। মাঝে মাঝে নির্বাচনী কর্মকর্তারা বাইরে এসে উঁকি ঝুঁকি দিয়ে দেখেন কোন ভোটার এসেছেন কিনা। কেউ ভোট দিতে এসেছেন শুনলেই আনন্দে স্বাগত জানিয়েছেন। শিখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে ইভিএম এ ভোট দিতে হয়। তবে, তাতেও মিলেনি কাঙ্খিত ভোটারদের। দুইটি কেন্দ্রে প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলেও দুপুর ১ টা পর্যন্ত পাওয়া গেছে মাত্র ৮ জন ভোটার।বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমিতে স্থাপিত ৯৭ নং কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আহমদ কবির বলেন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মিললে ভোট নেয়া যাচ্ছে না। সকাল থেকে ভোটারদের অংশগ্রহণ খুবই কম। বেলা পৌনে ১২ টা পর্যন্ত মাত্র ৫ জন ভোটার পরীক্ষামূলক ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন।
    একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থাপিত ৯৮ নং কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মুহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ভোটারদের অংশগ্রহণের হার খুবই কম। এতে আমাদের করার কিছুই নেই। হয়তো প্রচারণায় ঘাটতি ছিলো। স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে ভালোভাবে প্রচার করা প্রয়োজন ছিলো। তা ছাড়া শুক্রবার হওয়ার কারণেও পরীক্ষামূলক ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে ভোটারদের উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে। কক্সবাজার পৌরসভার কেন্দ্রগুলোর চেয়ে বৃহত্তর ইদগাঁও এর কেন্দ্রগুলিতে ভোটার উপস্থিতি ছিলো কিছুটা বেশি। ওই এলাকার অনেক কেন্দ্রে ৮০ থেকে ৯০ জন পর্যন্ত ভোটার পরীক্ষামূলক ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন ।
    এ ব্যাপারে জানার জন্য কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শীমুল দাশের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ