• শিরোনাম

    * শহরতলির ইয়াবা কারবারিদের মাঝে আতংক * পুলিশের সোর্স লাল মোহাম্মদ ছিল আরেক মওজুদকারি * ইয়াবা পুলিশ ও ভদ্র কারবারিদের বিক্রেতা ছিল লাল মোহাম্মদ

    ইয়াবা ডন লাল মোহাম্মদ নিখোঁজ

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৪ মার্চ ২০১৯ | ১:৫১ পূর্বাহ্ণ

    ইয়াবা ডন লাল মোহাম্মদ নিখোঁজ

    কক্সবাজার শহর ও শহরতলীর চিহ্নিত ইয়াবা কারবারিদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। যে যার মতো করে গা ঢাকা দিয়েছে ইয়াবার পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা। বিশেষ করে কক্সবাজারের ইয়াবার হাট হিসাবে পরিচিত কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও বৃহত্তর লারপাড়া এলাকার ইয়াবা কারবারীরা আগেকার চিরচেনা মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে নিরাপদ দূরত্বে সটকে পড়েছে।
    গত ১১ মার্চ ভোরে লারপাড়ার চিহ্নিত মাদক কারবারি মাছ বিক্রেতা গুল হোসেনের পুত্র চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি দেলোয়ার হোসেন (৩৮) বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়। শহরের ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে পুলিশ তার গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করে। এসময় মৃত দেহের পাশ থেকে একটি এলজি, দু’টি তাজা কার্তুজ ও ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।
    কক্সবাজার মডেল থানা সূত্র জানায়-লারপাড়ায় চারতলার একটি আলিশান বাড়ি ও টার্মিনাল এলাকায় হোসেন কটেজের মালিক এই ধনাঢ্য ইয়াবা কারবারীর বিরুদ্ধে কক্সবাজার মডেল থানায় চারটি মাদকসহ হাফ ডজন মামলা রয়েছে।
    এদিকে দেলোয়ার খুনের একদিন না যেতেই ১২ মার্চ সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের থানা রোড থেকে অপহ্নত হয়েছে বৃহত্তর লারপাড়ার অপরাধ জগতের ডন লাল মোহাম্মদ (৬০)। থানা পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত এই লাল মোহাম্মদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে ইয়াবা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার মডেল থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। লাল মোহাম্মদ নিখোঁজের একদিন পার হলেও তার খোঁজ পায়নি পরিবার।
    পুলিশের নিখোঁজ সোর্স লাল মোহাম্মদকে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক কথা বলাবলি হচ্ছে। বলা হচ্ছে মূলত লাল মোহাম্মদ ছিল ইয়াবার বড় ধরণের একজন মওজুদকারি। ইয়াবা নিয়ে জড়িত পুলিশ সহ একই কারবারে জড়িত বলে সাম্প্রতিক সময়ে চাওর হয়ে পড়া পেশাজীবী শ্রেণীর অনেক প্রভাবশালী লোকজনও লাল মোহাম্মদের কাছে ইয়াবা জমা রাখত।
    সেইসব ইয়াবা লাল মোহাম্মদ মওজুদ করে বিক্রি করার পর টাকা পৌঁছে দিত তাদের কাছে। একমাত্র লাল মোহাম্মদই জানত ভদ্র ইয়াবা কারবারি কারা ? সাম্প্রতিক সময়ে এসব ভদ্র মানুষগুলোর নাম আতœসমর্পণকারিদের মুখে বেরিয়ে আসে। কোন সময় যদি লাল মোহাম্মদকে ধরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাহলে থলের বিড়াল চিহ্নিত হয়ে যাবে। এ কারনেই লাল মোহাম্মদ নিখোঁজ হয়েছে বলেও সন্দেহ করছেন তার ঘনিষ্টজনরা।
    এর আগে লারপাড়ার ইয়াবা কারবারি হাসান ও কলাতলির ইয়াবা ডন মুফিজ বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত আত্মস্বীকৃত টেকনাফে আত্ম-সমর্পনকারী ইয়াবা ডন, পশ্চিম লারপাড়ার শাহজাহান আনচারির ঠিকানা এখন কারা প্রকোষ্টে।
    সূত্র জানায়-কক্সবাজারের ইয়াবা আইকন আনচারি পরিবারের হাত ধরে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, বৃহত্তর লারপাড়া, হোটেল-মোটেল জোন, ঝিলংজার পশ্চিমাংশে ইয়াবার ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। আনচারি পরিবারের চার ভাইয়ের আলিশান জীবন যাপন, দামি গাড়ি-বাড়ির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে দ্রুত ধনী হতে প্রায় দু’শতাধিক পথভ্রষ্ট যুবক এসব এলাকায় ইয়াবা পাচার ও কারবারিতে নাম লেখায়।
    সূত্র আরও জানায়- ইয়াবা কারবারি চার সন্তানের জনক দেলোয়ার খুন ও অপরাধ ডন লাল মোহাম্মদের নিখোঁজের ঘটনায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন বাস টার্মিনাল ও বৃহত্তর লারপাড়া এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা কারবারিরা। লারপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান- প্রায় ২৫/৩০ জন মুখচেনা ইয়াবা কারবারিদের দৌরাত্ম্য দেখে মনে হয় আমরা কোন ইয়াবা সা¤্রাজ্যে বাস করছি।
    গাড়ির হেলপার, বাস টার্মিনালের টোকাই থেকে হঠাৎ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া এসব ইয়াবা যুবকরা এখন লারপাড়ার ভাল মানুষ গুলোর সাক্ষাৎ যম। এদেরকে আইনের আওতায় এনে ইয়াবার অর্থে কেনা গাড়ি,বাড়িসহ সহায় সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আনার দাবি জানান স্থানীয় সচেতন মহল।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ