• শিরোনাম

    টেকনাফে পুলিশ-বিজিবি অভিযান, বিপুল পরিমাণে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার

    ইয়াবা ডন সাইফুল করিমসহ দুই মাদক কারবারী নিহত

    টেকনাফ অফিস | ০১ জুন ২০১৯ | ১:৫০ পূর্বাহ্ণ

    ইয়াবা ডন সাইফুল করিমসহ দুই মাদক কারবারী নিহত

    পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ইয়াবা সাম্রাজ্যের অধিপতি দেশের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সাইফুল করিম ওরফে হাজী সাইফুল(৪০)।
    শুক্রবার (৩১ মে) রাত সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফ স্থলবন্দর সংলগ্ন এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল টেকনাফের শীলবনিয়া পাড়া এলাকার ডা. হানিফের ছেলে।
    এসময় ঘটনাস্থল থেকে নয়টি এলজি, এক লাখ ইয়াবা ও ৪২ রাউন্ড কার্তুজ, ৩৩ রাউন্ড খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
    টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাস জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ১নং ইয়াবা কারবারী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সবগুলো তালিকায় নাম থাকা সাইফুলকে আগেই আটক করা হয়েছিল। পরে শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থলবন্দরের দক্ষিণ পাশে কয়েকদিন আগে মিয়ানমার হতে এনে মজুদ করা ১ লাখ ইয়াবার চালান উদ্ধারে অভিযানে যায় পুলিশের একটি দল। এসময় পুলিশের অবস্থান টের পেয়ে ইয়াবা কারবারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এসময় পুলিশও পাল্টা গুলিবর্ষন করতে থাকে। পরে গুলাগুলি থামলে ঘটনাস্থলে সাইফুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখান থেকে তাকে টেকনাফ সদর হাসপাতাল হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
    এতে ঘটনাস্থলে এসআই রাসেল আহমেদ, কনস্টেবল ইমাম হোসেন, মো. সোলেমান আহত হয়। এসময় পুলিশ ৫২ রাউন্ড গুলি করে ।
    তিনি আরো জানান, নিহত সাইফুলের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম ও টেকনাফ থানায় মাদকসহ ৭টি মামলা রয়েছে।
    এদিকে কয়েকদিন আগে কক্সবাজারের স্থানীয় একজন সাংবাদিক সাইফুলের সাথে তার ভিডিওকলের একটি রেকর্ড ফেইসবুক টাইমলাইনে আপলোড করে তাতে লিখেন ইয়াবা কিং সাইফুল নিজের অপকর্মের কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করতে চায় তাকে কি করা উচিত। এরপর থেকে সাইফুলের আত্মসমর্পনের খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন অনলাইন ও পত্রপত্রিকায় সাইফুল আত্মসমর্পন করছেন বলে সংবাদ ও প্রকাশিত হয়েছিল। তবে কক্সবাজার জেলা পুলিশ তা অস্বীকার করেন।
    এছাড়া সাইফুলকে নিয়ে সীমান্ত এলাকায় নানা ক্যারিশম্যাটিক গল্প চালু রয়েছে।
    যতটুকু জানা যায়, বিবিএ পাশ করে সাইফুল ২০০০ সালের পরে চট্টগ্রাম শহর হতে এসে টেকনাফ স্থল বন্দর কেন্দ্রিক সিএন্ডএফ ব্যবসা শুরু করেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল এসকে ইন্টারন্যাশনাল।
    তার পরিবার সেসময় চট্টগ্রামে বসবাস করলেও পরে তারা টেকনাফে পুরোনো ভিটেই ফিরে আসেন।
    করিৎকর্মা সাইফুল অল্পদিনে ব্যবসায় সফলতা অর্জন করেন। বিয়ে করেন টেকনাফের প্রভাবশালী পরিবারের মেয়ে বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহর বোনকে।
    কিন্তু পরবর্তীতে ইয়াবার অন্ধকার সাম্রাজ্যে নাম লিখান তিনি। অল্পদিনে বনে যান ইয়াবা সাম্রাজ্যের অধিপতি।
    এসময় সীমান্ত এলাকার রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, পুলিশ, সাংবাদিক, প্রশাসন, ব্যাংকার, ধর্মীয় নেতা সবাই তাকে সমীহ করে চলতে শুরু করেন। বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী অনুষ্ঠান ছাড়াও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও সাইফুলের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যেত। শুধু সীমান্ত এলাকায় নয় দেশের বহু উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সাথে তার দহরম মহরম সম্পর্কের কথা সীমান্ত এলাকায় প্রচার আছে। সেসময় থানায়ও নিয়মিত যাতায়াত করতেন তিনি।
    গতবছরের মে মাসে চল যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে শ্লোগানে দেশব্যাপী মাদকবিরুধী অভিযান শুরু হলে সাইফুল আত্মগোপনে চলে যান। সেই থেকে তাকে প্রকাশ্যে আর দেখা যায়নি তাকে। সর্বশেষ বছর দেড়েক আগে টেকনাফ পাইলট হাই স্কুল মাঠের একটি ক্রীড়ানুষ্ঠানে তাকে দেখা গিয়েছিল। একই অনুষ্ঠানে ইউএনও সহ বিভিন্ন পদস্থ কর্মকতা, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, ক্রীড়া সংগঠকরা উপস্থিত ছিলেন। এমন একটা সময় ছিল সাইফুলের সান্নিধ্য পেয়ে ধন্য হতেন অনেকে। এমনকি বেশ কয়েক বছর আগে কমিউনিটি পুলিশিং টেকনাফ উপজেলা কমিটিতে সাইফুল করিমকে কোষাধ্যক্ষ করে খসড়া কমিটি জেলা বরাবরে প্রেরন করেন টেকনাফের কমিউনিটি পুলিশিং নেতারা। পরে জেলা নেতারা অভিযোগ পেয়ে সেই কমিটি অনুমোদন দেননি।
    অবশেষে বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে ইয়াবা কিং সাইফুলের ক্যারিশম্যাটিক চ্যাপ্টারের সমাপ্তি ঘটলো।
    এর আগে গত মাসে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার দুই ভাইকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আটক করে কারাগারে প্রেরন করেন। এছাড়া তার ৫ভাইয়ের নাম মাদকের তালিকায় রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
    এদিকে শুক্রবার রাত ১০টায় টেকনাফ ডিগ্রী কলেজ মাঠে সাইফুল করিমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। সাইফুল করিমের পিতা ডা. হানিফ জানাযায় ইমামতি করেন। জানাযায় বিপুল মুসল্লীর উপস্থিতি ঘটেছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে সাইফুলের দুবাই প্রবাসী এক ভাই ছাড়া অন্য ভাইদের জানাযার নামাজে দেখা যায়নি।
    অপরদিকে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দিনগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভার গফুরের চিংড়ি প্রজেক্ট এলাকায় বিজিবি সদস্যদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে অপর এক মাদক কারবারী নিহত হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থল হতে ১লাখ ১০ হাজার ইয়াবা ও একটি কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মাদক পাচারকারীর পরিচয় জানাতে পারেনি বিজিবি। বিজিবি ২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্ণেল ফায়সার হাসান খান জানান, মিয়ানমার হতে ইয়াবার চালান প্রবেশের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ বিওপির একটি দল অভিযান চালায়। এসময় পাচারকারীরা বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষন করলে পাচারকারী নিহত হয়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ