• শিরোনাম

    * অভিযোগের পরও ব্যবস্থা নেয় না কউক * দেশে অর্থ প্রেরণে উৎসাহ হারাবে প্রবাসীরা.....সুব্রত ধর

    কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতি এক প্রবাসীর ক্ষোভ

    বার্তা পরিবেশক | ১১ মার্চ ২০১৯ | ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

    কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতি এক প্রবাসীর ক্ষোভ

    কক্সবাজারে প্রবাসীরা অর্থ প্রেরণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। প্রবাসে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে প্রেরণ করলে সেই অর্থের পাওয়া যাচ্ছে না নিশ্চয়তা। কোথাও বিনিয়োগ করলেই উল্টো পড়তে হচ্ছে রোষানলে। অনেকে কষ্টার্জিত অর্থে বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও অনুমোদনে পোহাতে হচ্ছে নানা ঝক্কি ঝামেলা। সেই ঝামেলা শেষ করতে না করতেই শিকার হতে হয় প্রতিবেশিদের হয়রাণির।
    সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে অভিযোগ দিলেও নেয়া হয়না কার্যকর পদক্ষেপ। প্রবাসীদের ভবন নির্মাণে অনুমোদিত নকশা অনুসরণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু দেশের মানুষের বেলায় যেন তার ব্যতিক্রম। এই অবস্থা চলতে থাকলে প্রবাসীরা দেশে অর্থ প্রেরণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। ক্ষোভের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুঠোফোনে এমন কথাই বললেন সুব্রত ধর। প্রতিবেশির নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগ কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়ার পরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এমন আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
    জানা যায়, নকশা বহির্ভূত ভবনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন অভিযোগ করেন কউক কার্যালয়ে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাঝে মাঝে কউক’র অভিযানে ভবনগুলোর অবৈধ অংশ কিছুটা ভেঙ্গে দেয়া হয়। নকশা বহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণকারীদের কাছ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হয়। এরপর আর এই বিষয়ে কোন খবর নেয়ার প্রয়োজন বোধ করে না কউক। ভবন নির্মাণকারীরা কিছুদিন নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখেন। অভিযানে শিথিলতা দেখা দিলেই পুনরায় দ্বিগুণ উৎসাহে শুরু করেন অবৈধ অংশে নির্মাণ কাজ।
    এই ধরনের একটি সমস্যায় পড়েছেন প্রফুল্ল ধর’র আমেরিকা প্রবাসী পুত্র সুব্রত ধর। আমেরিকা থেকে অর্থ পাঠিয়ে তিনি কক্সবাজার শহরের গোলদিঘির পূর্ব পাড় (বৈদ্যঘোনা) এলাকায় বিএস ১২০৫ নং খতিয়ানের ৩৬৯০ নং দাগ থেকে চলাচলের রাস্তা সহ দশমিক শূন্য ৬৬৭ একর জমি ক্রয় করেন। এরপর ক্রয়কৃত জমিতে প্রফুল্ল ভবন নামে একটি চারতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। সেবক পাল নামে অন্য এক ব্যক্তির জমি রয়েছে সুব্রত ধর’র ভবনের পাশে। বেশ কয়েকমাস আগে সেবক পাল তাঁর জমিতে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
    বিষয়টি জানার পর সুব্রত ধর পর্যাপ্ত জায়গা খালি রেখে ভবন নির্মাণ করতে সেবক পালকে অনুরোধ করেন। পর্যাপ্ত খালি জায়গা না রেখে ভবনটি নির্মিত হলে প্রফুল্ল ভবনে আলো, বাতাস প্রবেশ করবে না। সেবক পালও প্রতিশ্রুতি দেন সুব্রত ধর’র ভবনের যাতে কোন সমস্যা না হয় সেভাবেই তিনি ভবন নির্মাণ করবেন। বাস্তবে সেবক পাল সেই কথা রাখেননি। চারপাশে কোন জায়গা খালি না রেখেই কয়েকমাস ধরে ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে নির্মিতব্য ভবনের পশ্চিম অংশে পানি চলাচল করতে ড্রেনের জন্য রাখা হয়নি পর্যাপ্ত জায়গা।
    আমেরিকা থেকে মোবাইলে সুব্রত ধর জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি মুঠোফোনে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি আশ^াস দিয়েছিলেন বিষয়টি দেখবেন। এরপর থেকে আর কোন খবর নেয়া হয়নি। সুব্রত ধর বলেন, আমেরিকায় কষ্টে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠাই। এভাবে হয়রাণির শিকার হলে দেশে টাকা প্রেরণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবো। আমার মতো অন্য প্রবাসীরাও দেশে তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ প্রেরণ করবেন না।
    জানা যায়, সুব্রত ধরের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে যান কউক’র একটি প্রতিনিধি দল। কউক’র প্রকৌশলী ইমতিয়াজ গিয়ে নকশা বহির্ভুতভাবে ভবন নির্মাণের সত্যতাও খুঁজে পান। এরপর সেবক পালকে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ না করার আহবান জানান। সেবক পাল সেই নোটিশে কান না দিয়ে ইচ্ছেমতো চালিয়ে যাচ্ছেন নির্মাণ কাজ। নোটিশের অবমাননা করা হলেও পরবর্তীকালে কউক’র পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
    সরেজমিনে প্রফুল্ল ভবন সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রফুল্ল ভবনের সামনের এক অংশের দেয়াল ঘেষে ভবন নির্মাণ করছেন সেবক পাল। প্রায় শেষ পর্যায়ে চারতলা ভবনের প্রাথমিক কাজ । ওই অংশে ড্রেনের জন্য রাখা হয়নি পর্যাপ্ত জায়গা। নির্মাণাধীন ভবনের কারণে দিনের বেলায় প্রফুল্ল ভবনে আলো প্রবেশ করতে পারছে না।
    ইতঃপূর্বে সেবক পালের ভবনের পশ্চিম অংশে ড্রেনের জন্য জায়গা রাখা হয়েছিল। বর্তমানে সেই অংশেও চলছে নির্মাণ কাজ। ইতোমধ্যে খালি রাখা জায়গার ১ম তলায় আরসিসি ছাদ নির্মাণ করা হয়েছে। উপরের দিকেও ছাদ নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। ছাদটি নির্মিত হলে সেবক পালের ভবনের পানি চলাচলের কোন জায়গা থাকবে না। ভবন সংলগ্ন সড়কের উপর দিয়েই পুরো ভবনের পানি চলাচল করবে। যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন আমেরিকা প্রবাসী সুব্রত ধর।
    জানা গেছে, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)’র কাছ থেকে ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেন সেবক পাল। ইতঃপূর্বে কউক’র সভায় তাঁর জমিতে ৪ তলা ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন করা হয়। যে নকশায় ভবনের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়। নকশা অনুযায়ী প্রথম দিকে নির্মাণ কাজও শুরু করেন তিনি। কিন্তু মাঝপথে এসে তাঁর মানসিকতায় পরিবর্তন আসে। যে অংশটুকু ড্রেনের জন্য খালি রেখেছিলেন সেই অংশেই শুরু করেন নির্মাণ কাজ। প্রতিবেশিদের কথায় পাত্তা না দিয়েই জোরপূর্বক বর্তমানে নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন তিনি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ