• শিরোনাম

    আপীল বিভাগে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

    কুতুবদিয়ায় এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

    বার্তা পরিবেশক | ১৩ এপ্রিল ২০১৯ | ১:৪১ পূর্বাহ্ণ

    কুতুবদিয়ায় এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

    কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক স্বীকৃতি পেয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ক্ষেত্রে সকল আইনী বাধা অপসারিত হয়েছে। ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের মহামান্য আপীল বিভাগ কর্তৃক সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপীল নম্বর-৮৬৮/২০১৯ শুনানী শেষে প্রদত্ত আদেশের ফলে কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বলে রিটার্ণিং অফিসার কর্তৃক বিগত ৮ মার্চ ঘোষিত ফলাফল আইনগতভাবে বৈধ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।
    জানা যায়, কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য বিগত ২৬ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধূরী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জনৈক আজিজুল হক মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারী মনোনয়নপত্র বাছাইকালীন সময়ে অগ্রণী ব্যাংক লিঃ জালালাবাদ শাখা, চট্টগ্রামের ঋণ খেলাপী ও দাখিলকৃত ভোটারের স্বাক্ষর গরমিল হওয়ার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুল হক এর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। আজিজুল হক মনোনয়নপত্র বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপীল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রসাশক, কক্সবাজার বরাবরে আপীল দায়ের করেন। ৫ মার্চ উক্ত আপীল শুনানী শেষে একই অভিযোগে আপীল খারিজ করা হয়। ঋণ খেলাপীর ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদ (স্থানীয় সরকার) আইন-১৯৯৮ এর ৮(২) ঞ ধারার বিধান হচ্ছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখে কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্টান হতে গৃহীত কোন ঋণ খেলাপী অবস্থায় রাখা যাবেনা। চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুল হক ২৬ ফেব্রুয়ারী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ২৭ তারিখে বিআরডিবি কুতুবদিয়ায় সুদ আসলে ৮৯,৭১৯/= টাকা এবং ২৮শে ফেব্রুয়ারী মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর অগ্রণী ব্যাংক লিঃ, জালালাবাদ শাখায় ১,৮০,০০০/= টাকার খেলাপী ঋণ পরিশোধ করেন। কিন্তু আইনী বিধান মতে মনোনয়নপত্র জমার সময় ঋণ খেলাপী থাকার কারণে আপীল কর্তৃপক্ষ আজিজুল হক এর আপীল খারিজ করেন। তাছাড়া আজিজুল হক ঋণের বিষয়টি তার দাখিলকৃত আয়কর রিটার্ণ এবং হলফনামায় উল্লেখ না করে তথ্যগোপন করতঃ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা-২০১৩ এর ১৭(৩)ঙ বিধি লংঘন করেছেন।
    ২৮ ফেব্রুয়ারী বাছাইয়ের সময় চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুল হক এর মনোনয়নপত্র বাতিল হলে রিটার্ণিং অফিসার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা-২০১৩ এর ১৯ বিধি মোতাবেক বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন এবং এডভোকেট ফরিদুল ইসালাম চৌধুরী একমাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন। ২০ বিধি মোতাবেক মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য ধার্য্য ৭ মার্চ এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করাতে রিটার্ণিং অফিসার, ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার ৮ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা-২০১৩ এর ২৪(১) বিধি মোতাবেক এডভোকেট ফরিদুল ইসালাম চৌধুরী কে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
    উক্ত বিষয় গোপন করে চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুল হক নিজের প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার জন্য বিগত ১০ মার্চ মহামান্য হাইকোর্টে রীট পিটিশন নম্বর-২৮৮৯/২০১৯ দায়ের করেন এবং ১১ই মার্চ/২০১৯ শুনানী শেষে মহামান্য হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আজিজুল হক এর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশনা প্রদান করেন। মহামান্য হাইকোর্টের উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপীল নম্বর-৮৬৮/২০১৯ দায়ের করলে উক্ত মামলাটি ১১ এপ্রিল শুনানীর দিন ধার্য্য করা হয়। তাছাড়া উক্ত সি,পি, মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আজিজুল হককে প্রতীক বরাদ্দের আদেশ স্থগিত রাখার জন্য মহামান্য হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর পক্ষে বিগত ২০ মার্চ আবেদন করা হলে উক্ত আবেদনের উপর দীর্ঘ শুনানী শেষে ২১ মার্চ মহামান্য হাইকোর্টের অবকাশকালীন রীট বেঞ্চ ২৪ মার্চ কুতুুবদিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্টান এবং এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর নামে গেজেট প্রকাশের উপর সি, পি, মামলা নম্বর-৮৬৮/২০১৯ নিস্পত্তি কালতক নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করেন। ফলে ২৪ মার্চ কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।
    ১১ এপ্রিল সি, পি-৮৬৮/২০১৯ মামলাটি প্রধান বিচারপতিসহ ৬জন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত মহামান্য আপীল বিভাগে শুনানী শেষে আজিজুল হকের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও প্রতীক বরাদ্দের জন্য মহামান্য হাইকোর্টের ১১ মার্চ এর আদেশ স্থগিত ঘোষণা করে মামলাটি নিস্পত্তি করেন। মহামান্য আপীল বিভাগের উক্ত আদেশের ফলে আজিজুল হকের প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যায় এবং এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা বহাল থাকে এবং গেজেট প্রকাশের বাধা অপসারিত হয়েছে।
    আপীল বিভাগে এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র এডভোকেট এ, এম, আমিন উদ্দিন, এডভোকেট ছৈয়দ মামুন মাহমুদ, এডভোকেট মুহিব উল্লাহ তানবীর, এডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম এবং ব্যারিষ্টার আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। আজিজুল হকের পক্ষে মামলা শুনানী করেন সিনিয়র এডভোকেট ও সাবেক এটর্ণি জেনারেল এ, এফ, এম, হাছান আরিফ ও এডভোকেট শেখ মোঃ মোরশেদ।
    এব্যাপারে সুপ্রীম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমদের মতামত জানতে চাইলে তিনি জানান, যেহেতু আজিজুল হক রীট দায়ের করার পূর্বেই ৮ মার্চ তারিখে ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং আপীল বিভাগ কর্তৃক মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করা হয়েছে, সেহেতু নির্বাচনি আইন মোতাবেক নির্বাচন কমিশন ২৪(৩) বিধি মোতাবেক গেজেট করতে বাধ্য। এক্ষেত্রে আজিজুল হকের দায়েরকৃত রীট কোন বাধা হতে পারে না। আজিজুল ইচ্ছা করলে নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেন। আরেক সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিষ্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও একই মতামত ব্যক্ত করেন। নির্বাচন কমিশন কোন পথে অগ্রসর হয় তাই এখন দেখার বিষয় এবং তাতেই শেষ হবে কুতুবদিয়াবাসীদের অপেক্ষার পালা।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ