• শিরোনাম

    *পুলিশ-আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত-২০ * সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হবে-ডিসি *আন্দোলনকারীদের প্রতি ইউএনও’র ফেসবুক স্ট্যাটাস

    কোটবাজারে চাকরি বঞ্চিতদের সড়ক অবরোধ

    নিজস্ব প্রতিবেদক/নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া | ০৫ মার্চ ২০১৯ | ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

    কোটবাজারে চাকরি বঞ্চিতদের সড়ক অবরোধ

    মাথায় কাফনের কাপড় পরে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কোটবাজার চৌরাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন চাকরিবঞ্চিত শত শত যুবক। এ সময় তাদের সমর্থনে উখিয়ার হাজার হাজার মানুষও এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অবস্থান ও প্রতিরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আশ^াসের ভিত্তিতে ১ সপ্তাহের জন্য কর্মসূচী স্থগিত করেছে আন্দোলনকারীরা। তবে কর্মসূচীর এক পর্যায়ের কিছু উত্তেজিত আন্দোলনকারী সদস্য আইনশৃংখলার কাজে নিয়োজিত পুলিশের উপর হামলা চালালে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা হামলা চালায়, এসময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুলিশ সদস্য সহ ২০জন আহত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এনজিওকর্মীদের কাজে বাধা ও পুলিশের উপর হামলাকারিদের ‘বাই-নেম’ আসামি করে মামলা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
    জানা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থানীয়দের চাকরিতে অগ্রাধিকারের দাবি এনজিওগুলো তোয়াক্কা না করায় ‘অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়ার’ উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অবস্থান ও প্রতিরোধ কর্মসূচি পালন করেন। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কোটবাজার চৌরাস্তায় মাথায় কাফনের কাপড় পরে অবস্থান নেন চাকরিবঞ্চিত শত শত বেকার যুবক। এ সময় তাদের সমর্থনে উখিয়ার হাজার হাজার মানুষও রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচি পালনকালে রাস্তার ধারে হাজার হাজার যানবাহন আটকাপড়ে ৩ ঘন্টা যাবৎ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন অনেকে পায়ে হেটে কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছে দুরপাল্লার যাত্রীরা।
    এদিকে হঠাৎ বিনা উস্কানিতে পুলিশ ও জনতার মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় আন্দোলনকারীরা একটি এনজিও সংস্থার ব্যবহৃত এ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশ ভ্যানে ভাংচুর চালায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। তখন পুলিশের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাল্টা লাঠিচার্জ করলে পুলিশ সদস্যসহ ২০জন আহত হয়েছে বলে জানা গেলেও তাৎক্ষণিক কারো পাওয়া নাম ঠিকানা জানা যায়নি।
    পরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহিয়ান ও উখিয়ার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফখরুল ইসলামের আশ্বাসের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেন অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি। অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়ার নেতৃবৃন্দ বলেন, এক মাস আগে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন ও নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওদের স্থানীয়দের চাকরিতে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলেন। ওই সমন্বয়সভায় এ নিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে সময় বেঁধে দিলেও ওই এনজিওগুলো বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছে। তারা গুরুত্বারোপ না করে ঢালাওভাবে স্থানীয় ছেলেমেয়েদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করতে থাকে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে নিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়। আগামীতে আন্দোলন আরও তীব্র হলে এর সব দায়ভার এনজিওগুলোকে নিতে হবে বলে নেতারা কঠোর হুশিয়ারি দেন। এসময় অবস্থান কর্মসূচি পালনকারীদের উদ্দেশে উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফখরুল ইসলাম বলেন, আপনাদের আন্দোলন ও দাবির যৌক্তিকতা রয়েছে। আপনাদের সব দাবি মেনে নেয়া হবে। ইতিমধ্যে আপনাদের বার্তা জেলা প্রশাসক ও ইউএনওর মাধ্যমে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তিনি অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের অনুরোধ জানান আন্দোলনকারীদের। প্রশাসনের আশ্বাসে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। দাবি আদায়ে আরও এক সপ্তাহ সময় দেয়া হচ্ছে এনজিওগুলোকে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসতে পারে বলে জানান বক্তারা। আন্দোলনকারীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ইমরুল কায়েস চৌধুরী।
    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে মন্ত্রীপরিষদ সচিব শফিউল আলমের বড় ভাই, আওয়ামীলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধ নুুরুল আলম নুরুকে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে গেলে। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী তার ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেন, আপনাদের সকল যৌক্তিক দাবীর সাথে উপজেলা প্রশাসন সবসময় একমত। উপজেলা প্রশাসন সর্বদা জনস্বার্থে আপনাদের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আমরা আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। এনজিও চাকুরীসহ স্থানীয় জনসাধারনকে সহায়তার জন্য আমরা সর্বোচ্চ সচেষ্ট আছি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হচ্ছে।
    কিন্তু আপনাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। মাননীয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্যারের বড়ভাইকে নিয়ে একটি ছবি আপনার শেয়ার করেছেন। আমি উনার সাথে কথা বলেছি।তিনি ব্যক্তিগত কাজে কোর্টবাজার ছিলেন।কোন পুলিশ সদস্য তাকে আঘাত করেনি বা করতে চায়নি। তিনি মূলত পুলিশ সদস্যকে বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সহায়তা করেছেন। কিন্তু এই ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে,যা কাম্য নহে।
    আপনাদের নিকট থেকে প্রাপ্ত সিভি জেলা প্রশাসক স্যার বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। সেখানে একটি ডাটাবেইজ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সকলকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুটি এনজিওর পরীক্ষা উপজেলা প্রশাসনের তত্তাবধানে উখিয়ায় হয়েছে। উখিয়ার চাকুরী প্রত্যাশীদের এতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন আপনাদের প্রতি সম্পুর্ন আন্তরিক। আপনাদের কাছ থেকেও দ্বায়িত্বশীল আচরন প্রত্যাশা করছি।
    অপরদিকে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবির অভিমুখী এনজিও কর্মীদের বাধা ও পুলিশের উপর হামলাকারিদের কোন ভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের ‘বাই-নেম’ আসামি করে মামলা করা হবে। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন এই তথ্য দিয়ে বলেছেন, যারা সরকারের লোকদের উপর হামলা চালাতে পারে তাদের ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তাই আমরা এটিকে ছোট করে দেখছি না। তিনি এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন বলেও জানান।
    তিনি সোমবার (৪ মার্চ) বিকালে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের কক্সবাজারে একবছর পূর্তিতে আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
    তিনি এক প্রশ্নের জবাবে জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওতে স্থানীয়দের চাকুরির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় শিক্ষিত যুবকদের এক হাজার সিভি জমা পড়েছে। এগুলোর মধ্য থেকে ১০০টি সিভি এনজিওরা একসেপ্ট করেছে। তিনি বলেন, যোগ্য ও অভিজ্ঞ লোক না হলে তো বললেই নিয়োগ দেয়ার সুযোগ নেই।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ