• শিরোনাম

    ছোলা,মুড়ি,লেবুর সরবত প্রধান ইফতার সামগ্রী

    ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের ইফতার

    শফিক আজাদ,উখিয়া | ১৩ মে ২০১৯ | ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

    ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের ইফতার

    পার্শ^বর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা ধর্মীয় কাজে বেশি ভাগ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। বিশেষ করে সিয়াম-সাধনার মাস হিসেবে রমযানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়। তারই ধারাবাহিকতায় ক্যাম্পে আশ্রিত স্বজনহারা এই মানুষ গুলো বিভিন্ন ব্যথা, বেদনা ভূলে গিয়ে ইফতারের সময় ব্যস্ত হয়ে পড়েন ইফতার সামগ্রী নিয়ে। কেউ নিজ ঘরে তৈরীকৃত ইফতার সামগ্রী দিয়ে ইফতার সম্পন্ন করে থাকলেও বেশির ভাগ রোহিঙ্গা দোকান থেকে ইফতার সামগ্রী কিনে নিয়ে ইফতার করতে দেখা গেছে। রোহিঙ্গাদের ইফতারের প্রধান সামগ্রী হচ্ছে ছোলা আর মুড়ি। উখিয়ার বালুখালী ময়নাঘোনা ক্যাম্প নং ১১ এর বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম(৪০) বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত মিয়ানমারে আরাম আয়েশে ছিলাম। সেখানে পবিত্র রমজান মাসে আমরা ছোলা, লেবুর শরবত ও সেমাই দিয়ে ইফতার করতাম। ২৫ আগস্ট থেকে মুসলিম অধ্যুষিত মংডু রাখাইন রাজ্যে সেদেশের সেনাবাহিনীর তান্ডবে মুসলিম নারী ও মেয়েদের ধর্ষণ পুরুষদের গুলি করে ও জবাই করে হত্যা, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়াসহ নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে আমরা রোহিঙ্গা মুসলিমরা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছি। এখানে গত রমজানে আমাদের অনেক রোহিঙ্গা ভাইদের শুধুমাত্র পানি দিয়ে ইফতার করতে হয়েছিল। এখন সেই অভাব রোহিঙ্গাদের মাঝে নেই। রোহিঙ্গারা তাদের ক্যাম্পের অভ্যন্তরে দোকান দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ই-ভাউচার প্রোগ্রামের মাধ্যমে সকল রোহিঙ্গাদের রমজানের ইফতার সামগ্রী ছোলা, তেল, ডাল, সেমাই, পেয়াজ-রসুন চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী দিয়ে তাদেরকে সাহায্য করছেন। এ ধরনের সাহায্য সহযোগীতার ফলে রোহিঙ্গারা ভাল ভাবে ইফতার ইফতার করছে পাচ্ছেন। তবে বিশেষ করে এই রমজানের ইফতার প্রধান ইফতার সামগ্রী হিসেবে রয়েছে ছোলা আর মুড়ি আর পাশাপাশি লেবুর সরবত।
    নাচ্ছিডং এলাকার ইয়াছমিনারা (২১) মিজ্জিরিপাড়ার জুলেখা( ২৫ ) সানজিদা বেগম (২৯) ও মায়েশা (২২) জানান, বর্মি বাহিনীর হাতে তারা প্রত্যেকে তাদের মাকে হারিয়েছেন। মিয়ানমার সেনারা তাদের মাকে মির্মমভাবে হত্যা করেছে। প্রতিবছর রমজানের রোজা আসলে ইফতারের সময়ে মাকে বিষন মনে পড়ে। আমরা এমন এক অভাগা জাতি যে মাতৃভূমি ছেড়ে মা-বাবা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে হারিয়ে বুকে পাথর বেঁধে দিনাতিপাত করছি। এরপরও এখানে আমরা ভালো আছি। মিয়ানমারের জালিম সরকারের অত্যাচার থেকে বাঁচতে এদেশে পাড়ি জমিয়েছি। মিয়ানমারে সুন্দর ভাবে কখনো রোজা, সেহরি, ইফতার করতে পারতাম না, এখানে অন্তত সুন্দর করে রোজা গুলো রাখতে পারতেছি, পাশাপাশি সেহরি এবং ইফতার কোন সমস্যা নেই। তবে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেকে শুধুমাত্র ছোলা আর মুড়ি দিয়ে ইফতার করছেন ক্যাম্পে।
    কুতুপালং ক্যাম্প বাজারে ইফতারি কিনতে আসা রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ নুর (২৮) বলেন, এখানে মিয়ানমারের বিভিন্ন পণ্য দিয়ে পাঁচ মিশালি শরবত পাওয়া যায়। আমরা ক্যাম্পে মা-বোনদের সাথে ইফতার করি। মাঝে মধ্যে দোকানে বন্ধুদের সাথে নিয়ে ইফতার করি। এখানে আমরা অনেক ভাল আছি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয়রা যেমন বিভিন্ন দোকান থেকে তাদের পছন্দের পণ্য সামগ্রী ক্রয় করে থাকে ঠিক তেমনিভাবে রোহিঙ্গারাও ক্যাম্পের অভ্যন্তরে বিভিন্ন দোকান থেকে তাদের দেশীয় পণ্য সামগ্রীসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য ক্রয়-বিক্রয় করছেন। রোহিঙ্গাদের তৈরি ইফতারের মজাদার খাবার নিয়ে হাজির হয়েছে। প্রতিদিন দুপুর ২ টা থেকে ইফতারের সময় পর্যন্ত রোজাদারদের সেবায় ব্যবসায়ীরা এই আয়োজন করেছে। এখানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক সাথে ইফতার করছেন রোহিঙ্গারা। ক্যাম্পে তাদের মাঝে রয়েছে এক অনাবিল আনন্দ ও বিশ্বাস। রোজাদারদের কাছে ইফতারের আগ মুহুর্তে আরও একটু আনন্দময় করতে এক সাথে ইফতারের জুড়ি নেই। পাশাপাশি তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া নানা স্মৃতি মনকে কাঁদায়। এরপরও জীবন সংগ্রাম থেমে নেই রোহিঙ্গাদের। ভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করলেও তাদের মাঝে ইফতারের সময় দেখাযায় অন্যরকম অনুভূতি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ