• শিরোনাম

    কক্সবাজারে ভুমিকম্প প্রস্তুতির মতবিনিময় সভায় সিনিয়র সচিব শাহ কামাল

    ঘরে ঘরে ভূমিকম্পের প্রস্তুতি জরুরি

    নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া | ১০ জুন ২০১৯ | ১:০০ পূর্বাহ্ণ

    ঘরে ঘরে ভূমিকম্পের প্রস্তুতি জরুরি

    এ মূহুর্তে একটি বড় ধরণের ভূমিকম্প আঘাত হানলে আমাদের নিশ্চিত মরণ ছাড়া তেমন কোন গত্যন্তর নেই। কেননা ভুমিকম্পের ম্যাচাকার থেকে রেহাই পাবার মত পর্যাপ্ত এমন প্রস্তুতিমূলক আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ ব্যবস্থাও আমাদের নেই। যাই আছে জনসংখ্যার তুলনায় তাও অপ্রতুল। তবে এজন্য সর্বাগ্রে যা প্রয়োজন তা হচ্ছে-জনগণকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রাণে বাঁচার উপায় বের করে রাখা। অর্থাৎ ভুমিকম্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অধিকতর সচেতনতা সৃষ্টি করাই এ সময়ে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজ।
    এসব কথা তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ শাহ কামাল বলেছেন, ভুমিকম্পে উদ্ধারকাজে ব্যবহারের জন্য ইতিমধ্যে ২২০ কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে। যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, দুর্যোগকালীন সময়ে ব্যবহারের জন্য। তবে এসব যন্ত্রপাতি অপ্রতুল হলেও সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ রয়েছে। তিনি বলেন সরকার আরো নতুন নতুন আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করবে জনগনের জানমাল রক্ষার জন্য।
    গতকাল রবিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজিত ভুমিকম্প প্রস্তুতি বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় সিনিয়র সচিব মোঃ শাহ কামাল এসব বলেন। সিনিয়র সচিব আরো বলেন, ১৯৯৭ সালের ১২ জুন সবচেয়ে বড় একটি ভুমিকম্প আঘাত হেনে ম্যাচাকার করে দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতি ১০০ বছর পর পর প্রাকৃতিক এমন দুর্যোগগুলো সাধারণত আঘাত হেনে থাকে। ইতিমধ্যে ভয়াল ভুমিকম্পের পর ১২২ বছর অতিবাহিত হয়েছ্।ে এ কারণেই আমাদের আশংকা হচ্ছে একটি বড় ধরণের দুর্যোগের মুখে আমরা দাঁড়িয়ে রয়েছি। আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। এমন প্রস্তুতি থাকতে হবে একদম ঘরে ঘরে পর্যন্ত।
    জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সিএসপি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্টিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের সচিব, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক মোঃ আবুল কাসেম এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোঃ খলিলুর রহমান।
    সরকারের সচিব, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক এবং কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের গর্বিত সন্তান মোঃ আবুল কাসেম বলেছেন, ভুমিকম্পের জন্য আমাদের প্রস্তুতি বলতে তেমন কিছুই নেই। কক্সবাজারের কথাই যদি ধরা হয় তবে বলতে হবে এখানকার কোন পাকা ভবনেই ভুমিকম্পের প্রতিরোধের কথা বিবেচনায় রেখে ভবন তৈরি করা হয়নি। সচিব মোঃ আবুল কাসেম বলেন, এ মুহুর্তে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথাই সবচেয়ে বেশী মাথায় আনতে হবে।
    তিনি বলেন, স্কুলের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা দিতে হবে ভুমিকম্প আঘাত হানা মাত্রই সর্বাগ্রে পাকা ঘরের বারন্দার দিকে গিয়ে পিলারের সাথে বিমের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। যাতে করে বিম এবং পিলারের আড়ালে প্রাণ রক্ষা করা যায়। সেই সাথে ঘরটি বিধ্বস্থ হলে যাতে উদ্ধারকারিরা ঘরের বারান্দায় শিশুটিকে উদ্ধার করতে সহজতর হয়।
    সভায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, দেশে ভুমিকম্পের ফল্ট রয়েছে তিনটি। যা সিলেট, টাঙ্গাইল ও রাজশাহীতে। এ তিনটি ছাড়াও কক্সবাজার ভুমিকম্পের জন্য রয়েছে সবেচেয়ে বেশী ঝুঁকিতে। কেননা মিয়ানমারে যে ফল্টটি রয়েছে সেটি কক্সবাজারের সবচেয়ে কাছ্ েএকারনেই সাগর পাড়ের শহর কক্সবাজার অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মাসুদুর রহমান মোল্লার পরিচালনায় অনুষ্টিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান, জাসদ নেতা নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল, জ্যেষ্ট সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নাসির উদ্দিন, এনজিও পালসের নির্বাহী পরিচালক আবু মোরশেদ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার কানন পাল প্রমুখ বক্তৃতা করেন। ####

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ