• শিরোনাম

    পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরে যেতে মাইকিং

    চকরিয়ায় পাহাড়ি ঢলে ৩০ গ্রাম প্লাবিত

    মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া: | ০৮ জুলাই ২০১৯ | ১০:৫৭ অপরাহ্ণ

    চকরিয়ায় পাহাড়ি ঢলে ৩০ গ্রাম প্লাবিত

    চকরিয়ায় টানা ৩ দিনের ভারী বৃষ্টির কারণে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নিমাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পাহাড়ি ঢলে পানির প্রবাহ বেড়েছে মাতামুহুরী নদীতে। সোমবার দুপুর দুইটার দিকে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ২৬ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। শনিবার থেকে শুরু হওয়া তিনদিনের ভারী বর্ষণে উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বড় ধরণের বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এছাড়া উপজেলার বনবিভাগের পাহাড় দখল করে গড়ে তোলা অন্তত ৩০হাজার ঘরের মধ্যে ১০হাজার বসতঘর ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে।
    সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সুরাজপুর মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বরইতলী, হারবাং, কৈয়ারবিল, পৌরসভা, ফাঁসিয়াখালী, চিরিঙ্গা, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, কোনাখালী, ডেমুশিয়া, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, সাহারবিল ইউনিয়নের বেশকিছু নিচু গ্রামে একদিকে জলাবদ্ধতা অন্যদিকে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। সোমবার বিকালে জিদ্দাবাজার-মানিকপুর সড়কে এসএমচর এলাকার একটি অংশের উপর দিয়ে ঢলের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছিল। পানি যতই বাড়ছিল পাড়াগাঁয়ের রাস্তাগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছিল।
    চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, আমি সকাল থেকে প্লাবিত ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গড়ে তোলা পাহাড়ি এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন অব্যাহত রেখেছি। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতি বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে।
    সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, ভারী বর্ষণের কারনে মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমেছে। পানির প্রবল স্্েরাতে আমার ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা তলিয়ে গেছে। এতে সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের চারভাগের তিনভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে স্থানীয় লোকজন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
    কাকারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শওকত ওসমান বলেন, পাহাড়ি ঢল নামায় সোমবার বিকাল পর্যন্ত ইউনিয়নের ৭টি গ্রামে পানি উঠেছে। মাঝেরফাঁড়ি এলাকায় নির্মিত বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
    চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন বলেন, ভারী বর্ষণের ফলে আমার ইউনিয়নের বেশিরভাগ নীচু এলাকা হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে উপজেলার চিংড়িজোনের শতশত মৎস্য প্রকল্প পানিতে তলিয়ে যাবে। এতে ঘের মালিক ও চাষীদের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
    চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টিপাতে মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢল নামার কারনে পৌরসভার একাধিক স্থানে বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি লোকালয়ে ঢুকে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের অন্তত ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি একাধিক মহল্লায় বুষ্টির পানি নদীর পানিতে বাধা পেয়ে বের হতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
    চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুদ্দীন মোহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ভারী বর্ষনের কারণে উপজেলার বেশিরভাগ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। যেসব এলাকা বন্যা প্লাবিত হয়েছে সেসব এলাকার লোকজনকে শুকনো খাবার সরবরাহ ও নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ