• শিরোনাম

    চকরিয়া ও টেকনাফে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬ : আহত ১৯

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ জুন ২০১৯ | ১:৪১ পূর্বাহ্ণ

    চকরিয়া ও টেকনাফে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬ : আহত ১৯

    চকরিয়া ও টেকনাফে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছে। এরমধ্যে আজ শুক্রবার দুপুরে ১২ টায় কক্সবাজার-চট্রগ্রাম মহাসড়কের খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া ঢালায় বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নারী সহ ২ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছে। অপরদিকে দুপুর ২টায় মেরিনড্রাইভ সড়কের টেকনাফ বাহারছড়ার নোয়াখালীয়াপাড়া এলাকায় পিকআপ গাড়ী খাদে পড়ে ৩ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে।
    টেকনাফ অফিস থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান
    টেকনাফে ঈদ উল্লাস করতে গিয়ে রোহিঙ্গা বোঝাই পিকআপ ভ্যান দূঘর্টনায় ঘটনাস্থলে ৩জন নিহত ও ১১জন আহত হয়েছে। পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিস দল দূঘর্টনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। শুক্রবার দুপুর ২ টারদিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের কচ্ছপিয়া এলাকায় একটি ছাগলকে রক্ষা করতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে এ দূর্ঘটনা সংঘটিত হয়। হতাহতরা সবাই উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা। দূর্ঘটনায় নিহতরা হচ্ছে বালুখালী ক্যাম্পের মো. ইদ্রিস(২৫), মো. জোবায়ের(৩৫) ও নুর মোহাম্মদ(৩২)। বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, একদল রোহিঙ্গা ঈদ ভ্রমণ উপলক্ষ্যে পিকআপ ভ্যান (চট্টমেট্টো-ন-১১-৭০৩৭) করে একদল রোহিঙ্গা গান-বাজনা ও নেচে-গেয়ে উল্লাস করে ভ্রমণকালে মেরিন ড্রাইভের কচ্চপিয়া এলাকায় পৌঁছলে সড়কে থাকা ১টি ছাগলকে রক্ষা করতে গিয়েই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক হতে ১৫ফুট নীচে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গাড়িতে থাকা ৩জন নিহত ও ১১জন গুরুতর আহত হয়। গাড়ীটি থাকা অন্যরা সামান্য আহত হয়। পিকআপ ভ্যানটিতে মোট ১১জন যাত্রী ছিল বলে জানা গেছে।
    দূঘর্টনার খবর পেয়ে বাহারছড়া বিশেষ চেকপোস্টে দায়িত্বরত বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, টেকনাফ ও বাহারছড়া পুলিশের পৃথক দল ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
    টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে হতাহতদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। সেখান থেকে নিহতদের পোস্ট মর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা সেবা প্রদান কার্য্যক্রম চলছে। আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।
    আহত রোহিঙ্গা আব্দুল্লাহ জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে আনন্দ করতে এই পিকআপ ভ্যান নিয়ে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ ঘুরে কক্সবাজার হয়ে ক্যাম্পে ফেরার কথা ছিল তাদের।
    এদিকে এই দূঘর্টনার পর পুরো ক্যাম্প জুড়ে ঈদ উল্লাসের পরিবর্তে স্বজন হারানোর শোক দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
    নিজস্ব প্রতিবেদক চকরিয়া থেকে জানান
    কক্সবাজারের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারিয়েছেন একটি বাসের দুই যাত্রী। আহত হয়েছেন আরো ৫জন যাত্রী। তাদেরকে মুমূর্ষ অবস্থায় মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনায় পতিত বাস দুটি জব্দ করেছে।
    শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের মেদাকচ্ছপিয়া পাহাড়ি ঢালায় যাত্রীবাহী ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে হতাহতের ঘটনাটি ঘটে।
    নিহতরা হলেন কক্সবাজারমুখি মাইক্রোবাসের যাত্রী রওশন আরা বেগম (৪৫)। তিনি চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের উত্তর ফুলছড়ি গ্রামের খলিলুর রহমানের স্ত্রী। নিহত অপর ব্যক্তির নাম সনেট পাল (২৭)। তিনি কক্সবাজারের রামু উপজেলার চা-বাগানস্থ রমনী পাহাড়ের দীপক পালের পুত্র।
    আহতরা হলেন খুটাখালী নাপিতের ঘোনার আবদু ছালামের পুত্র মো. শাহ আলম (২৫), দক্ষিণ মেদাকচ্ছপিয়ার মৃত আবদু শুক্কুরের পুত্র মো. ইমরান (১৯), রামুর চা-বাগানের রমনী পাহাড়ের তপন ধরের ছেলে রাসেল ধর (২৫), চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের গাবতলী বাজারের রশিদ আহমদের পুত্র নাজিম উদ্দিন (৩০) ও সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শিয়াপাড়ার আতাউর রহমানের পুত্র মো. আরমান (২৪)।
    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চট্টগ্রামমুখি ইউনিক পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার খুটাখালী মেদাকচ্ছপিয়া পাহাড়ি ঢালায় পৌঁঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা কক্সবাজারমুখি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে দুইজন নিহত ও পাঁচ যাত্রী আহত হয়। হতাহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিল বলে মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে।
    মহাসড়কের মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. আলমগীর হোসেন জানান, যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। আহতদের প্রেরণ করা হয় মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে। পরে ক্রেন দিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত গাড়ি দুটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা রুজু করা হচ্ছে।
    এদিকে একই সড়কের ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পাগলিরবিল এলাকায় মিনি ট্রাকের ধাক্কায় ঈদের দিন সকাল সাড়ে এগারটার দিকে নিহত হয়েছেন ইজিবাইক টমটম যাত্রী মো. হোসেন (৭০)। তিনি ওই এলাকার মৃত আবুল হোসেনের পুত্র। এ সময় আহত হয় টমটম চালক এবং আরো দুই যাত্রী। ##

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ