• শিরোনাম

    আজ ঘোষণা করা হতে পারে চকরিয়া উপজেলার প্রার্থীর নাম

    চলতি সপ্তাহেই আ’লীগ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা

    শহীদুল্লাহ্ কায়সার | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ১:৫০ পূর্বাহ্ণ

    চলতি সপ্তাহেই আ’লীগ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা

    আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই ডজনের নেতা এখন রাজধানী ঢাকায়। তাঁদের সঙ্গে শতাধিক অনুগামীও রয়েছেন। তবে, কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন তা এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না তাঁরা। এই অবস্থার মধ্যেই আজ ১০ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হতে পারে চকরিয়া উপজেলার প্রার্থীর নাম। ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অন্য ৭ উপজেলার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। ঢাকা থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, আগামিকাল ১১ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুই দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জার্মানি যাচ্ছেন। তিনি জার্মানি যাওয়ার প্রাক্কালে কক্সবাজার জেলার ৮ উপজেলার দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে চাইছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড। সেটি সম্ভব না হলে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরপরই ঘোষণা করার হবে জেলার অন্য ৭ উপজেলার প্রার্থীদের নাম। এর অংশ হিসেবে গতকাল ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় চকরিয়া উপজেলার প্রার্থী নির্ধারণে আলোচনা করা হয়। যার ভিত্তিতে আজ উপজেলাটিতে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে।
    এদিকে, প্রার্থী নির্বাচনের জন্য কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি তালিকা কেন্দ্রে হস্তান্তর করা হয়েছে। যা অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে করা হয়। কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া তালিকাটির ব্যাপারে কারো মধ্যে স্পষ্ট ধারণা নেই। গতকাল কক্সবাজার জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বলে এই প্রতিবেদককে জানান। ফলে, জেলা আওয়ামী লীগ প্রেরিত তালিকায় কাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা জানা সম্ভব হয়নি।
    এদিকে, ইয়াবা পাচারের অভিযোগে সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় তালিকাভূক্ত হওয়াদের প্রার্থী না করতে প্রধানমন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর। ওই পত্রে তিনি টেকনাফ উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জাফর আহমদকে ইয়াবা পাচারকারী আখ্যায়িত করে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন। যা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন নুরুল বশর।
    কারা মনোনয়ন পাচ্ছেনা তা জানা গেলেও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অত্যন্ত আশাবাদী। বর্তমান সরকারের সময়েই দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারলে বিজয়ী হতে বেগ পেতে হবে না। ফলে আপাততঃ দলীয় মনোনয়নের দিকেই তাঁদের মনযোগ।
    কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইউনুছ বাঙ্গালি বলেন, মনোনয়নের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্সের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত হলে অবশ্যই মনোনয়ন পাবো। আল্লাহ্ যদি নির্বাচিত করে তাহলে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স ঘোষণা বাস্তবায়নে আত্মনিয়োগ করবো।
    কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুল করিম মাদু বলেন, স্কুল জীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছি। দীর্ঘ তেত্রিশ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনো চাঁদাবাজি করিনি। কারো জমি দখল করিনি। ইতঃপূর্বে সংসদ-সদস্য প্রার্থী ছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের সাংগঠনিক নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সংগঠন মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা চায় আমি দলীয় মনোনয়ন নিয়ে উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। মনোনয়নের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। সংগঠন মনোনয়ন দিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো; অন্যথায় দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবো।
    পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নে কখনো আপোষ করিনি। রাজনীতির কারণে দীর্ঘসময় কারাগারের সেলে কাটাতে হয়েছে। আমিসহ আমার ভাই, এমনকি আমার মা-বাবাও নির্যাতিত হয়েছেন। কিন্তু কখনো মাঠ ছেড়ে যায়নি। মাননীয় নেত্রী আমাদের সেই যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারেন। পেকুয়া উপজেলার সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা আমার সঙ্গে রয়েছেন। আশাকরি তিনি আমাকে মনোনয়ন দেবেন। মনোনয়ন পেলে বিজয় নিশ্চিত করবো ইন্শাআল্লাহ্।
    টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর বলেন, যদি তৃণমূলের মতামত এবং আদর্শিক কর্মীদের স্থান দেয়া হয়। তবেই মনোনয়ন পাবো। কালোবাজারি আর ইয়াবা পাচারকারীদের মনোনয়ন দেয়া হলে আমাদের ভবিষ্যত অন্ধকার। শুধু টেকনাফ নয়; সারাদেশের ভবিষ্যত প্রজন্মকে মাদকের কালো থাবা থেকে আমাদের মুক্ত করতে হবে। একদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান; অন্যদিকে মাদক পাচারকারীদের মনোনয়ন দেয়া হলে অভিযানের সদিচ্ছা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ