• শিরোনাম

    খড়ের দামে জমির লাগিয়ত !

    জেলায় আমন চাষে অনাগ্রহী কৃষককূল

    এম.আর মাহবুব | ১৬ জুন ২০১৯ | ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

    জেলায় আমন চাষে অনাগ্রহী কৃষককূল

    আসন্ন আমন মৌসুমে কক্সবাজারের কৃষককূল আমন চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। উৎপাদন খরচের চাইতে বাজারে উৎপাদিত ধানের মূল্য কম হওয়ায় লোকসানের ভয়ে কৃষকরা আমন চাষে মাঠে নামতে চাচ্ছেনা। ফলে কক্সবাজারে চলতি আমন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা করছেন সচেতন মহল। পাশাপাশি ভর আষাঢ় শুরু হলেও কৃষকরা আমন চাষে ঝুঁকি না নেয়ায় এ বছর কক্সবাজার জেলায় শত শত একর জমি অনাবাদি থেকে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এতে করে আমন চাষ বিমূখ নি¤œ আয়ের হতদরিদ্র কৃষকদের মাঝে নিত্য দিনের সাংসারিক হিসেব-নিকেষের মারপ্যাচে ভয় ও আতংক দানা বেঁধে উঠেছে।
    প্রাপ্ত তথ্য ও ভূক্তভোগী কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়-প্রতি বছর আষাঢ়ের শুরুতেই উৎসব মুখর পরিবেশেই কৃষকরা আমন চাষের বীজতলা তৈরীতে নেমে পড়ে। কিন্তু এবার আষাঢ় মাস শুরু হয়ে গেলেও আমনের বীজতলা তৈরীতে আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কৃষকরা। ফলে আমন চাষের উপযুক্ত সময় বর্ষার মধ্যবর্তী জৈষ্ঠ্য মাসের শুরুতে আমন চাষ উৎসব অতীতের যে কোন সময়ের চাইতে কম হতে পারে বলে জানান ঝিলংজার মুহুরীপাড়ার বিশিষ্ট কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক।
    সূত্র জানায়-বর্তমানে এক আড়ি ধান ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০ শতক আয়তনের এক কানি জমিতে সর্বোচ্চ ধান উৎপাদন হবে ৭০ থেকে ৭৫ আড়ি। যার বাজার মূল্য কোন ক্রমেই বারো- তেরো হাজারের অধিক নয়। অথচ এক কানি ধান ঘরে তুলতে একজন কৃষকের উৎপাদন খরচ পড়বে ন্যুনতম সতের থেকে আটারো হাজার টাকা। এতে এক কানি জমিতে কৃষকের লোকসান হয় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। লেবার,বীজতলা ও জমি তৈরী, ট্রাক্টর, সার, কীটনাশক প্রয়োগ, আগাচা নিড়ানি দেয়া, ধান কাটা-মাড়াইয়ে কৃষকের এসব টাকা খরচ হচ্ছে।
    চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মৌলভী কাটা গ্রামের গ্রামের কৃষক শামসুল আলম জানান-প্রতি বাংলা নববর্ষ শুরুর আগেই জমি লাগিয়ত চাহিদা অনুপাতে সম্পন্ন হয়ে যেত। অথচ এবার কৃষকরা আমন চাষে আগ্রহ হারিয়েছে। ছয়-সাত হাজারের পরিবর্তেযত-সামান্য আগ্রহীরা এবার কানি প্রতি লাগিয়ত দর তুলছেন মাত্র দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। বলতে গেলে আসন্ন আমন চাষে কৃষকরা সম্পূর্ণ আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছে।
    ঝিলংজার চান্দেরপাড়ার কৃষক মোক্তার আহমদ জানান-বর্তমান বাজার ধরে এক কানি খড়ের মূল্য তিন হাজার টাকা, সেখানে সম-পরিমাণ চাষাবাদি জমির লাগিয়ত মূল্য দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা বড্ড বেমানান। ধানের বাজার মূেল্যর এ অবস্থায় প্রকৃত কৃষকদের বাঁচার কোন উপায় নেই। উল্লেখ্য-সারা দেশে বিগত উৎপাদিত বোরো ধানের দাম আশংকাজনক হারে কমে যাওয়ায় সরকার সারা দেশের জেলা-উপজেলায় ন্যায্য মূল্যে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তবুও লোকসানের আশংকা কাটেনি সারা দেশ তথা কক্সবাজারের কৃষকদের।####

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ