• শিরোনাম

    টেকনাফে র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে তিন ইয়াবাকারী ও ঈদগাওতে মাদকারবারীর লাশ উদ্ধার

    জেলায় এক রাতেই ৪ মাদক কারবারী নিহত

    নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ/ সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও | ১৭ জুন ২০১৯ | ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

    জেলায় এক রাতেই ৪ মাদক কারবারী নিহত

    কক্সবাজার জেলায় পৃথক বন্দুক যুদ্ধে এক দিনেই ৪ মাদক কারবারী নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে টেকনাফে র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে ৩ মাদক কারবারী এবং ঈদগাঁওতে জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রফিকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
    জানা যায়, কক্সবাজারের টেকনাফে র‌্যাব সদস্যদের সঙ্গে কথিত বন্দুক যুদ্ধে ৩ মাদক কারবকারী নিহত হয়েছে। এসময় র‌্যাবের ২সদস্য আহত হয়। ঘটনাস্থল হতে ১লাখ ৪০হাজার ইয়াবা, ৪টি এলজি ও ১২ রাউন্ড কার্তুজ ১৬ রাউন্ড খালি খোসা, নগদ ৫ হাজার ২৮০ টাকা ও সীমসহ ৩ টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দিনগত রাত ১২টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ঢালা নামের দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় বন্দুক যুদ্ধের এর ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
    নিহতরা হচ্ছে কক্সবাজার পৌরসভার চৌধুরী পাড়ার গবী সোলতানের ছেলে দিল মোহাম্মদ (৪২), মো. ইউনুছের ছেলে রাশেদুল ইসলাম (২২) ও চট্টগ্রাম আমিরাবাদের মাস্টার হাটের আবুল কাশেমের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪২)।
    র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ জানান, নিহতদের মধ্যে দিল মোহাম্মদ গত শুক্রবার র‌্যাব কর্তৃক কক্সবাজার তারাবনিয়ার ছড়া এলাকা হতে ১লাখ ৭০ হাজার ইয়াবাসহ ২জনকে আটকের মামলার পলাতক আসামী ছিল। এছাড়া আগের দিন ইয়াবাসহ আটক ও শনিবার বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা সৌদি আরব ভিত্তিক একটি মাদক পাচার সিন্ডিকেটের সদস্য ছিল। ইতিপূর্বে তারা সৌদিআরবেও ছিল। শনিবার সকালে কক্সবাজার বাজারঘাটা এলাকা হতে শহীদুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শামলাপুর-হোয়াইক্যংয়ের মাঝামাঝি পাহাড়ী এলাকায় অভিযানে গেলে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে। এসময় বন্দুকযুদ্ধে ৩ মাদক কারবারী নিহত হয়। এতে র‌্যাবের দুই সদস্য সদস্য জাহাঙ্গীর ও সোহেল আহত হয়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশী চালিয়ে ইয়াবা, অস্ত্র ও নগট টাকা উদ্ধার করা হয়। নিহত মাদক কারবারীদের পোস্ট মর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। কক্সবাজার সদর ও বাজারঘাটা এলাকায় অনেক ব্যবসায়ী বৈধ ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসায় জড়িত বলে তথ্য দেন নিহত শহীদুল। তাদের গ্রেফতারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
    র‌্যাব-১৫ এর টেকনাফ ক্যাম্পের ইনচার্জ লে. মীর্জা শাহেদ মাহতাব জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
    এদিকে কক্সবাজারের ঈদগাঁও ঈদগড় সড়কে গুলিবিদ্ধ লাশের পরিচয় মিলেছে। নিহত রফিকুল ইসলাম কক্সবাজার শহরের বইল্ল্যা পাড়া এলাকার বাদশা মিয়া প্রকাশ বাদশা কবিরাজের ছেলে । তার লাশের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কক্সবাজার শহরের একজন গনমাধ্যমকর্মী তাকে চিহ্নিত করেন। প্রাপ্ত তথ্য ও খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, ১৬ জুন সকাল ১০ টার দিকে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালা নামক স্থানে একটি গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ওসি তদন্ত মোঃ আসাদুজ্জামানের নির্দেশে এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক ও কাজী মোঃ আবুল বাসার ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার পুর্বক সুরহতাল রিপোর্ট তৈরি করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
    এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরী এলজি এবং ইয়াবাও উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। নিহত রফিকুল ইসলাম মাদক ব্যবসায়ী বলে ধারণা করছেন পুলিশ।
    নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান রফিকুল ইসলাম গোয়েন্দা পুলিশ ডিবির সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। অসমর্থিত একটি সূত্র জানায়, নিহত রফিকুল ইসলাম পাহাড়ে অপহরণ বানিজ্যে জড়িত ছিল। তাছাড়া মাদক, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১০/১২ টি মামলা ছিল বলে সূত্রে জানা যায়। তাকে আটকের পর স্বীকারোক্তি মোতাবেক ঈদগড় পাহাড়ে অভিযানে গেলে আগে থেকে উৎপেতে থাকা রফিকুল ইসলামের সাঙ্গপাঙ্গরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও গুলি চালায় বলে জানা যায়। এক পর্যায়ে রফিকুল ইসলাম নামের এক মাদক কারবারী ও অপহরণকারীর মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজারের ডিবির ওসি হুমায়ুন কবিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ