• শিরোনাম

    টেকনাফে এসএসসিতে বেড়েছে পাশের হার, কমেছে জিপিএ-৫

    জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ | ০৭ মে ২০১৯ | ২:০৫ পূর্বাহ্ণ

    টেকনাফে এসএসসিতে বেড়েছে পাশের হার, কমেছে জিপিএ-৫

    ফাইল ছবি

    টেকনাফে এসএসসির ফলাফলে পাশের হার গতবছরের তুলনায় বাড়লেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এবছর এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার ১৪ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৫৩২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১২৬০ জন। অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৭২ জন এবং পাশের হার ৮২.২৫। গতবছর ২০১৮ সালের পাশের এ হার ছিল ৭৭.৯৫। সে হিসেবে এবারে টেকনাফে পাশের হার গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। এছাড়া গত ২০১৭ ও ২০১৬ সালে উপজেলায় পাশের হার ছিল যথাক্রমে ৮৬.৭৪ এবং ৯২। তবে এবছর শতভাগ পাশের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখেছে সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়।
    এবছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গতবছরের তুলনায় হতাশাজনকভাবে কমেছে। এবছর ১৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০ টি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। চারটি বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৮ জন শিক্ষার্থী। গতবছর ২০১৮ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২১ জন। এর আগে ২০১৭ ও ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২৮ জন ও ১১ জন। সবমিলিয়ে গত তিন বছরের মধ্যে এবছরই সবচেয়ে কম সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়া প্রতিষ্ঠান গুলো হলো হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয় ৫ জন, সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয় ১ জন, টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ১ জন, শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ১ জন।
    এদিকে একজন জিপিএ-৫ প্রাপ্তিসহ শতভাগ পাশ করিয়ে এবারও পাশের হারে উপজেলার শীর্ষে রয়েছে সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়। সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৯ শিক্ষার্র্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে সবাই পাশ করেছে। বিদ্যালয়টি গতবছরও শতভাগ পাশসহ উপজেলায় শীর্ষে ছিল। পাশের হারে উপজেলায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে একই ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ হাজী বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৬৬ জন পাশ করেছে, পাশের হার ৮৯, গতবছর পাশের হার ছিল ৮৪.৫৬। তবে জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৭১ জন অংশ নিয়ে ৬২ জন পাশ করেছে। পাশের হার ৮৭।
    নোয়াপাড়া আলহাজ্ব নবী হোছাইন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১০৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে পাশ করেছে ৯১ জন, পাশের হার ৮৫.৮৫, গতবছর এ হার ছিল ৯৬। হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ২১৫ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫ জন, পাশের হার ৮৫.৬৬, গতবছরের পাশের হার ছিল ৮৭.২৯। নয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৬৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৩৬ জন, পাশের শতকরা হার ৮৩.৪৪। হ্নীলা বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৫৯ জন, পাশের হার ৮৩.১০ লম্বরী মলকা বানু উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৯ জনে পাশ করেছে ৯০ জন, পাশের হার ৮২.৫৭। টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১৪৫ জন, পাশের হার ৭৯.২৩, শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৪৩ জনে পাশ করেছে ১১০ জন, পাশের শতকরা হার ৭৬.৯২। মারিশবনিয়া এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪১ জনে পাশ করেছে ৩১ জন, পাশের হার ৭৫। কানজর পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৫ জনের মধ্যে ৫০ জন, ৭৬.৯২ পাশের হার, আলী আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১০ জনের মধ্যে ৮২ জন পাশ করেছে, পাশের হার ৭৪.৫৫। এবারের এসএসসি’র ফলাফলে তলানিতে রয়েছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন্সের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সেন্টমার্টিন বিএন ইসলামিক উচ্চ বিদ্যালয়, ৬৬ জনে পাশ করেছে ৪৪ জন, পাশের হার ৬৬।
    ফলাফলের উপজেলার একমাত্র শতভাগ পাশের দাবিদার সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ-উদ-দৌলা বলেন, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমরা পুরো কক্সবাজার জেলায় শতভাগ পাশের কৃতিত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। গতবছরও একই কৃতিত্ব আমরা অর্জন করেছিলাম। এ অর্জন আমার শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। আগামীতে আমরা আরো ভালো সাফল্য অর্জন করতে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশী।
    ফলাফলের বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুল আবছার জানান, উপজেলায় এসএসসিতে পাশের হার গতবছরের তুলনায় বেড়েছে। তবে ফলাফলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা গতবছরের তুলনায় কমেছে। আমরা রমজানের ছুটি শেষে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে বসে আগামী যাতে আরো ভালো ফলাফল করা যায় সে বিষয়ে করণীয় ঠিক করব

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ