• শিরোনাম

    ঠিকাদারের অবহেলায় মাতারবাড়ী ধলঘাটার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

    মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন,মহেশখালী | ০৫ মে ২০১৯ | ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

    ঠিকাদারের অবহেলায় মাতারবাড়ী  ধলঘাটার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

    মহেশখালী উপজেলায় ঠিকাদারের অবহেলায় ভাঙ্গাঁ অবস্থায় থাকা বেড়িবাঁধ দিয়ে সাগরের পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে ধলঘাটার পাঁচ গ্রাম। ৪ শনিবার দিনের জোয়ারের অস্বাভাবিক পানি ঢুকে তলিয়ে যায় গ্রামগুলো। এতে ওই এলাকার ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ে পানি। তলিয়ে যায় লবণমাঠ। এতে ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে কোটি টাকার। এর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার আতিকুল ইসলামকে দায়ী করেছেন ধলঘাটার চেয়ারম্যান কামরুল হাসান। অপরদিকে মাতারবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর রাজঘাট ও ষাইড পাড়ায় বেড়িবাধের ভাংগা অংষ দিয়ে ফনীর প্রভাবে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বেশ কটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে স্থানীয়দের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
    চেয়ারম্যান কামরুল হাসান আরো জানান, শুধুমাত্র ঠিকাদার আতিকুল ইসলামের অবহেলার কারণেই শরইতলা থেকে হামিদখালী পর্যন্ত এক কিলোমিটার বাঁধ খোলা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে সাগরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়িবাঁধের ওই অংশ দিয়ে অনায়সে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে সাগরের পানি। উত্তর সুতুরিয়া, পানির ছড়া, নাছির মোহাম্মদ ডেইল, সিকদার পাড়া ও বনজামিরা ঘোনা গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। এর আশেপাশের এলাকায়ও পানি ঢুকে পড়ে। পানিতে তলিয়ে ওইসব গ্রামের ঘরবাড়ি ও লবণমাঠে ক্ষতি হয়েছে।
    তিনি অভিযোগ করে বলেন, বেড়িবাঁধের ওই অংশের কার্যাদেশ নেওয়ার পর দুই বছরেও কাজ শুরু করেন ঠিকাদার আতিকুল ইসলাম। এই নিয়ে ওই এই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শত বার অভিযোগ করেছি পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে। পত্রিকায় অনেক বার নিউজও ছাপা হয়েছে। । কিন্তু তারা সকলেই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিতে পারেনি তা আমার জানা নেই।
    এখন শুনতে পারছি ‘ডিআইআরডি’ নামক আরেকটি ঠিকাদার কোম্পানী মূল ঠিকাদার আতিকুল ইসলামের কাছ থেকে লিখিত ভাবে হস্তান্তর করেছে। তারাও বিগত একমাস আগে কাজ শুরু করার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত কাজের কোন অগ্রতি দেখছিনা।‘যুগ যুগ ধরে ধলঘাটার বেড়িবাঁধ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। কাজের টেন্ডার হলেও কখনো পুরোপুরি কাজ হয়নি। এ কারণে ধলঘাটার বার বার পানিতে তলিয়ে যায়।
    মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. উল্লাহ বলেন, স্থায়ি বেড়িবাঁধ না থাকায় ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে এই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। এরপর দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও চারপাশে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়নি।
    মাতারবাড়ি রক্ষা করতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
    ইউনিয়নটি বঙ্গোপসাগরের মোহনায় হওয়ায় ফনীর প্রভাবে শনিবার সকালে উত্তর রাজঘাট ও ষাইটপাড়ার বেড়িবাঁধের ভাঙ্গাঁ অংশ দিয়ে সাগরের পানি প্রবেশ করে বেশ কটি গ্রাম প্লাবিত হয়। বেড়িবাধঁটি মেরামত না করায় ফলে স্থানীয় লোকজন ধীরে-ধীরে ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে।
    তিনি আরো বলেন, কোল পাওয়ার জেনারেশন মাতারবাড়ি ইউনিয়নে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের ফলে পানি চলাচলের জন্য নির্মিত সমস্ত স্লুিইচ গেইট বন্ধ করে দিয়েছে। এটিই এখন মাতারবাড়ির মানুষের আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পরিস্তিতি আরো ভয়াভহ হচ্ছে।
    বিষয়টি জানিয়ে ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, কোলপাওয়ার জেনারেশন ও মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেছেন মাতারবাড়ীর চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ।
    ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করার পরও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
    স্থানীয় সংবাদিক হারুনুর রশিদ বলেন ঘূর্ণিঝড় ফণী’র প্রভাবে সাগরে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্রোত ও ঢেউয়ের গড়াগড়িতে মাতারবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিমের বেঁড়িবাঁধের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।নয়াপাড়া এলাকার পশ্চিমের বেঁড়িবাঁধের প্রায় ১ কিলোমিটার পর্যন্ত বিলিন। বর্ষার মৌসূমের আগে ভাঙ্গা বেঁড়িবাঁধের সংস্কার করা না হলে আরো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশংকা রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।
    মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম বলেন মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নের ধসে যাওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
    মহেশখালী কুতুবদিয়া সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, মাতারবাড়ী ও ধলঘাটার বেড়িবাধঁটি সংস্কার কাজে কোন প্রকার অনিয়ম সহ্য করা হবে না। দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মান করা হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ