• শিরোনাম

    তাদের বয়কট করুন, পারলে ধরিয়ে দিন

    দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক | ২৭ মার্চ ২০১৯ | ১০:৩২ অপরাহ্ণ

    তাদের বয়কট করুন, পারলে ধরিয়ে দিন

    ধান্দাবাজ সাংবাদিকদের ঘুষ দেবেন না, তাদের বয়কট করুন। পারলে ধরিয়ে দিন। এসব ধান্দাবাজদের পক্ষে আমরা কখনোই লড়বো না।

    ১.
    ছুটিতে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ী তেঁতুলিয়ায় গেলে এলাকার সাংবাদিক ভাইয়েরা আমাকে বেশ সঙ্গ দেয়। এটি চলে আসছে বিশ পঁচিশ বছর ধরে যতদিন থেকে আমি সাংবাদিকতা করি। বিষয়টি আমি পজেটিভলি দেখি এবং আমার বেশ ভালোই লাগে। কিন্তু সমস্যা হলো, এই সাংবাদিকদের অনেকের বিষয়ে নানা ধরণের অভিযোগ বা কথাবার্তা আমার কানে আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে কমন অভিযোগ হলো, তাদের অনেকে বিভিন্ন জনের কাছে হুমকী ধামকী দেখিয়ে ঘুষ আদায় করে। ধান্দাবাজীই নাকি তাদের আয়ের মূল উৎস। তখন আমি চিন্তা করি-এলাকার লোকজন হয়তো ভাবে, আমরা যারা ঢাকায় থাকি তারা বড়ো ধান্দাবাজ-আর যাদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করি তারা ছোট ধান্দাবাজ…!
    বিষয়টিতে আমি আসলে বেশ কষ্ট পাই, মর্মাহত হই। আমি ঢাকায় সাংবাদিকতা করলেও এসব কল্পনাই করি না (অনেকে ভাবতে পারে)। আমি মনে করি, হারাম আয়ের এক টাকা খাওয়া মানে রক্ত মাংশ হারাম হয়ে যাওয়া। আমার মরহুম বাবা ডা. আবদুল মালেক আমাদেরকে এই শিক্ষা দিয়ে গেছেন এবং আপনাদের দোয়ায় এখনো সেটা লালন করে চলেছি। ইনশা আল্লাহ আমৃত্যু চলতে চাই। আমি ২৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা করছি কিন্তু ব্যাংকে পচিশ হাজার টাকাও নেই। হ্যাঁ এটাই সত্য। আমার হয়তো ব্যাংক ব্যালান্স নেই, ফ্ল্যাট-বাড়ী-গাড়ী নেই, কিন্তু আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়ায় সামাজিকভাবে অনেক ভালো আছি, আলহামদুলিল্লাহ।

    তখন ওইসব সাংবাদিক ভাইদের জিজ্ঞেস করি, আপনারা কেন এসব করেন? জানেন এসব হারাম? আর হারাম খাওয়া মানেতো আপনার নিজের রক্তমাংশ হারাম হয়ে যাওয়া। আর যদি এই টাকা আপনার স্ত্রী-সন্তানদের খাওয়ান তাহলেতো তারাও হারাম খেলো। আপনি কি চান আপনার আদরের সন্তানের রক্তমাংশ হারাম হয়ে তৈরি হোক?
    এরপর ঘটে আজব ঘটনা। এক সাংবাদিক আরেক সাংবাদিকের নামে আমার কাছে বদনাম করে। বলে আমি এসব করি না, অমুক অমুক করে ইত্যাদি।

    ২.
    হ্যাঁ, এটা ঠিক যে আমাদের মতো অষ্টম বা নবম ওয়েজ বোর্ডের মতো বেতন/মহার্ঘভাতা স্থানীয় সাংবাদিকগণ পায় না। তাদেরকে তেমন বেতনও দেয়া হয় না। আর উপজেলা লেবেলে যারা কাজ করেন তারাতো একটি কানাকড়িও পায় না। তাহলে তাদের সংসার চলবে কীভাবে? এ ব্যাপারে অবশ্য পত্রিকার কর্তাব্যক্তিদের আশু দৃষ্টি দেয়া মানবিক মনে করি।
    এক বা দুইটি মিডিয়া থাকতে পারে যারা তাদের সম্মানী দেয় এবং সেটা বড়ো জোর এক বা দুই হাজার টাকা। উপজেলা লেবেলে এই যে এতো সাংবাদিকের ছড়াছড়ি তারা মূলত জেলা প্রতিনিধিদের সোর্স হিসেবে কাজ করে। এখন হাজার হাজার অনলাইন মিডিয়ার ছড়াছড়িতে সাংবাদিকের অভাব নেই। একটা সংবাদ কোনরকমে বানিয়ে ইমেইল করলেই সেটা ছাপা হয়ে যাচ্ছে অনলাইনে। আর এটা দেখিয়েও টাকা পয়সা আদায় করা যাচ্ছে। কিন্তু কেন?
    জানলাম, তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে শ্রমিকরা একবার সংবাদ সম্মেলন করেছে। সাংবাদিকদের নাকি দেয়া হয়েছে মোট ২২ হাজার টাকা। অথচ মেইন স্ট্রিম মিডিয়ায় কোন সংবাদ ছাপা হয়নি! সেলফোনের স্ক্রিনে অনলাইন পোর্টালের বিভিন্ন নিউজ নাকি দেখাচ্ছে আয়োজকদের! একবার ৫ জন সাংবাদিককে পাথর ব্যবসায়ী/আমাদানীকারকরা নাকি দিয়েছে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু সাংবাদিকরা বলেছে, এই টাকা তারা নেবে না। এতো টাকা ইনকাম হয় অথচ সাংবাদিকদের জন্য মাত্র ১০ হাজার….!

    ৩.
    কেউ যদি ধান্দাবাজীকে পুঁজি করেই মফস্বলে বিশেষ করে আমাদের এলাকায় সাংবাদিকতা করতে চান, তবে আজকেই এই পেশা ছেড়ে দিন। কেননা, আপনি শুধু নিজের বদনামই করছেন না বরং সাংবাদিকতার মতো মহৎ একটা পেশাকে কলংকিত করছেন। যদি বেতনই না-ই পাওয়া যাবে তবে কেন আপনি এই লাইনে থাকবেন? আপনাকেতো কেউ ধান্দাবাজী করার লাইসেন্স দেয়নি। এহেন সাংবাদিকতার জন্য জাতি মুখ থুবরে পড়বে না। বরং এলাকায় পাথর ব্যবসা, চা বাগান, কৃষি/পশু খামার করলেও আপনি লাখ লাখ টাকা রোজগার করে নিজেকে সাবলম্বী করতে পারবেন। যারা ধান্দাবাজী করে আগে থেকেই সাংবাদিকতা করে আসছেন তাদের করুণ অবস্থা দেখুন। নিশ্চয় আপনিও সেই রকম হতে চান না। আপনার আছে বিশাল সম্ভাবনা, সেটাকে বরং কাজে লাগান। সময় থাকতে সরে আসুন অসৎ পথ থেকে। আপনার মূল্যবান সময় অন্য ভালো কাজে লাগান। দেরি হলেও সাফল্য একদিন আসবেই।

    দুর্নীতিবাজ আমলা, ব্যবসায়ী, শ্রমিক যাই হোন না কেন-আপনারা সাংবাদিকদের কখনো আর ঘুষ দেবেন না। আপনি নিজেও আজ থেকে সৎ হয়ে যান। আপনি সৎ হলে শুধু এই পেশার মান নয়, পুরো দেশ বাঁচবে। মনে রাখবেন, যাদেরকে টাকা বা ঘুষ দিচ্ছেন মানসম্মান রক্ষার জন্য তারা কখনোই আপনাকে বাঁচাতে পারবে না। ধরা একদিন পরবেনই।
    আপনাদের জ্ঞাতার্থে এও জানাচ্ছি, মফস্বলের এসব সাংবাদিকরা কোন নিউজ পাঠালেই সেটা ছাপা হয়ে যায় না। নিউজ ছাপানো হয় পত্রিকা অফিস থেকে। আর অফিসের দায়িত্বশীলরা বুঝেন, কোনটা ধান্দাবাজীর নিউজ আর কোনটা সত্যিকারের নিউজ। সেভাবেই তারা নিউজ ট্রিটমেন্ট দেন।
    তাই, অসৎ সাংবাদিকদের কথায় আর ভয় পাবেন না, তাদের কোন টাকা দেবেন না। বরং এসব কথা বলে কেউ আপনার নিকট ধান্দাবাজী করতে এলে আপনি তাকে বয়কট করুন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মিডিয়া অফিসের নাম্বার নিয়ে (নাম্বার দেয়া থাকে) কর্তৃপক্ষকে জানান। অথবা তাকে ধরে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করুন।
    মনে রাখবেন, ধান্দাবাজদের পক্ষে আমরা নেই, তাদের পক্ষে কখনোই লড়বো না।

    লেখক: আতাউর রহমান কাবুল, সাংবাদিক

    (এই বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নয়)

    Comments

    comments

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ