• শিরোনাম

    কক্সবাজারে হাইসাওয়ার কর্মশালায় বক্তারা

    দিন দিন নেমে যাচ্ছে সুপেয় পানির স্তর

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭ জুলাই ২০১৯ | ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

    দিন দিন নেমে যাচ্ছে সুপেয় পানির স্তর

    উখিয়া-টেকনাফে আড়াই লাখ জনগোষ্টির জন্য উন্নতমানের সেনিটারি লেট্রিন ও সুপেয় পানির জন্য প্রকল্প গ্রহণ

    কক্সবাজার জেলায় সুপেয় পানির সমস্যা দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা অধূষ্যিত এলাকা হিসেবে পরিচিত উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার কারণে উপজেলা দুটিতে সুপেয় পানির স্তর দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
    পানিতে পাওয়া যাচ্ছে আয়রণের মতো ক্ষতিকর পদার্থ। পাশাপাশি উপজেলা দুটির মানুষ স্বাস্থ্যসহ স্যানিটেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাতেও জর্জরিত। দরিদ্র এসব মানুষের জন্য নেই প্রয়োজনীয় ল্যাট্রিন। এ জন্য প্রয়োজন ভূগর্ভের উপরিভাগের পানিকে পানযোগ্য করে তোলা। পাশাপাশি প্রত্যেক পরিবারের জন্য অন্তত একটি ল্যাট্রিন নিশ্চিত করা।
    সুপেয় পানির সমস্যা শুধু বাংলাদেশে নয়। সারাবিশে^ই এই সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। উন্নত দেশগুলো পরিশোধনের মাধ্যমে উপরিভাগের পানিকে পানযোগ্য করতে সক্ষম। এসব দেশের সুপেয় পানির চাহিদার ৮০ ভাগ পূরণ করা হয় উপরিভাগের পানি থেকে।
    কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এদেশে শতকরা ৮০ ভাগ সুপেয় পানিই ভূগর্ভস্থ। গভীর নলকূপের মাধ্যমে এই পানি উত্তোলন করে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে দিন দিন এই পানির স্তরও নীচে নেমে যাচ্ছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণসহ উপরিভাগের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে পাণ করার ক্ষেত্রেও এদেশ অনেক পিছিয়ে। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়তে হবে।
    বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশস্থ সুইজারল্যান্ড ও ডেনমার্ক দূতাবাস। স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে উপজেলা দুটিতে বসবাসকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং রোহিঙ্গাদের পানি এবং স্যানিটেশন সমস্যা দূর করতে চায় ইউরোপের উন্নত এই দুই দেশ।
    এ জন্য উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ১১ টি ইউনিয়নকে চিহ্নিত করা হয়েছে। হাইসাওয়া নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এটির বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে টেকনাফ পৌরসভাসহ উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন পরিষদ। এতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে হাইসাওয়া প্রকল্প কমিটি।
    এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উল্লিখিত দুই উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোসহ দরিদ্র স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১২’শ পরিবার পাবে একটি করে উন্নত মানের ল্যাট্রিন। পাশাপাশি ৫ থেকে ৭ টি পরিবারের জন্য দেয়া হবে ১টি করে ডিপ টিউবওয়েল। যে এলাকায় ডিপ টিউবওয়েল থেকে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে না। সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থায় নিশ্চিত করা হবে সুপেয় পানি।
    গ্রাম, মহল্লার পাশাপাশি নিয়মিত জনসমাগম ঘটা হাট-বাজার এবং অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকা স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোতেও উন্নতমানের ল্যাট্রিন তৈরি করে দেয়া হবে। তবে, বিনামূল্যে এই সেবা পাবেন না সুবিধাভোগীরা। মোট খরচের শতকরা ১০ ভাগ টাকা দিয়েই এই সুবিধা গ্রহণ করতে হবে। এভাবে ২০২১ সালের মধ্যে উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলার আড়াই লাখ মানুষকে স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন এবং পানি সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা দেয়া হবে।
    স্থানীয় সরকার বিভাগ পরিচালিত হাইসাওয়া (হাইজিন, স্যানিটেশন এন্ড ওয়াটার সাপ্লাই)’র কক্সবাজারে চলমান প্রকল্প বিষয়ে এক তথ্য বিনিময় (ইনফরমেশন শেয়ারিং) কর্মশালায় এই তথ্য জানানো হয়।
    গতকাল ৬ জুলাই শহরের একটি তারকা মানের হোটেলের বলরুমে হাইসাওয়া বোর্ড কমিটির সদস্য চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার নলুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তছলিমা আবছারের সভাপত্বিতে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও হাইসাওয়া বোর্ড কমিটির সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) শ্রাবস্তী রায়, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানবসম্পদ ও উন্নয়ন) এস.এম. সরওয়ার কামাল।
    হাইসাওয়ার প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. এনামুল হক মন্ডলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালার আলোচনায় অংশ নিয়ে পরামর্শমূলক বক্তব্য রাখেন, উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জ মোঃ ওবাইদুল্লাহ, বাংলাদেশস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাইদুর রহমান মোল্লা, বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান ও হাইসাওয়া কমিটির সদস্য স্বপন কুমার দাশ। টেকনাফের বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আজিজ উদ্দিন, হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারি, উখিয়ার রতœাপালং ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী, পালংখালী ইউপি সচিব আবু সুফিয়ান প্রমুখ। কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সচিব, জনস্বাস্য বিভাগের প্রকৌশলী এবং এনজিও’র প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ