• শিরোনাম

    ফ্রি ভিসায় বিদেশ না যেতে শ্রম ও কর্মসংস্থান অফিসের পরামর্শ

    নিবন্ধিত না হওয়ায় সুবিধা বঞ্চিত কক্সবাজারের প্রবাসীরা

    শহীদুল্লাহ্ কায়সার | ১১ জুন ২০১৯ | ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

    নিবন্ধিত না হওয়ায় সুবিধা বঞ্চিত কক্সবাজারের প্রবাসীরা

    সরকার প্রবাসীদের জন্য ঘোষণা করেছে নানান সুযোগ-সুবিধা। মৃত্যু এমনকি অসুস্থ অবস্থায় কেউ দেশে ফিরে এলেও পাবেন এই সুবিধা। প্রবাসীদের পাশাপাশি তাঁদের সন্তানরাও পাচ্ছে সরকারি সহায়তা। তবে, সুবিধার দাবিদার পরিবারের ব্যক্তিকে হতে হবে শ্রম ও কর্মসংস্থান কার্যালয়ে নিবন্ধিত।
    দেশের অন্যান্য জেলাগুলো এক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও কক্সবাজার জেলা রয়েছে অনেক পিছিয়ে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন ৫ লাখের অধিক কক্সবাজারের বাসিন্দা। কিন্তু কক্সবাজার শ্রম ও কর্মসংস্থান অফিসে নিবন্ধিত রয়েছেন মাত্র ১ লাখ ২২ হাজার।
    বাকিরা রয়ে গেছেন নিবন্ধনের বাইরে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসে হয়রাণির শিকার হওয়ার কারণেও অনেকেই স্বেচ্ছায় নিজেদের নাম নিবন্ধিত করেননি। বিদেশে বিশেষ করে সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসীরা ১১৭ রিয়াল জমা দিয়ে সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হতে পারেন। কিন্তু কক্সবাজার জেলার বাসিন্দা অনেক প্রবাসী এখনো পর্যন্ত এই সুযোগ গ্রহণ করেননি। ফলে অদূর ভবিষ্যতে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত হবেন তাঁরা।
    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার শ্রম ও কর্মসংস্থান অফিসের সহকারি পরিচালক মোঃ নুরুল আবছার বলেন, ফ্রি ভিসায় অনেকেই বিদেশ গিয়ে থাকেন। আগে থেকে কাজ নির্দিষ্ট না করার কারণে সেখানেও তাঁদের বেকার থাকতে হয়। এক পর্যায়ে তাঁদের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে তাঁরা অবস্থানরত দেশে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে পরিগণিত হন। ফলে নিবন্ধন তালিকার বাইরে থেকে যান। ফ্রি ভিসায় বিদেশ যাওয়া বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি হলে সব প্রবাসী নিবন্ধনের তালিকায় আসবেন। যা তাঁদের জন্য মঙ্গলজনক হবে বলেও জানান তিনি।
    কক্সবাজার জেলা শ্রম ও কর্মসংস্থান অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রবাসে কোন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হলে তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে সরকারি সহায়তা দেয়া হয়। কেউ অসুস্থ অবস্থায় ফিরে এলে তাঁকে দেয়া হয় ১ লাখ টাকা। নিহত সদস্যদের মৃতদেহ পরিবহনের জন্যও সরকারের পক্ষ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এমনকি বিমানবন্দর থেকে নিহতের বাসভবন পর্যন্ত মৃতদেহ পৌঁছে দিতে অতি অল্প খরচে অ্যাম্বুলেন্সও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
    পাশাপাশি ২০১৭ সাল থেকে প্রবাসীদের সন্তানদের পি.এস.সি থেকে ¯œাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষাবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে আবেদনকারী প্রবাসীর শিক্ষার্থী সন্তানকে পি.ই.সি থেকে এইচ.এস.সি পর্যন্ত অংশগ্রহণ করা প্রতিটি পাবলিক পরিক্ষায় ন্যুনতম ৪.৫ গ্রেডে পেতে হবে।
    ২০১৭ সালেই প্রবাসে নিহত ৪২ জনের পরিবারের হাতে সরকারি সহায়তা তুলে দেয়া হয়। ওই বছর প্রত্যেক পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা দেয় সরকার। ২০১৮ সালে নিহত ৯ জনের পরিবারকে দেয়া হয় ২৭ লাখ টাকা। শ্রম ও কর্মসংস্থান অফিসে নিবন্ধিত হওয়ার কারণেই তাঁরা এই সুবিধা লাভ করেছেন বলেও কার্যালয়টির সূত্রে জানা গেছে ।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ