• শিরোনাম

    লাইট হাউজ পাড়ায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে দুই জনের মৃত্যু

    পিতার লাগানো আগুনে পুড়ে মরলো শিশু সাদিয়া

    শহীদুল্লাহ্ কায়সার | ১২ মে ২০১৯ | ২:০২ পূর্বাহ্ণ

    পিতার লাগানো আগুনে পুড়ে মরলো শিশু সাদিয়া

    মায়ের সাথে তালাকের জের ধরে জন্মদাতা পিতার ধরিয়ে দেয়া আগুনে পুড়ে মরলো শিশু সাদিয়া। একই আগুনে পুড়ে মারা গেলো তার সৎ পিতা। গতকাল ১১ মে (শনিবার) রাত ৮ টায় শহরের লাইট হাউজ পাড়ার মসজিদ সংলগ্ন দক্ষিণের খাড়া পাহাড়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনায় দুইটি বসতবাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। আগুনে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো একটি বসতবাড়ী।
    নিহত শিশু সাদিয়া (৬) স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসায় পড়তো। নিহত অন্যজন আতিক উল্লাহ্ (৪০) শিশু সাদিয়ার সৎ পিতা। শহরে টমটম চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। তাঁর বাড়ি মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নে বলে জানা গেছে।
    ঘটনার মূল হোতা মোনাফ দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার শহরে বসবাস করলে জাতিতে একজন রোহিঙ্গা। ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েই পাহাড়ি এলাকা দিয়ে সটকে পড়তে সক্ষম হয় মোনাফ। এই তথ্য দিয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা।
    জানা গেছে, নিহত শিশু সাদিয়ার মা ছেনোয়ারার দ্বিতীয় স্বামী মোনাফ। প্রায় ৬ বছর আগে মোনাফের সাথে ছেনোয়ার ডিভোর্স হয়ে যায়। ডিভোর্সের আগেও ছেনোয়ার সাথে একাধিকবার মোনাফের ঝগড়া হয়। যা থানা পর্যন্ত গড়িয়েছিলো।
    তালাক কার্যকর হওয়ার পর ছেনোয়ারা আতিক উল্লাহকে বিয়ে করেন। বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি মোনাফ। এরপর থেকে বিভিন্নভাবে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে হুমকি দিতে থাকে সে। ছেনোয়ারার আবার বিয়ের জের ধরে এক মাস আগে তার ভাইপো মঞ্জুর আলম পুতিয়্যাকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে আহত করে। যে মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর প্রায় মাস খানেক আগে জামিনে সে বেরিয়ে আসে। এরপরই গতকাল রাতে ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে জন্ম দিলো এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার।
    নিহত সাদিয়ার মা ছেনোয়ার জানিয়েছেন, সাদিয়ার মাতৃগর্ভে ৩ মাস বয়সেই মোনাফের সাথে তার ডিভোর্স হয়। এরপর থেকে সে বিভিন্নভাবে তাকে বিরক্ত করছে। স্থানীয়দেরও একাধিকবার বিষয়টি তিনি বুঝিয়েছিলেন। কিন্তু কোন প্রতিকার পাননি।
    গতকাল এশার আযানের (রাত ৮ টা) সময় তিনি রান্নাঘরে ডিম ভাজছিলেন। ওই সময় শিশু সাদিয়া খাটে ঘুমাচ্ছিলো। ডিম ভাজাকালীন হঠাৎ করে একটি শব্দ শুনতে পান। তাঁর দ্বিতীয় স্বামী মোনাফ এসে ঘরের বাইরে থেকে দরজার হুক লাগিয়ে দেয়। এরপর দা দিয়ে বাইরে থেকে ঘরে কোপাতে থাকে। ওই সময় তিনি ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে দেখতে পান মোনাফ তাঁর ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। কিছু বুঝে উঠার আগেই পুরো ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই বলেই বিলাপ করতে থাকেন তিনি। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় ছেনোয়ার জানেন না তাঁরা শিশু সন্তান আগুনে পুড়ে মারা গেছে।
    ছেনোয়ার মেয়ে জামাই সেলিম জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর আরেক ভাইরা শ^াশুড়ির সঙ্গে পাশাপাশি ঘরে থাকেন। অগ্নিকা-ে তাঁর ঘরসহ ভায়রা মোঃ বশিরের ঘরও পুড়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া ঘরে তাঁর তিন লাখ টাকার বেশি ব্যবসায়িক কাপড় ছিলো বলেও জানান সেলিম।
    কেন এমন ঘটনা ঘটলো জানতে চাইলে সেলিম জানান, ডিভোর্সের পর থেকেই মোনাফের সাথে তাঁর শ^াশুড়ির সমস্যা চলছিল। কিছুদিন পরপরই মোনাফ এসে তাঁকে জ¦ালাতন করতো। গতকালও রাতে এসে মোনাফ ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
    ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাত ২১ টা ৫ মিনিট (৯ টা ৫ মিনিট)’র সময় স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে আগুনের খবর দেন। এরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অগ্নিকা-স্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকা-স্থল থেকেই তাঁরা এক শিশুসহ দুই জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন।
    খাড়া পাহাড়ের উপরের ঘরে আগুন ধরায় নিয়ন্ত্রণে আনতে সমস্যা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাঁরা জঙ্গল থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করলেও পরে জেনেছেন পারিবারিক কোন্দলের জের ধরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। তদন্ত করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলেও জানান তিনি।
    অগ্নিকা-ের পরপরই পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এ বিষয়ে জানার জন্য স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করা হলে তাঁরা কোন কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ