• শিরোনাম

    বঙ্গোপসাগরে আহরণযোগ্য ৪৪৭ প্রজাতির মাছ ও চিংড়ির সন্ধান

    | ০৫ মার্চ ২০১৯ | ৮:২১ অপরাহ্ণ

    বঙ্গোপসাগরে আহরণযোগ্য ৪৪৭ প্রজাতির মাছ ও চিংড়ির সন্ধান

    বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় মাছ, সামুদ্রিক প্রাণী ও সামুদ্রিক উদ্ভিদের ওপর গবেষণার জন্য সংগৃহীত গবেষণা জাহাজ ‘আরভি মীনসন্ধানী’ আগামী জুন মাস থেকে যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রকল্পে। জাহাজটি বঙ্গোপসাগরে গবেষণা ও জরিপ চালাবে টানা পাঁচ বছর। এদিকে চলমান গবেষণা কার্যক্রমে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় সর্বমোট ৪৩০ প্রজাতির আহরণযোগ্য মাছের সন্ধান মিলেছে। পাওয়া গেছে ১৭ জাতের আহরণযোগ্য সামুদ্রিক চিংড়ির সন্ধান।

    ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট’ নামে প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক অধীর চন্দ্র দাশ বলেন, প্রকল্পটিতে আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ ১৮শ’ ৮৬ কোটি টাকা। এই অর্থের ৮৫ শতাংশ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক এবং ১৫ শতাংশ দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এতে প্রায় ১১ জন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা থাকবেন। ইতিমধ্যে ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুনকেও এই প্রকল্পে নিযুক্ত করা হয়েছে। নতুন প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় গবেষণা ও জরিপ পরিচালনাকালে মাছ, সামুদ্রিক উদ্ভিদের পাশাপাশি নতুন ফিশিং গ্রাউন্ডের অনুসন্ধান এবং পুরনো ফিশিং গ্রাউন্ডগুলোর অবস্থাও আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।

    তিনি জানান, বর্তমানে গবেষণা জাহাজ আরভি মীনসন্ধানী ২০০৮-২০০৯ সালের ‘মেরিন ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ নামের একটি প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় জরিপ চালাচ্ছে। এই প্রকল্পটিতে মালয়েশিয়া, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্স (ওআইসি) এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন রয়েছে।

    মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ৬৫ কোটি টাকায় অত্যাধুনিক বহুমুখী সমুদ্র গবেষণা জাহাজ আরভি মীনসন্ধানী সংগ্রহের পর ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী জাহাজটি উদ্বোধন করেন। ২০১৬ সাল থেকেই মীনসন্ধানী সমুদ্রে জরিপ-গবেষণায় নামলেও প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর গবেষণা কার্যক্রম আশানুরূপ হয়নি। তবে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এবং চলতি বছরের বর্তমান সময় পর্যন্ত জাহাজটি ১৫টি অভিযান (কুইজ) এবং তিনটি টেকনিক্যাল ট্রায়াল সম্পাদন করতে সক্ষম হয়। জাহাজটি ২০১৭ সালে ডেমারসেল ফিশ বা সমুদ্র তলদেশের মাছের ওপর তিনটি, চিংড়ির ওপর তিনটি এবং পেলেজিক ফিশ বা সমুদ্র উপরিতলের মাছের ওপর দুইটি জরিপ-গবেষণা অভিযান (কুইজ) এবং দুইটি ট্যাকনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করে। এতে ব্যাপক তথ্য-উপাত্ত সংগৃহীত হয়েছে।

    অধীর চন্দ্র দাশ আরো জানান, মীনসন্ধানীর মাধ্যমে সমুদ্রের ১০ থেকে ১০০ মিটার গভীরতায় বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকাকে ৮০টি পয়েন্টে ভাগ করে চিংড়ির ওপর জরিপ-গবেষণা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে তলদেশ ও উপরিতলের মাছের ক্ষেত্রে সমুদ্রের বিভিন্ন পয়েন্টে ১০ থেকে ২০০ মিটার গভীরতায় জরিপ-গবেষণা চালানো হয়। এসব গবেষণায় ‘নানসিস’ নামের সফটওয়্যার, ‘সোনার’ ও ‘ইকোসাউন্ডার’ সহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ চলছে। আগামী মে মাসে ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।

    আরও পড়ুন: এক কাপ চায়ের দাম একটি মিগ-২১ জঙ্গি বিমান!

    এদিকে বিজ্ঞানী অধীর চন্দ্র দাশ ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানায়, আশা করা যায় আরো অনেক প্রজাতির আহরণযোগ্য মাছের সন্ধান আমাদের সমুদ্র সীমানায় মিলবে। ফলে সাগর থেকে মাছ আহরণের পরিমাণ আরো বাড়ানো যাবে। বর্তমানে বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানা থেকে বাত্সরিক মাছ আহরণের পরিমাণ ছয় লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মাতারবাড়ী ঘিরে মহাবন্দর

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ