• শিরোনাম

    বান কি-মুন বললেন, মিয়ানমারকে ‘অনেক কিছু’ করতে হবে

    দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক | ১০ জুলাই ২০১৯ | ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

    বান কি-মুন বললেন, মিয়ানমারকে ‘অনেক কিছু’ করতে হবে

    রোহিঙ্গা সঙ্কটের অবসান ঘটিয়ে শরণার্থীদের নিজ আবাসে বসবাস নিশ্চিতে মিয়ানমার সরকারের আরও দায়িত্ব পালনের কথা বললেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির অবস্থা বুধবার সরেজমিনে দেখে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
    বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জনগোষ্ঠির আকার বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা দেখতে কক্সবাজারে যান গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের চেয়ারম্যান বান কি-মুন। তিনি বলেন, “মিয়ানমার সরকারের অনেক বেশি কিছু করার আছে, যার ফলে রোহিঙ্গারা ভয়হীনভাবে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে পারে।” নির্যাতনের মুখে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার আশ্বাস মিয়ানমার দিলেও তাতে কোনো অগ্রগতি নেই। রাখাইনে নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাসের নিশ্চয়তা চায় রোহিঙ্গারা। কিন্তু মিয়ানমার সেই পরিবেশ তৈরিতে গা করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এজন্য মিয়ানমারকে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে কক্সবাজারের উখিয়ায় পৌঁছান বান কি-মুন। তার সঙ্গে রয়েছেন মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলডা সি হেইন, বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টালিনা জর্জিওভা, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই থাকেন কুতুপালং ক্যাম্পে। মুন ও তার সফরসঙ্গীরা বৃষ্টির মধ্যে কুতুপালংয়ের ২০ নম্বর ক্যাম্পের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নামেন। সেখান থেকে গাড়িতে করে প্রায় ২০ মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে যান ১৭ নম্বর ক্যাম্পে। এই পথের দুই পাশেই বান কি মুনদের স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছিল গাছপালা কেটে পাহাড়ের গায়ে তৈরি করা অসহায় রোহিঙ্গাদের ঝুপড়ির পর ঝুপড়ি, ছিন্ন পোশাকের নারী-পুরুষ, পোশাকহীন অগুনতি শিশু। ১৭ নম্বর ক্যাম্পে পৌঁছতে রোহিঙ্গাদের যে অবস্থা দেখলেন, তাকে বান কি-মুন বর্ণনা করলেন ‘হৃদয় বিদারক’ এবং ‘বেদনাদায়ক’ চিত্র হিসেবে। ক্যাম্পের চুড়ায় কয়েকটি গাছের চারা রোপণ করেন বান কি-মুন, হিলডা ও জর্জিওভা। এক প্রশ্নের জবাবে বান কি-মুন বলেন, “প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। যারা বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয় নিয়েছে এটা বিরাট ক্ষোভ ও উদ্বেগের বিষয়, যা আজ আমি নিজে দেখলাম। সুতরাং আমি আশা করি, এই সমস্যাটার একটি প্রীতিকর সমাধান হবে। আমি আশা করি, তারা তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদে ও সুষ্ঠুভাবে ফিরতে পারবে। রোহিঙ্গাদের অবস্থা যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার শরণার্থীদের চেয়েও যে খারাপ ঠেকেছে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিবের কাছে। “আমি যখন জাতিসংঘে কাজ করেছি, তখন আমি লক্ষ লক্ষ শরণার্থীদের সাহায্য করেছি। এরমধ্যে সিরিয়ার শরণার্থীরাও ছিল। কিন্তু আজকে যা দেখলাম এখানে, এটা সত্যিই হৃদয়বিদারক।” রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বিশেষ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (এফএও) এবং শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
    জাতিসংঘ মহাসচিব থাকার সময় ২০০৮ সালে প্রথম বাংলাদেশ সফরে আসেন বান কি-মুন। ২০১১ সালে দ্বিতীয়বার বাংলাদেশ সফর করেন তিনি। দুই দফায় জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের পর গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি; যে সংস্থাটি মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কাজ করে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে স্থানীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে। ১১ লাখ রোহিঙ্গার বসবাসের জায়গা তৈরি করতে গিয়ে উজাড় হয়েছে বন, কেটে ফেলা হয়েছে পাহাড়। এছাড়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির আশ্রয়ে স্থানীয় মানুষদের জীপন-যাপনেও সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রতিকূলতা। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়াটা বাংলাদেশের জন্য ‘বিরাট বোঝা’ উল্লেখ করে বান কি-মুন বলেন, “দীর্ঘ সময়ের জন্য বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব না।” জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে বিনিয়োগ করেছে, তার প্রশংসা করেন গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের চেয়ারম্যান। তবে অ্যাডাপটেশন ও মিটিগেশন যেন একসঙ্গে চলে সেটাও নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় পৌঁছে বান কি-মুন বুধবার সকালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ‘ঢাকা মিটিং অব দ্য গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানের পর যান কক্সবাজারে। উখিয়ায় ১৭ নম্বর ক্যাম্পের একটি বাড়ির ছাদ থেকে বেশ কিছুক্ষণ চারদিকের রোহিঙ্গা ক্যাম্প দেখেন বান কি-মুন। এক ঘণ্টারও বেশি সময় কুতুপালংয়ে থেকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় রওনা হন তিনি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মাতারবাড়ী ঘিরে মহাবন্দর

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ