• শিরোনাম

    ভারতে আবারও মোদি সরকার

    দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক | ২৩ মে ২০১৯ | ১০:২৭ অপরাহ্ণ

    ভারতে আবারও মোদি সরকার

    টানা দ্বিতীয়বারের মতো নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বেই ভারতের কেন্দ্রে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পাটির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। বৃহস্পতিবারের ভোটগণনায় স্পষ্ট হয়েছে, দ্বিতীয়বারের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কেন্দ্রে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে মোদির দল। এর মধ্য দিয়ে ভারতের ইতিহাসে তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা দু’বার সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবেন মোদি।

    বৃহস্পতিবার ভোটগণনার সর্বশেষ খবর অনুসারে, ৫৪২টি আসনের মধ্যে বিজেপির এনডিএ জোট এগিয়ে আছে ৩৪৮টি আসনে। গতবারের চেয়ে মাত্র ৪টি আসন কম। আর বিরোধী ইউপিএ জোট গতবারের তুলনায় ২৬টি আসনে বেশি জয়লাভ করলেও ১০০ আসন পায়নি। এবার কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন এই জোট পেতে যাচ্ছে ৯১টি আসন।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলেই স্পষ্ট হয়ে যায় গতবারের চেয়ে বেশি আসন নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি। বিজেপি একক ভাবেই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পেয়ে যাচ্ছে। যদিও মোদি আগেই সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছিলেন, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সব শরিক দলকে সরকার গঠন করবেন তিনি। অন্য দিকে সরকার গঠনের চিত্র স্পষ্ট হতেই এ বার মন্ত্রিসভার জল্পনাও শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক শিবিরে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের মতো হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলিতে ভাল ফল করেছে বিজেপি। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও উত্তর-পূর্বেও ভাল ফল বিজেপির। কংগ্রেস-কুমারস্বামীর জোট ক্ষমতায় থাকা রাজ্য কর্ণাটকেও ভাল ফল করেছে বিজেপি।

    বিহারের ৪০ আসনের মধ্যে ৩৮টিতে এগিয়ে রয়েছে মোদির দল। মহারাষ্ট্রের ৪৮ আসনের মধ্যে ৪১টিতে এগিয়ে পদ্ম ব্রিগেড। মধ্যপ্রদেশের ২৯ আসনের মধ্যে ২৮টিতে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বিজেপি। ছত্তিশগড়ে ১১ এর মধ্যে ৯টিতে এগিয়ে গেরুয়া শিবির। দক্ষিণের রাজ্যগুলির মধ্যে কর্ণাটকের ২৮ আসনের মধ্যে ২৫টিতে এগিয়ে বিজেপি। সেখানে ক্ষমতায় রয়েছে কংগ্রেস ও কুমারস্বামীর জনতা দল সেকুলারের জোট। বৃহস্পতিবার এক বছর পূর্ণ করল কংগ্রেস সরকার।

    পাঞ্জাবের ১৩ আসনের মধ্যে ৮ আসনে এগিয়ে কংগ্রেস। তামিলনাড়ুতেও এগিয়ে বিজেপি। এই রাজ্যে ডিএমকের স্ট্যালিনের সঙ্গে জোট রয়েছে তাদের। কেরালায় ২০ আসনের মধ্যে ১৯টিতে এগিয়ে তারা। পশ্চিমবঙ্গে ৪২ আসনের মধ্যে ১৯ আসনে এগিয়ে আছে গেরুয়া শিবির। ওড়িশায় চারটিতে এগিয়ে বিজেপি।

    দিল্লিতে দলের সদর দফতরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন প্রধান বিরোধী নেতা, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। নরেন্দ্র মোদীকে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে রাহুল বলেন, আমাদের লড়াই হলো ভাবধারার লড়াই। নরেন্দ্র মোদী এক ধরনের চিন্তাভাবনায় বিশ্বাস করেন, কংগ্রেস অন্য ভাবনায় বিশ্বাস করে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু এখন আমাদের এটা মেনে নিতেই হবে যে তাদের ভাবধারাই এখন জয়ী হয়েছে।

    নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর নরেন্দ্র মোদি টুইট করে ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এত তিনি বলেছেন, ভারতকে ধন্যবাদ! আমাদের জোটের প্রতি যে শ্রদ্ধা দেখানো হয়েছে তাতে আমরা আপ্লুত হয়েছি। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর জন্য এটা আমাদের আরও শক্তি জোগাবে।

    আর বিজেপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেওয়া বিজয় ভাষণে মোদি ১৩০ কোটি ভারতীয়কে প্রণাম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আজ এই ফকিরের ঝোলা পূর্ণ করে দিয়েছে দেশবাসী। এই দেশবাসীকে আমি প্রণাম করি। গণতন্ত্রের প্রতি ভারতবাসীর দায়দায়িত্ব সারা বিশ্বকে স্বীকার করার সময় হয়েছে। গণতন্ত্রের এই উৎসবে, গণতন্ত্রের জন্য যে সব মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, যে সব মানুষ আহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা জানাচ্ছি। গণতন্ত্রের ইতিহাসে গণতন্ত্রের জন্য মৃত্যু বরণ করা, আগামী প্রজন্মকে প্রেরণা দেবে।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সামান্য নাগরিকের ভাবনাও ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভোটে কোনও প্রার্থী, কোনও নেতা লড়েননি, দেশের আম জনতা লড়েছেন। যাদের চোখ-কান বন্ধ ছিল, তাদের ভাষা বোঝা আমার পক্ষে কঠিন ছিল। কিন্তু আজ আমার ভাবনা স্পষ্ট করে দিয়ছেন জনতা। তাই কেউ যদি জয়ী হয়ে থাকে, তাহলে জয়ী হয়েছে ভারতবর্ষ, জয়ী হয়েছেন দেশবাসী। সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ