• শিরোনাম

    পান চাষীদের অভিযোগ

    মহেশখালীতে ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাৎ

    দেশবিদেশ রিপোর্ট | ২৩ জানুয়ারি ২০১৯ | ২:১৬ পূর্বাহ্ণ

    মহেশখালীতে ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাৎ

    মহেশখালীর কালারমারছড়ায় অধিগ্রহণ করা জমির পানবরজের ক্ষতিপূরণের বিপুল অংকের টাকা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছে। এক্ষেত্রে প্রকৃত অনেক জমির মালিক তাদের ক্ষতিপূরণের টাকাও নিয়ে গেছে। ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কতিপয় সার্ভেয়ার ও স্থানীয় কিছু দালাল শ্রেণীর লোকজন সিন্ডিকেট করার কারনে প্রকৃত ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
    দুর্নীতির এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর ভুক্তভোগীরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এর প্রতিকার চেয়ে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর প্রতিাবাদ জানিয়ে গতকাল ২২ জানুয়ারি মঙ্গলবার কালারমারছড়ায় প্রধান সড়কে এক প্রতিবাদ সমাবেশও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
    অভিযোগ মতে, কালারমারছড়ার সোনারপাড়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করছে। অধিকাংশ জমিতে বর্তমানে পানবরজ রয়েছে। প্রায় দেড়শ পানচাষী পানবরজ চাষ করেছেন। অধিগ্রহণের আওতায় পড়ায় কর্তৃপক্ষ এসব জমি দখলে নিতে পানবরজ গুটিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
    জানা গেছে। জমি ও জমির অবকাঠামোর জন্য একর প্রতি ৬২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য্য করা হয়েছে। অবকাঠামোর হিসেবে রয়েছে পানের বরজও। টাকা ছাড় দেয়ার জন্য নোটিশ জারি করে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা। জমির মালিক ও পানবরজের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্দিষ্টভাবে ক্ষতিপূরণের টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু কিছু জমির মালিক ও ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজস করে নোটিশ গোপন করে প্রকৃত মালিকদের অগোচরে কৌশলে তুলে নেয়া হয় বিপুল অংকের টাকা। কিন্তু প্রকৃত পাওনাদারগন বঞ্চিত হয়েছেন টাকা প্রাপ্তি থেকে।
    এ বিষয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগিরা জেলা প্রশাসককে এক অভিযোগ পত্র প্রদান করেন। অভিযোগপত্র মতে, টাকা লোপাটের এই সিন্ডিকেটে রয়েছেন স্থানীয় চিকনী পাড়ার মৃত হোছন আলীর পুত্র নূরুল ইসলাম বাহাদুর, নোয়াপাড়ার মৃত ফলাতনের পুত্র আবদুল মান্না কানু, চিকনী পাড়ার ছৈয়দ আহমদের পুত্র আবদুস সালাম ও নূরুল ইসলাম, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো শাওনেয়াজ কুতুবী ও সার্ভেয়ার ফরিদুল আলম সহ অন্যান্যরা।
    এর প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল ২২ জানুয়ারি মঙ্গলবার কালারমারছড়ায় প্রধান সড়কে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। প্রায় দু’শতাধিক ভুক্তভোগী সেখানে সমবেত হন। সেখানে তারা নানা ভূমি অধিগ্রহণ শাখার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ওই স্থানীয় লোকজনের বিষোদ্গার করে নানা শ্লোগান দেন। এসময় তারা ২২ কোটি টাকা লোপাটকারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করে ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়া আকুতি জানান।
    ক্ষতিগ্রস্থরা বলেন- এত বিপুল টাকা খরচ করে করা পান বরজগুলো চলে গেলে তারা নি:স্ব হয়ে যাবেন। ক্ষতিপূরণের টাকাগুলো না পেলে তাদেরকে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।
    এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘ক্ষতিপূরণের টাকা লোপাট হয়েছে বলে স্থাœনীয়রা আমাকে জানিয়েছেন। এটা নিয়ে আমি জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলেছি। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।’
    অপরদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার গতরাতে জানিয়েছেন, যারা টাকা নিয়েছে তাদের সাথে জমির বর্গাদার ও বর্গাগ্রহীতা অর্থাৎ প্রকৃত চাষীদের মধ্যে বন্টন নিয়েই সমস্যা হয়েছে মলে মনে হচ্ছে। তবুও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। #####

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ