• শিরোনাম

    মহেশখালীতে মেয়রের হাতে কাউন্সিলার নির্মমতার শিকার

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪ এপ্রিল ২০১৯ | ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ

    মহেশখালীতে মেয়রের হাতে কাউন্সিলার নির্মমতার শিকার

    কক্সবাজারের মহেশখালী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় পৌর কাউন্সিলার ও আওয়ামী পরিবারের সন্তান এম সালামত উল্লাহ দ্বীপের যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার পুত্র পৌর মেয়রের নেতৃত্বাধীন একদল সন্ত্রাসীর হাতে বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে মহেশখালী পৌরসভার মেয়র এবং বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারি মকছুদ মিয়ার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী একই পৌরসভার কাউন্সিলার ও সংবাদকর্মী এম, সালামত উল্লাহকে তুলে নিয়ে দফায় দফায় নির্মমভাবে নির্যাতন করেন। গতকাল বুধবার বিকালে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল থেকে আশংকাজনক অবস্থায় আহত পৌর কাউন্সিলরকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।
    অভিযোগ উঠেছে, মহেশখালী পৌরসভাটিতে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারি যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সন্তান মেয়র মোঃ মকছুদ মিয়ার স্বেচ্ছাচারিতা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। মেয়রের কথামত পৌরসভার সকল কাউন্সিলারদের চলতে হয়। পৌরসভার কোন সভা-সমাবেশও হয়না। মেয়রের নির্দ্দেশেই কাউন্সিলারগন কেবল দস্তখত দিতে বাধ্য হন। পৌরসভার কোন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকাশ্য টেন্ডার না করেই গোপনে মেয়র তার আতœীয়-স্বজন দিয়ে কাজ সম্পাদন করেন।
    এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার ছিলেন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ও মহেশখালী প্রেস ক্লাবের সাধারণস সম্পাদক এম, সালামত উল্লাহ। কাউন্সিলার এম, সালামত উল্লাহ ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। আহত কাউন্সিলার গতকাল বুধবার কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে জানান-‘ আমি মেয়রের অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করায় রোষের শিকার হয়েছি। এমনকি গত ক’দিন আগে মেয়রের অন্যায়-অনিয়মের বিষয়ে আমার ফেসবুক আইডিতে একটি ষ্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। এ কারনেই মেয়র ক্ষীপ্ত হয়ে তার বাহিনী নিয়ে আমাকে মঙ্গলবার রাতে প্রেস ক্লাব সংলগ্ন একটি দোকান থেকে তুলে নিয়ে যায়।’
    আহত কাউন্সিলার আরো জানান, তাকে মেয়র নিজে এবং তার সন্ত্রাসী দলের সদস্য রুবেল, শামসুদ্দিন ও নুর হোসেন সহ আরো ক’জনে মিলে ৪ টি পৃথক স্থানে নিয়ে দফায় দফায় লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে হাতে, পায়ে ও সারা শরীরে নির্মম নির্যাতন চালিয়েছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে নির্যাতনের পর তার মৃত্যু হয়েছে মনে করে তাকে একটি স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে আতœীয় স্বজন উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।
    ঘটনার ব্যাপারে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেছেন-‘মহেশখালী দ্বীপে একজন পৌর কাউন্সিলার সন্ত্রাসী কবলিত হবার খবর শুনেছি। কেউ অভিযোগ নিলে মামলা রেকর্ড করার নির্দ্দেশনা আমি ওসিকে দিয়েছি।’ মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন-‘একজন সংবাদকর্মী এবং কাউন্সিলারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।’
    ঘটনার ব্যাপারে এলাকার এমপি আশেক উল্লাহ রফিক বলেন- ‘আমি বর্তমানে ঢাকায় রয়েছি। বিষয়টি শুনেছি। অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আহত কাউন্সিলারের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব আমি নেব এবং ব্যাপারটি আমি দেখব।’
    এদিকে এতবড় একটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটার পরেও থানায় কাউন্সিলারের পরিবারের পক্ষেও কেউ ভয়ে একটি অভিযোগ নিয়ে যাচ্ছে না। দ্বীপের সংবাদকর্মীরা বলেন, আমরাও যুদ্ধপরাধী পরিবারের ভয়ে তটস্থ। মেয়রের নেতৃত্বে কে কখন আবার আক্রান্ত হয়ে বসে বলা যায়না। মহেশখালী পৌরসভার মেয়রের ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও সাহস করছেন না।
    খোদ দ্বীপের একজন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন-‘আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে আর ক’টা দিন নিরাপদে থাকার মত অবস্থায় থাকতে দিন। এ বিষয়ে কিছুই আমার কাছে জানতে চাইবেন না। আমার নিরাপত্তার অভাব রয়েছে।’ এ বিষয়ে নির্যাতিত ওয়ার্ড কাউন্সিলারের স্ত্রী জুলেখা আকতার গতকাল রাতে বলেন-‘আমি বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় মেয়র মকছুদ মিয়া সহ আরো কয়েকজনের ব্যাপারে অভিযোগ নিয়ে থানায় এজাহার জমা দিয়েছি।’ ওসি জানান, এজাহার পেয়েছি-আমি ব্যবস্থা নেব।
    জানা গেছে, মহেশখালী পৌরসভা অফিস সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মেয়র মকছুদ মিয়া হচ্ছেন এক দাপুটে পরিবারের সদস্য। তাঁর (মেয়র) প্রয়াত বাবা হাশেম সিকদার ছিলেন মহেশখালী দ্বীপের শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান এবং যুদ্ধাপরাধী মামলার আসামী। মেয়রের জ্যেষ্ট ভাই মহেশখালী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি। যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সন্তান মেয়র মকছুদ কৌশলে কয়েক বছর আগে আওয়ামী লীগে ঢুকে পড়েন। পরবর্তীতে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদও বাগিয়ে নেন তিনি।
    গতকাল মহেশখালী পৌরসভার ৪ জন পৌর কাউন্সিলারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের তিনজনই প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়ে মেয়র সর্ম্পকে ভয়ে কোন তথ্য দিতেই অসন্মতি প্রকাশ করেন। তারা জানান, মেয়র সর্ম্পকে কোন কিছুই আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। তবে মহেশখালী পৌরসভার মেয়র মোঃ মকছুদ মিয়া বলেন-‘এসব অভিযোগ ডাহা মিথ্যা। আমি কাউকে কোন নির্যাতন করিনি। কাউন্সিলার সালামত উল্লাহ হয়তোবা কোন অনৈতিক কাজে জড়িত হতে গিয়ে প্রহৃত হয়ে থাকতে পারেন।’ মহেশখালী দ্বীপের সংবাদকর্মী এম, সালামত উল্লাহ মেয়রের হাতে নির্মমতার শিকার হবার প্রতিবাদে বুধবার সনন্ধ্যায় দ্বীপের প্রেস ক্লাবে সংবাদকর্মীরা এক প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়েছেন।
    প্রসঙ্গত গত ৬ মাস আগে মহেশখালী পৌরসভার মেয়র মোঃ মকছুদ মিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যয়নরত পুত্র নিশান কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবার চালান নিয়ে রাজধানী ঢাকায় গ্রেফতার হন। এখনো পর্যন্ত সেই পুত্র কারাগারে আটক রয়েছেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ