• শিরোনাম

    মানব পাচারকারী দালাল চক্র বেপরোয়া

    শফিক আজাদ,উখিয়া | ০২ মার্চ ২০১৯ | ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

    মানব পাচারকারী দালাল চক্র বেপরোয়া

    উখিয়ার উপকূলীয় সাগর পথ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদম পাচার কাজে জড়িত রয়েছে রোহিঙ্গাসহ দেড় শতাধিক স্থানীয় ও বহিরাগত দালাল। উপকূলীয় এলাকায় নিয়োজিত আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে দালালরা দেশের বিভিন্ন এলাকার সহজ সরল লোকজনদের মালয়েশিয়ায় সোনার হরিণ ধরার প্রলোভন দেখিয়ে উখিয়া উপকূলে জড়ো করে মানব পাচার অব্যাহত রেখেছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন মাঝে-মধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু কিছু মালয়েশিয়াগামীকে আটক করলেও রহস্য জনক কারনে মূল হোতারা থেকে যায় ধরা ছোয়ার বাইরে। এছাড়া পুলিশের হাতে আটক হওয়া মালয়েশিয়াগামী যাত্রীদের বিরুদ্ধে মামলা না করে ছেড়ে দেওয়ায় এবং চিহ্নিত দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন না করায় মানব পাচার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
    সুত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের রেজু ব্রিজ মোহনা দিয়ে স্থানীয় মাহমবুব আলমের সহযোগীতায় পশ্চিম সোনাইছড়ি গ্রামের ইসলাম মিয়ার ছেলে শামশুল আলম সোহাগ ও মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে রোস্তম আলী, চেপটখালী গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান সিকদারের ছেলে ফয়েজ আহমদ, শরীফ আহমদের ছেলে আবুল কালাম, সোনারপাড়া গ্রামের মৃত কাদির হোছনের ছেলে কালা জমির, মৃত ছালেহ আহমদের ছেলে মুফিজ, লম্বরীপাড়া গ্রামের ইসলাম মিয়ার ছেলে বেলাল উদ্দিন, জুম্মা পাড়া গ্রামের মৃত কবির আহমদের ছেলে আবদুস সালাম ও নিদানিয়া গ্রামের ছৈয়দ হোছনের ছেলে রফিক উল্লাহ বিভিন্ন এলাকা লোকজন জড়ো করে আবারো মালয়েশিয়ায় পাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
    স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, এক সময়ের জেলে চেপটখালী গ্রামের ফয়েজ আহমদ ও আবুল কালাম বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে মালয়েশিয়া আদম পাচার করে। ফয়েজ উখিয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় একটি আলিশান বাড়ীও নির্মাণ করেছে। আর আবুল কালাম উখিয়ার সিকদারবিল এলাকায় জায়গা ক্রয় করে কোটি টাকা দিয়ে বাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দালালদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
    বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, উপকূলের সাগর পথ দিয়ে মালয়েশিয়া মানব পাচার হঠাৎ বেড়ে চলেছে। রোহিঙ্গা সহ ১৫০ জন দালাল মানব পাচারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও তারা থেকে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কিছু কিছু দালাল পুলিশের হাতে আটক হলেও তারা আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে জামিনে এসে পুরোদমে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। উখিয়া ও টেকনাফ থানা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোষ্টগার্ড ও ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে সমুদ্র উপকূল ও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২শতাধিক মালয়েশিয়াগামী যাত্রীকে আটক করেছে। মানব পাচারের ঘটনায় উখিয়া-টেকনাফ থানায় একাধিক মামলা থাকলেও মূল হোতারা রয়েছে ধরাছোয়ার বাইরে।
    অনুসন্ধানে জানা যায়, গেল ১ বছরে দালাল চক্রের সদস্যরা উখিয়ার জালিয়াপালং, রতœাপালং, হলদিয়াপালং, রাজাপালং ও পালংখালী ইউনিয়ন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৫সহস্রাধিক মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মালয়েশিয়া পাচার করেছে। তৎমধ্যে শতাধিক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৈধ ভাবে একজন মানুষ মালয়েশিয়া গমন করতে কমপক্ষে ৩লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। কিন্তু দালালের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে সাগর পথে অল্প টাকায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার কথা বললেও যাত্রীরা মালয়েশিয়া পৌছলে তাদের বন্দিশালায় আটকে রেখে স্বজনদের কাছ থেকে দালালরা আদায় করছে বিপুল পরিমাণ টাকা। উখিয়ার উপকূলীয় সমুদ্র সৈকতটি সরাসরি বঙ্গোপসাগরের সাথে সংযুক্ত থাকায় মালয়েশিয়া মানব পাচারের নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। বিশেষ করে উখিয়ার ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক একাধিক দালাল চক্র মালয়েশিয়া মানব পাচারের সাথে সরাসরি জড়তি রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। সরকার মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ প্রজ্ঞাপন আকারে জারী করলেও উখিয়া-টেকনাফে এ আইনের কার্যকারিতা নেই বললে চলে। সচেতন মহলের মতে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং পাচারের সাথে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হলে মানব পাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।
    মালেয়েশিয়া মানব পাচারের সাথে যারা জড়িত ঃ
    কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পের আলী আহম্মদের ছেলে দিল মোহাম্মদ (৩৮), আমিন উল্লাহ প্রঃ নাগুর ছেলে মোঃ ফারুক (১৯), শামশুল আলমের ছেলে জোবাইর হোসেন (২০), টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে নুর হোছন (২৪), মৃত জমির হোসনের ছেলে মোঃ নাগু (৩৫), নাজির পাড়া গ্রামের মৃত মনি উল্লাহর ছেলে কামাল (৩০) কক্সবাজার কালুর দোকান এলাকার রোহিঙ্গা মোঃ জুহারের ছেলে মনজুর আহম্মদ (১৮), মৃত কালা মিয়ার ছেলে কাশেম (৪০), জাহিদ হোছনের ছেলে আবুল কালাম (২৬), চট্টগ্রাম কর্ণফুলি চিরার টেক গ্রামের রোহিঙ্গা মোঃ আজিম (৩৬), কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পের সেকান্দরের ছেলে আবু ছৈয়দ (২৬), আবু ছিদ্দিক (৩০), মৃত ফোরকান আহম্মদের ছেলে রবিউল আলম (২২) মৃত ফারুক আহম্মদের ছেলে ছৈয়দ আমিন (২৭), হাছু মিয়ার ছেলে হামিদ হোসেন (২২), জাফর আহম্মদের ছেলে আরিফ উল্লাহ (২০), শফি উল্লাহর ছেলে ছৈয়দ কাশেম (১৯), কামাল হোছনের ছেলে রশিদ উল্লাহ (২০), উলা মিয়ার ছেলে মোঃ কালু (২০), সোনার পাড়া গ্রামের মৃত কাদের হোছন বৈদ্যর ছেলে নুরুল কবির (৪০), মনখালী এলাকার ফয়েজ ও আবুল কালাম। রামু দারিয়ারদিঘি গ্রামের মৃত নজির আহম্মদের ছেলে মফিজুর রহমান (৩৫), গোয়ালিপালং এলাকার অন্যতম মানবপাচার ও ইয়াবা গডফাদার মোস্তাক আহমদ।
    উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের বলেন, এলাকার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মানব পাচার প্রতিরোধে পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে। সম্প্রতি উখিয়ার উপকূলে অভিযান চালিয়ে ২০জন মালয়েশিয়াগামীকে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ