• শিরোনাম

    মামলার ভারে ন্যুব্জ প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম

    দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

    মামলার ভারে ন্যুব্জ প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম

    >> আদালতে দায়ের হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার মামলা
    >> প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের মামলাই বেশি
    >> পেশাগত আন্তরিকতা গড়ে উঠছে না কর্মকর্তাদের মধ্যে
    >> ‘আদালতের রায়ের ওপরই আমাদের নির্ভর করতে হচ্ছে’
    মামলার ভারে হিমশিম খাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) সার্বিক কার্যক্রম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নিয়ে জটিলতা, শিক্ষকদের মধ্যে গ্রেড ও বেতন বৈষম্য, দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হওয়া, নিয়োগ-বদলিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আদালতে প্রায় পাঁচ হাজার মামলা দায়ের রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার ভারে এ প্রতিষ্ঠানের অনেক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। যার প্রভাব মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমেও পড়ছে।

    ডিপিই’র আইন শাখা থেকে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে সারাদেশে চার হাজার ৭৮৭টি রিট-মামলা রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাই বেশি। জাতীয়করণ কার্যক্রম শুরুর পর অনেকে নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে জাতীয়করণের জন্য আদালতের স্মরণাপন্ন হন।

    ২০১৩ সালের আগে অনেক শিক্ষক চাকরি ছেড়ে দিলেও জাতীয়করণ হওয়ার পর তারা নতুন করে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে বিদ্যমান শিক্ষক দেখিয়ে জাতীয়করণের দাবিতে মামলাও দায়ের করেন।

    এমনও দেখা গেছে, চার ক্যাটাগরিতে ২৬ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হলেও এর মধ্যে ডিপিই অনুমোদিত বিদ্যালয়ে দায়িত্বরত প্রধান শিক্ষকদের স্বপদে জাতীয়করণ করা হয়েছে। অথচ নিবন্ধিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সহকারী শিক্ষক হিসেবে জাতীয়করণ করা হয়। স্বপদে জাতীয়করণের দাবিতে তারা সম্মিলিতভাবে আদালতে কয়েকটি মামলা দায়ের করেন।

    অন্যদিকে, বিসিএস পরীক্ষায় ননক্যাডার থেকে নিয়োগ পাওয়া প্রধান শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন-ভাতা দেয়া হলেও দশম গ্রেড বা দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দেয়ার জন্য তারা মামলা করেছেন।

    এছাড়া জাতীয়করণের আগে চাকরির সময়কালের অর্ধেক সময় ধরে শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ণয় করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষকরা শতভাগ সময়সীমা দাবি করে মামলা করেন।

    জানা গেছে, ডিপিই’র বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত উপপরিচালকরা ২০ বছরের অধিক সময় ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতি না হওয়ায় বা পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি না পাওয়ায় অনেকে মামলা দায়ের করেছেন।

    এদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘দাপ্তরিক কাম নৈশপ্রহরী’ নিয়োগ কার্যক্রমে সংসদ সদস্যদের নিয়োগ কমিটির প্রধান করা হয়। এ নিয়োগ কার্যক্রমে অর্থ আদায় করে অনেক প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অনেকে অর্থ দিয়ে চাকরি পাননি- এমন অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের হওয়ায় এ নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।

    সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ডিপিই’র অধীন বিভিন্ন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে বা মেয়াদ শেষের পথে- এমন প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে নিয়োগ, বিভিন্ন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হলেও সেই বদলি ঠেকাতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া কর্মচারীদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ স্থগিত রয়েছে।

    ডিপিই’র কর্মকর্তারা জানান, ১৯৮১ সালে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় হিসেবে দায়িত্ব পায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর এ মন্ত্রণালয় সব কার্যক্রম পরিচালনা করে আসলেও এখন পর্যন্ত একটি গ্রহণযোগ্য নিয়োগ বিধিমালা তৈরি করতে পারেনি। ফলে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে অনেক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত হচ্ছেন। অসন্তোষ হয়ে তারা আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করছেন। তাদের মামলার কারণে পদোন্নতি কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

    তারা আরও জানান, ১৯৮২ সালে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা পরিচালনা করতে কিছু পদ সৃষ্টি করা হয়। ১৯৮৯ সালে ক্যাডারবিধি সংশোধন করে নিয়োগবিধির মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার তৈরির বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণে উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, পিটিআই সুপার, সহকারী সুপার, জেলা ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, অধিদফতরে শিক্ষা কর্মকর্তার গবেষণা অফিসার, পরিসংখ্যান কর্মকর্তাসহ প্রথম শ্রেণির ১২টি পদে সরাসরি নিয়োগ দেয়া হয়।

    ডিপিই’র কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন ধারায় নিয়োগ পাওয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে পেশাগত আন্তরিকতা গড়ে উঠছে না। একজন আরেকজনকে সহযোগিতা না করে প্রতিযোগী ভাবছেন। অনেকে ২০ বছরের অধিক সময় ধরে একই পদে থেকে যাচ্ছেন। এ কারণে কাজের প্রতি গুরুত্ব ও দায়বদ্ধতা থাকছে না। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলেও স্থায়ী কোনো উন্নতি বা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ অনেকের।

    এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিপিই মহাপরিচালক এ এফ এম মঞ্জুর কাদির বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার কিছু কিছু স্থানে ত্রুটি আছে। এসব চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ খাতে কাজের পরিধি যত বাড়ছে মামলার সংখ্যাও তত বাড়ছে। এসব মামলার জন্য স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’

    মহাপরিচালক আরও বলেন, পর্যাপ্ত পদ সৃজন না থাকায় অনেক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারা আদালতে গিয়ে মামলা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মামলা পরিচালিত হওয়ায় প্রক্রিয়াগত কারণে এসব সমস্যা সহজেই সমাধান করা যাচ্ছে না। এছাড়া নিয়োগ, বদলি, জাতীয়করণসহ বিভিন্ন মামলাও দায়ের হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, প্রতিনিয়ত মামলার সংখ্যা বাড়ছে। এ কারণে অধিদফতরের আইন শাখার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। সেখানে তিনজন আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা এসব মামলা নিয়ে কাজ করছেন।

    ‘মামলার বিষয়গুলো আদালতের ওপর ন্যস্ত থাকায় রায়ের ওপরই আমাদের নির্ভর করতে হয়। এ কারণেও সবকিছু সময় মতো করা সম্ভব হচ্ছে না’- যোগ করেন তিনি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মাতারবাড়ী ঘিরে মহাবন্দর

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ