• শিরোনাম

    ডাঃ ফরহাদকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠিত

    রোগির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সদর হাসপাতালে ভাঙচুর

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫ এপ্রিল ২০১৯ | ২:৪১ পূর্বাহ্ণ

    রোগির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সদর হাসপাতালে ভাঙচুর

    রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভাঙচুর করেছেন স্বজনেরা। এ সময় ডাঃ ফাহিম নামে হাসপাতালের এক আবাসিক চিকিৎসকও লাঞ্ছনার শিকার হন। গতকাল ৪ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
    জানা গেছে, গতকাল দুপুরে পেট ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে যান শহরের সমিতি পাড়ার যুবক আনোয়ার (৩৫)। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য ওয়ার্ডে রেফার করেন জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক। ওয়ার্ডের আবাসিক চিকিৎসক এসে আনোয়ারকে একটি ব্যথানাশক ইনজেকশন দেয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়।
    চিকিৎসকের ভুলের কারণে আনোয়ারের মৃত্যু হয়েছে। এই দাবি করে হাসপাতালের ভেতরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তার স্বজনেরা। একপর্যায়ে তাঁরা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ফাহিমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে আটকে রাখেন। ওই সময় নিহত আনোয়ারের বিক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালের কয়েকটি কাঁচের জানালা ভাঙচুর করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
    চিকিৎসকের লাঞ্ছিত হওয়াকে কেন্দ্র করে একদল ইন্টার্ন চিকিৎসক হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এই ঘটনার সুরাহা না হলে হাসপাতালের আবাসিক রোগীদের কোন ধরনের সেবা দেয়া হবেনা বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করতে থাকেন তারা। এমনকি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রবেশ করে জোরপূর্বক চিকিৎসা কার্যক্রমও বন্ধ করে দেন। কয়েকজন অন্তঃসত্তা মহিলাকে হাসপাতাল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয় বলেও এই প্রতিবেদককে জানান চিকিৎসাধীন এক মহিলার স্বামী। একদল ইন্টার্ন চিকিৎসক ওয়ার্ডে প্রবেশ করে এই নির্দেশ দেন বলেও জানান তিনি।
    সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদককে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত ডাঃ প্রসেনজিৎ ওয়ার্ডগুলোতে সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় জরুরী বিভাগে সেবা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
    হাসপাতালে অধ্যয়নরত জেকসন নামে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক জানিয়েছেন, অগ্ন্যাশয় (পেনক্রেয়াস) এ তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন নিহত আনোয়ার। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর ডেথ ফাইল প্রস্তুত করার সময় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা নিহতের স্বজনদের বুঝানোর চেষ্টা করেন তাঁদের ভুলের কারণে আনোয়ারের মৃত্যু হয়নি। ওই সময় নিহতের স্বজনেরা ফাইলের ছবি তুলার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে ৩০-৪০ জন লোক এসে ডাঃ ফাহিমের উপর হামলা চালান। এই ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে বলেও জানান জেকসন।
    এদিকে, হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় সৃষ্ট সমস্যার কারণ চিহ্নিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাঃ ফরহাদ হোসেনকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটির প্রতিবেদন পেশ করার পর এ ধরনের ঘটনার পুুনরাবৃত্তি রোধে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই তথ্য দিলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ বিধান পালন।
    রাতে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, সন্ধ্যা সোয়া ৭ টা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ডিউটিতে থাকার জন্য সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। ডাঃ বিধান পাল আরো বলেন, আজকের (গতকালের) ঘটনা দুঃখজনক। কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নিবেন। সেটি কাম্য হতে পারে না। তদন্তে চিকিৎসকদের গাফেলতি প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ