• শিরোনাম

    রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দূষিত বর্জ্যে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

    শফিক আজাদ,উখিয়া | ১০ মে ২০১৯ | ১১:৫৭ অপরাহ্ণ

    রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দূষিত বর্জ্যে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

    কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ার বালুখালী পানবাজারের দক্ষিণে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পূর্ব পাশের্^ যতদূর দৃষ্টি যায়, ততদূর চোঁখে পড়ে জ¦লছে যাওয়া বোরো চাষাবাদ। এই চাষের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বালুখালী খালের কালো দূষিত বর্জ্য ফসলের সাথে মিশে যাওয়ায় এই ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তবে এ ক্ষতি থেকে বাঁচতে ফসলে অনেক ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন রক্ষা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেনু ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা।
    সরজমিন উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা পালংখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন প্রকার মল-মূত্র ও দূষিত বর্জ্য ক্যাম্প থেকে সরাসরি চলে যাচ্ছে পাশ^বর্তী স্থানীয়দের ফসলি জমি ও ক্ষেত-খামারে। যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মূখোমূখী হয়ে পড়েছেন স্থানীয় হতদরিদ্র কৃষকেরা। অভিযোগ উঠেছে রোহিঙ্গার কারনে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয়দের সহায়তার জন্য বিভিন্ন এনজিও সংস্থা প্রতিশ্রুতি ও আশ^াস দিয়ে আসলেও থেমন কোন উল্লেখ্যযোগ্য সহায়তা বা সহযোগিতা পায়নি বলে স্থানীয়দের দাবী।
    এ উপজেলার বালুখালী এলাকার সোনা মিয়া জানান, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারনে আমাদের বাপ-দাদার দিনে ভোগ দখলীয় বিভিন্ন কৃষি চাষাবাদের জমি হারিয়ে ফেলেছি। এমনকি অনেকে নিজ বসতভিটাও হারানোর আতঙ্কে রয়েছে। সেই থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয়দের বিভিন্ন সহযোগিতার বাণী শুনিয়ে আসলেও মূলতঃ এসব ছিল প্রতারণার ফাঁদ।
    ওই এলাকার নুরুল আমিন ভুট্টো জানান, তার ২ একরের বেশি ফসলি জমি রোহিঙ্গার বর্জ্যে জ¦লছে গেছে। এই চাষাবাদের আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু এক টাকাও পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি অভিযোগ করে জানান, বিভিন্ন এনজিও সংস্থা বালুখালী খালটি খননের কথা বলে অনেক টাকা পয়সা আত্মসাৎ করেছে। কিন্তু খননের কাজ হয়নি। যার কারনে খালের দু’পাশ দিয়ে ক্যাম্পে বর্জ্যে চাষবাদের মিশে যাওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতির সম্মূখীন হয়েছে। তার মতে, ওই এলাকায় অন্তত ৫০ একরের বেশি জমির ধান নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
    একই ভাবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে জামতলিতে বোরো চাষাবাদ। জামতলি আর শফিউল্লাহটাকা ক্যাম্পের মাঝখানে একটি বিশাল সমতল ভূমি রয়েছে। ওই জমিতে বোরো চাষাবাদ করেছে মোঃ কালু নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি। সে ৫ একরের বেশি জমিতে চাষবাদ করেছে, কিন্তু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন মল-মুত্র জমিতে পড়ায় এসব ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে । এভাবে শফিউল্লাহকাটায় অন্তত শতাধিক একর জমির ধান জ¦লছে গেছে বলে সে দাবী করেছেন।
    পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গার আসার পর থেকে সব ক্ষেত্রে মারাত্মক ভাবে প্রভাব পড়েছে। তৎমধ্যে বিশেষ করে কৃষি জমি। এলাকার হতদরিদ্র কৃষকেরা সহায়-সম্বল পুঁজি দিয়ে যে সমস্ত চাষাবাদ করেছে তাও রোহিঙ্গার বর্জ্যে শেষ হয়ে গেছে। ইতিপূর্বে যে সমস্ত কৃষি শাক-সবজি চাষাবাদ করত তাও রোহিঙ্গারা দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে বলতে স্থানীয়রা চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিন যাপন করছে।
    উখিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় কৃষি জমিতে বিভিন্ন দূষিত বর্জ্যের কারনে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আগে সতর্ক থাকলে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যেত ফসলকে, তবে এখন আর শত চেষ্টা করেও ফসল বাঁচানো সম্ভব নয়। কি পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ