• শিরোনাম

    বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আতংকিত পর্যটকদের ছুটাছুটি

    শরণ-সৈকতে অভিযানের নামে কউক-গণপূর্তের তান্ডব

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২১ মে ২০১৯ | ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ

    শরণ-সৈকতে অভিযানের নামে কউক-গণপূর্তের তান্ডব

    কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ- কঊক এর মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খেলো সর্বদা অনিয়ম- দূর্নীতে নিমজ্জিত কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগ। গণপূর্তের অসাধু কর্মকর্তা- সংবাদকর্মীর সমন্বয়ে গঠিত চাঁদাবাজ চক্রের আসন্ন ঈদ বাণিজ্যের চাঁদার মিশন ব্যর্থ হওয়ায় সওয়ার হয়েছে কঊকের উপর। কউক গণপূর্তের কর্তার হিংসার অভিযোগ সাত-পাঁচ না ভেবে গ্রহণ করে শরণ ও সৈকত আবাসিক এলাকায় যৌথ উচ্ছেদের নামে তান্ডব চালিয়েছে। অবৈধ উচ্ছেদের নামে কউক শরণ আবাসিক এলাকায় প্রায় ১৫ বছর আগে নির্মিত ড্রিম গেস্ট হাউজে নজির বিহীন তান্ডব চালিয়েছে। গণপূর্তের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাসুদ মোল্লার ব্যক্তিগত পাওয়া না পাওয়ার হিংসার হাতুড়ির আঘাতে ভেঙ্গে ছারখার হয়েছে ড্রিম গেস্ট হাউজ। শুধু তাই নয়- শরণ ও সৈকতের প্রায় দু’শতাধিক হোটেল-কটেজের আকস্মিক বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নজির বিহীন ভয়ের অবতারনা সৃষ্ঠি করে অভিযান পরিচালনাকারী কউক। গতকাল ২০ মে সকাল ১০ টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত কউক পর্যটকদের নিরাপদ স্থান খ্যাত হোটেল মোটেল জোনে পর্যটক ভীতির টানা চার ঘন্টার এ অভিযান পরিচালনা করে কউক। এ সময় প্রায় দু’শতাধিক হোটেল-কটেজে অবস্থানকারী আতংকিত প্রায় দেড় হাজার পর্যটক ভয়- আতংকে দিগ-বিদিগ ছুটোছুটি করে। অনেক আতংকিত পর্যটক গতকাল কক্সবাজার ছেড়ে চলে যান। এদিকে অভিযানের পর এ রিপোর্ট লেখার সময় গতকাল রাত ১১ টা পর্যন্ত ব্ল্যাক আউট ছিল পুরো কটেজ জোন।
    অভিযোগ ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়- আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে কক্সবাজার গণপূর্তের চিহ্নিত অসাধু কর্তা ও মুখচেনা সংবাদ কর্মী সিন্ডিকেট কয়েক লাখ লাখ টাকার চাঁদার মিশনে নামে শরণ ও সৈকত আবাসিক প্লট এলাকায়। যৌথ চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট প্রায় ১৫ দিন আগে প্রথমে টার্গেট করে কানাডা প্রবাসী হোটেল ড্রিম গেস্ট হাউজের মালিক দিদারকে। ভবনের চতুর্থ তলার সংস্কার কাজ নিষ্কন্ঠক করতে তাঁর কাছ থেকে চক্রটি বিভিন্ন দপে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। প্রবাসী দিদার তা দিতে অস্বীকার করায় চক্রটি বিগত ১৫ মে ড্রিম গেস্ট হাউজে গিয়ে পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অনেকটা গায়ে পড়ে ঝগড়া বাঁধায়। পরে তিলকে তাল বানিয়ে গণপূর্তের সিন্ডিকেট কর্তা বাদি হয়ে প্রবাসি দিদারকে আসামী করে সদর থানায় একটি মামলা করে। পরে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
    এদিকে শরণ বহুমুখি সমবায় সমিতির সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল আলম জানান- বেশ কিছুদিন ধরে গণপূর্তের কর্তা, কতিপয় সাংবাদিক ড্রিম গেস্ট হাউজে গিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিল। পাশাপাশি মেয়ের বাহনাও করে। এতে গেস্ট হাউজের মালিক দিদার তা দিতে অস্বীকার করায় কল্পকাহিনী সাজিয়ে এই তান্ডব। সৈকত আবাসিক সমবায় সমিতির সভাপতি ও জেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা জানান-জেলা প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে গণপূর্তের মিথ্যা তথ্যে কউক পবিত্র রমজান মাসে অহেতুক অভিযান চালিয়েছে। শরণ- সৈকতে যারা স্থাপনা করেছে, তারা কোন ক্রমেই অবৈধ নয়। অবৈধ হলে তারা এতদিন থাকতে পারত না। যেহেতু শরণ ও সৈকতের বিষয়াদি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, সেহেতু অভিযান না চালিয়ে আদালতের প্রতি সম্মান দেখানো কউকের অবশ্যই দরকার।
    এদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান-গতকাল ২০ মে সকাল ১০ থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর রাশেদ এর নেতৃত্বে কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগ, র‌্যাব-১৫, জেলা পুলিশ, বিদ্যুৎ বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় কক্সবাজার শহরের সৈকতপাড়া এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
    এ সময় সৈকতপাড়া এলাকার আলহাজ¦ দিদারুল আলম কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের প্লটে অনুমোদনবিহীন ড্রীম গেস্ট ইন নামের ০৫ তলা ভবন নির্মাণ করায় ৪র্থ ও ৫ম তলার ইটের গাথুনি ভেঙ্গে দেয়া হয়। এছাড়া সৈকত আবাসিক এলাকায় অনুমোদন বিহীন ভবন নির্মাণ করায় আরো ৪টি ১তলা বিল্ডিং ভেঙ্গে দেয়া হয়। উক্ত অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন কউকের অথরাইজ্্ড অফিসার ও উপনগর পরিকল্পনাবিদ এবং উপসহকারী প্রকৌশলীসহ অন্যান্যরা।
    এ ব্যাপারে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে: কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ বলেন, পরিকল্পিত পর্যটন নগরী বাস্তবায়নে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ