• শিরোনাম

    ধর্মঘটে বিনা চিকিৎসায় শিশুসহ চার রোগীর মৃত্যু

    স্বাভাবিক অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতাল

    শহীদুল্লাহ্ কায়সার | ০৯ এপ্রিল ২০১৯ | ১:২১ পূর্বাহ্ণ

    স্বাভাবিক অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতাল

    ফাইল ছবি

    সমিতি পাড়ার আনোয়ারের মৃত্যু দিয়ে শুরু হওয়া কর্মবিরতি ৫ মাস বয়সি শিশু সাইফুলের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হলো । শ^াসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত পাঁচ মাস বয়সী শিশু সাইফুল ইসলামকে বাঁচানো গেলো না। শিশু সাইফুলসহ ৪ দিনের কর্মবিরতিতে বিনা চিকিৎসায় মৃতের সংখ্যা ৪ জনে দাঁড়ালো।
    চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা হয়নি দরিদ্র মা-বাবার সন্তান সাইফুলের। এ কারণে ৭ এপ্রিল মা-বাবার সঙ্গে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল ৮ এপ্রিল শিশু সাইফুল মারা যায়। শিশু সাইফুল চিকিৎসকদের ৪ দিনের কর্মবিরতিতে বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়া শেষ মানবসন্তান।
    এ দিকে, চারদিন পর চিকিৎসকরা কর্মবিরতির কর্মসূচি প্রত্যাহার করায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল। গতকাল একদিনেই প্রায় ১’শ নতুন রোগি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে ভর্তি হয়েছে। সকাল থেকেই নিয়মিত চিকিৎসকদের পাশাপাশি শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসকরা যোগ দিয়েছেন চিকিৎসা কার্যক্রমে। ফলে গতকাল থেকে হাসপাতালে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
    ৭ এপ্রিলও যে ডেলিভারি ওয়ার্ডে ১ জন অন্তঃসত্তা রোগিকেও ভর্তি করানো হয়নি। সেখানেই গতকাল ১৯ জন রোগি ভর্তি করানো হয়। সকালে একজন নারীকে অস্ত্রোপচার (সিজার)’র মাধ্যমে সন্তান প্রসবে সহায়তা করেন এক গাইনি এন্ড অব্স চিকিৎসক। এই তথ্য জানিয়েছেন কর্তব্যরত এক সিনিয়র স্টাফ নার্স।
    জরুরী বিভাগ থেকে শুরু করে অন্য ওয়ার্ডগুলোতেও নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে অন্যান্য সাধারণ দিনের মতো গতকালও ইন্টার্ন চিকিৎসক নির্ভর ছিলো পুরো সদর হাসপাতাল। সরকারি চাকরিজীবী অধিকাংশ নিয়মিত চিকিৎসক বরাবরের মতোই ছিলেন অনুপস্থিত। সকালে কয়েকজন চিকিৎসক ওয়ার্ডেগুলোতে গিয়ে রোগিদের চিকিৎসা দিয়ে আসেন। তবে, বিকেল ৫ টা পর্যন্ত দ্বিতীয় শিফটে দায়িত্ব পালনকারী অধিকাংশ চিকিৎসকই হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেননি।
    উল্লেখ্য, পেটে ব্যথা নিয়ে ২ এপ্রিল কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হন আনোয়ার নামে শহরের সমিতি পাড়ার এক বাসিন্দা। গত ৪ এপ্রিল কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। চিকিৎসকরা একটি ইনজেকশন দেয়ার পরই আনোয়ারের মুত্যু হয়।
    এরপর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সহায়তায় ডাঃ ফাহিম ডেথ ফাইল প্রস্তুত করতে গেলে নিহত আনোয়ারের স্বজনদের সঙ্গে হাতাহাতি হয়। আনোয়ারের স্বজনরা ডাঃ ফাহিম ডেথ ফাইল পরিবর্তন করে ভুল চিকিৎসায় আনোয়ারের মৃত্যুকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করতে পারেন। এই সন্দেহে ডাঃ ফাহিমের উপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে হাসপাতালের কয়েকটি কাঁচের জানালাও ভাঙচুর করেন তারা। ওই ঘটনার পর থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়া ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। তাদের সঙ্গে নিয়মিত চিকিৎসকরাও সদর হাসপাতালে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ৭ এপ্রিল রাতে যে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয় বিএমএ।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ