• শিরোনাম

    আন্দোলনে কোনঠাসা চিকিৎসক

    হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক

    নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ | ১২ এপ্রিল ২০১৯ | ১:৪২ পূর্বাহ্ণ

    হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক

    চিকিৎসকদের আন্দোলনের পর এবার কক্সবাজার শহরে শুরু হলো সাধারণ মানুষের আন্দোলন। নিহত আনোয়ারের পিতা জাফর আলম তাঁর সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণাপূর্বক মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
    কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিতেই শুরু হলো এই আন্দোলনে। গতকাল এই দাবিতে সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে হয়ে গেলো মানববন্ধন। আমরা কক্সবাজারবাসীর ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন।
    যেখানে জেলার সর্বস্তরের মানুষের চিকিৎসার নামে চিকিৎসকদের বাড়াবাড়ির নিন্দা জানান। পাশাপাশি হাসপাতাল ভাঙচুরের অপরাধে আরএমও শাহীন আবদুর রহমান কর্তৃক দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তাঁরা। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনতা এই মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে চিকিৎসকদের কর্মবিরতির নিন্দা জানান।
    এদিকে, প্রথমদিকে চিকিৎসকরা আন্দোলনে বেশ সোচ্চার হলেও বর্তমানে সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলনের মুখে নমনীয় তাঁরা। ইতোমধ্যে হাসপাতাল পরিচালনায় আনা হয়েছে পরিবর্তন। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত)’র স্থলে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ফৌজদার হাট বক্ষব্যাধি হাসপাতালের প্রধান ডাঃ মহিউদ্দিন এবং সহকারি পরিচালক পদে ডাঃ রফিকুস সালেহীন ইমুকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী ডাঃ রফিকুস সালেহীন ইমু ইতোমধ্যে নতুন পদে যোগদান করেছেন।
    গতকাল বিকেলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে আগের সেই সদর হাসপাতাল নেই। সবকিছুই পরিপাটি। চিকিৎসক থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পর্যন্ত সবাই বেশ তৎপর। পুরো হাসপাতালের পরিবেশ পাল্টে গেছে। তিন দিন আগেও যেখানে রোগীদের ওয়ার্ডে রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়েছিলো। রোগী ছিলে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ জন। সেখানে বর্তমানের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো রোগিতে পরিপূর্ণ। তিন শতাধিক রোগী ওয়ার্ডগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পঞ্চম তলার সার্জারি ওয়ার্ডে রোগির জন্য শয্যা (বেড) না থাকায় বাইরে অতিরিক্ত বিছানা দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সরকারি চিকিৎসকরাও নিয়মিত ওয়ার্ডগুলোতে গিয়ে রোগীদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। এই তথ্য দিলেন হাসপাতালের এককজন সিনিয়র স্টাফ নার্স। পাশাপাশি নার্সরা নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও হাসপাতালে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। ফলে গতকাল হাসপাতালে বিরাজ করে এক অন্যরকম পরিবেশ।
    উল্লেখ্য, পেটে ব্যথা নিয়ে ২ এপ্রিল কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হন আনোয়ার নামে শহরের সমিতি পাড়ার এক বাসিন্দা। গত ৪ এপ্রিল কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। চিকিৎসকরা একটি ইনজেকশন দেয়ার পরই আনোয়ারের মুত্যু হয়।
    এরপর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সহায়তায় ডাঃ ফাহিম ডেথ ফাইল প্রস্তুত করতে গেলে নিহত আনোয়ারের স্বজনদের সঙ্গে হাতাহাতি হয়। আনোয়ারের স্বজনরা ডাঃ ফাহিম ডেথ ফাইল পরিবর্তন করে ভুল চিকিৎসায় আনোয়ারের মৃত্যুকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করতে পারেন। এই সন্দেহে ডাঃ ফাহিমের উপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে হাসপাতালের কয়েকটি কাঁচের জানালাও ভাঙচুর করেন তারা। ওই ঘটনার পর থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়া ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। তাদের সঙ্গে নিয়মিত চিকিৎসকরাও সদর হাসপাতালে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ৮ এপ্রিল কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে স্ব-স্ব কর্মস্থলে যোগদান করেন নিয়মিত চিকিৎসকদের পাশাপাশি ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। যদিও চিকিৎসকদের ৪ দিনের কর্মবিরতিকালীন বিনা চিকিৎসায় মারা যান এক শিশু ও তিন নারী।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ