• শিরোনাম

    ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের আনা হচ্ছে ভিজিএফ কার্ডের আওতায়

    ২০ মে থেকে ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ

    শহীদুল্লাহ্ কায়সার | ০৭ মে ২০১৯ | ২:১১ পূর্বাহ্ণ

    ২০ মে থেকে ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ

    দেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুরক্ষায় সরকার আরো কঠিন অবস্থানে গেলো। এ জন্য বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইলিশের জাটকা নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর সফল হওয়ায় এই পথে এগুচ্ছে সরকার।
    আগামি ২০ মে থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। শেষ হবে চলতি বছরের ২৩ জুলাই। ইতোমধ্যে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য -২ (আইন) অধিশাখা এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনটিতে ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরের মাছ আহরণের উপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানানো হয়। এই দীর্ঘসময় বঙ্গোপসাগরের কোন স্থানেই যান্ত্রিক এমনকি ছোট্ট ডিঙ্গি নৌকা দিয়েও মাছ আহরণ করা যাবে না। শুধু বঙ্গোপসাগর নয় বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া এবং মহেশখালী মোহনাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। ফলে উল্লিখিত এলাকাগুলোতে কোন ট্রলার কিংবা দাঁড়বাহী নৌকা মাছ ধরতে গেলেই আইনি ঝামেলার মুখোমুখি হতে হবে।
    অদূর ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণের উপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদকাল ৬ মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণের পেশায় নিয়োজিত মাঝি-মাল্লারা ৬ মাছ ধরতে পারবেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
    এদিকে, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধের কারণে যাতে সাধারণ মাঝি-মাল্লারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেদিকেও নজর দিচ্ছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত মাঝি-মাল্লাদের পরিবারকে ভিজিএফ কার্ড প্রদান করা হবে। যে কার্ডের মাধ্যমে তাঁরা সরকারের কাছ থেকে রেশনিং সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া নানা সহায়তা প্রদান করা হতে পারে। যাতে তাঁরা মাছ ধরতে না গিয়ে সাগরের মৎস্য ভা-ারকে সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করেন।
    জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা মৎস্য অফিসের প্রণয়নকৃত তালিকায় বর্তমানে জেলে রয়েছেন প্রায় ৪৪ হাজার জন। যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জেলে আছে মহেশখালী উপজেলায়। এই জেলার প্রায় সাড়ে ১১ হাজার জেলে মৎস্য অফিস কর্তৃক নিবন্ধিত। অন্যদিকে সবচেয়ে কম জেলে রয়েছে রামু উপজেলায়। এই উপজেলার ২ হাজারের অধিক মানুষ সাগরে মাছ আহরণকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে। নিবন্ধিত এসব জেলেদের মাঝ থেকে বাছাই করে অপেক্ষাকৃত প্রায় ১০ হাজার জেলেকে দেয়া হবে ভিজিএফ কার্ড।
    উল্লিখিত জেলের বাইরেও কক্সবাজার জেলায় অনেক জেলে রয়েছে। যারা মৎস্য অফিস কর্তৃক নিবন্ধিত নয়। মৎস্য অফিসে নিবন্ধিত না হওয়ায় তাঁরা ভিজিএফ এর আওতায় আসবেন না।
    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকতা এস.এম খালেকুজ্জামান বলেন, ভারত, মায়ানমার এবং শ্রীলঙ্কাতেও সাগরের মৎস্য আহরণের উপর এই ধরনের আইন রয়েছে। ইতিপূর্বে জাটকা নিধনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ইলিশের প্রজনন হার বেড়েছে। এই অভিযানেও অবশ্যই সফলতা আসবে।
    এই দীর্ঘ সময়ে মানুষ কিভাবে সাগরের মাছ খাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাগরের মাছে যে পুষ্টিগুণ রয়েছে। নদী এবং পুকুরের মাছের পুষ্টিগুণও প্রায় একই। তাছাড়া বাংলাদেশের মাত্র ২ ভাগ মানুষ সাগরের মাছ খাওয়ার সুযোগ পান। ফলে এই নিষেধাজ্ঞা দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে কোন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ফেলবে না। বরং এদেশের সামুদ্রিক মৎস্যসহ সমুদ্রের অন্যান্য জীব-বেচিত্র্য রক্ষা পাবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ