• শিরোনাম

    টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়ক

    ৭ বছরেও জোড়া লাগেনি ৪ কিলোমিটার সড়ক

    জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ | ৩১ মে ২০১৯ | ২:২৩ পূর্বাহ্ণ

    ৭ বছরেও জোড়া লাগেনি ৪ কিলোমিটার সড়ক

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা সদর থেকে দেশের সর্বশেষ স্থল জনপদ শাহপরীর দ্বীপের সড়ক পথের দূরত্ব মাত্র ১৩ কিলোমিটার। গত ২০১২ সালের জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের হানায় দ্বীপের পশ্চিমের বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যায়। সেসময় অরক্ষিত বেড়িবাঁধ দিয়ে নিয়মিত জোয়ারের পানি ঢুকে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ সড়কের হারিয়াখালী থেকে শাহপরীর দ্বীপ উত্তর পাড়া পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়ক বিলীন হয়ে যায়। তখন থেকে ওই জনপদের মানুষের সড়ক পথে যাতায়ত বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ ৭ বছর পরও সড়কের ওই ৪ কিলোমিটার অংশের জোড়া লাগেনি।
    দ্বীপের বাসিন্দারা জানান, বেড়িবাঁধ ভাঙনের পর থেকে শাহপরীর দ্বীপে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ প্রতিনিয়ত জোয়ার ভাটার বৃত্তে বন্দী হয়ে পড়ে। সাবরাং হারিয়াখালী থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়ক নিয়মিত সাগরের জোয়ারের পানি ঢুকে তলিয়ে যেত। তখন থেকে ওই ৪ কিলোমিটার পথ নৌকায় পাড়ি দিতে হতো দ্বীপবাসীকে। এতে দ্বীপের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বৃদ্ধ, নারী, রোগী ও কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের দূর্ভোগ বেড়ে যায়।
    কলেজ শিক্ষার্থী সাদিয়া আকতার বলেন, জোয়ার এলে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়, ভাঙনের পর থেকে শাহপরীর দ্বীপ থেকে হারিয়াখালী পর্যন্ত পথ নৌকায় পাড়ি দিতাম, কখনো কখনো ভাটার সময় পুরো এলাকা শুকিয়ে যেত, তখন নৌকা যেমন চলতনা, তেমনি ভাঙা সড়কে গাড়ি চলাচলও অসম্ভম ছিল। তাই ভাটার সময় নিরুপায় হয়ে পথচারীদের ৪ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হতো।
    জানা যায়, গত ২০১৭ সালে ঘূর্ণিঝড় মোরা পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনে যান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ওই সময় তিনি টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ সড়কের একাংশের বেহাল অবস্থা দেখে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্থ করেন বেড়িবাঁধ হয়ে গেলে অর্থ্যাৎ সড়কে জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ হলে তিনি রাস্তা সংস্কারের ব্যবস্থা করবেন।
    এদিকে গত ২০১৮ সালের জানুয়ারীতে শাহপরীর দ্বীপ বেড়িবাঁধ নির্মাণে ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং ওই বছর জুনের আগেই বেড়িবাঁধের যে অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করত সেই খালের মুখও বন্ধ করতে সক্ষম হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উপ সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শাহপরীর দ্বীপের ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে। তবে লোকালয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ হয়েছে অনেক আগেই। তাই সড়ক সংস্কারে আর কোন প্রতিবন্ধকতা থাকছেনা।’
    অন্যদিকে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্র জানায়, টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ সড়কের ক্ষতিগ্রস্থ অংশসহ শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট পর্যন্ত ৫.১৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ৬৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গত ২০১৮ সালে জাতীয় একনেক সভায় অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় প্রকল্প অনুমোদনের দীর্ঘ এক বছর পার হয়ে গেলেও এখনো কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। কবে নাগাদ এই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হবে তাও অনিশ্চিত। ফলে সড়ক সংস্কারের বড় প্রকল্প পাওয়ার পরও শাহপরীর দ্বীপাবাসীকে আরো একটি বছর ভোগান্তিতে কাটাতে হবে।
    এ ব্যাপারে কক্সবাজার সওজ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের ৫.১৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। চলতি বছর কাজ শুরুর কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে শুরু করা হয়নি। তবে বর্ষার পর আশা করি সড়কের কাজ শুরু হবে।’
    শাহপরীর দ্বীপের প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক জাহেদ হোসেন বলেন, বর্ষাকাল এলে আমাদের টেকনাফ যাতায়তে দূর্ভোগ বেড়ে যায়। বর্ষা ছাড়া অন্য শুষ্ক মৌসুমে দ্বীপবাসী নাফনদের বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে টেকনাফ যাতায়ত করত। কিন্তু বর্ষায় বেড়িবাঁধ কাদাযুক্ত হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। এজন্য বাধ্য হয়ে সড়কের ভাঙা অংশ দিয়ে সৃষ্ট খালে নৌকায় এবং ভাটার সময় পায়ে হেঁটে যাতায়ত করতে হবে। তবে কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলে অনুমোদিত প্রকল্পের কাজটি দ্রুত শুরু করা সম্ভব ছিল।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ