নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 354 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ইউএন উইমেনের কারিগরি সহায়তা এবং Women’s Peace and Humanitarian Fund (WPHF)-এর আর্থিক সহায়তায় কক্সবাজারের স্থানীয় ও রোহিঙ্গা নারীদের মধ্যে নেতৃত্ব গড়ে তুলছে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস)। ২০২৩ সালের মে থেকে চলমান Women’s Leadership on Improving Peace, Socio-economic Stability and Participation in Power Corridor in Cox’s Bazar প্রকল্পের মাধ্যমে শান্তি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
প্রকল্পটি কক্সবাজারের পিএমখালি আশ্রায়ন প্রকল্প, সমিতিপাড়া, খুরুশকুল ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ এলাকায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্থানীয় ও রোহিঙ্গা নারীদের নিয়ে গঠিত ৭৩টি দলে ১,০৯৫ জন নারী, যুবতী ও মেয়েরা সংগঠিত হয়েছে। তারা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়িয়েছে এবং সামাজিক সংহতি গড়ে তুলেছে।
অর্থনৈতিক দক্ষতায় ২৫০ জন নারী খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, হাঁস-মুরগি পালন, বাগান, ব্লক প্রিন্টিং, টুপি তৈরি ও সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে কক্সবাজার সদরের ১৫০ জন নারী মূলধন সহায়তা পেয়ে ইতোমধ্যে আয়ের উদ্যোগ শুরু করেছে। পাশাপাশি, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব ও আইন বিষয়ে স্থানীয় পুরুষ নেতৃবৃন্দ ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সচেতনতামূলক কর্মশালা পরিচালিত হয়েছে।
সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে হোস্ট কমিউনিটি ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নারী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তারা জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন।
স্থানীয় নারী মর্জিনা আক্তার (ছদ্মনাম) বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর ৪ সন্তান নিয়ে জীবনযুদ্ধে ছিলাম। আমি এখন স্বাবলম্বী। ১০ হাজার টাকা মূলধন সহায়তা পেয়ে সবজি চাষ করে সংসার চালানোসহ সন্তানদের পড়ালেখার খরচ সামলে চলেছি।”

স্থানীয় বিধবা নারী সেলিনা (ছদ্মনাম) জানান, “দুই সন্তানের দায়িত্ব একা বহন করা খুব কঠিন ছিল। একটি সেলাই মেশিন পেয়ে এখন মাসে নিয়মিত আয় করছি। এ আয় থেকে আরও উন্নত সেলাই মেশিন কিনেছি এবং বর্তমানে দুই জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরও স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছি। এছাড়াও সচেতনতামূলক কর্মশালায় অংশ নিয়ে আমি ও আমাদের এলাকায় বাল্যবিবাহ বন্ধে সফল হয়েছি।
তাদের মত হোস্ট কমিউনিটির অনেক নারী জানান, প্রশিক্ষণ শেষে তারা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, হাঁস-মুরগি পালন, ব্লক প্রিন্টিং, টুপি তৈরি ও কৃষিকাজের মাধ্যমে অর্থ আয় করে পরিবারকে সহযোগিতা করছেন, যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪-এর মরিয়ম (ছদ্মনাম) নামের এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, “সাপ্তাহিক বৈঠক ও সচেতনতামূলক পরামর্শ আমাদের মাঝে শিক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। আমরা এখন ১৮ বছরের আগে বিয়ে না দেওয়া, বাচ্চাদের পড়ালেখার গুরুত্ব ও নারীর অধিকার সম্পর্কে আরও জ্ঞান অর্জন করেছি এবং তা অন্যদের সাথে শেয়ার করছি।”
আরেক রোহিঙ্গা তরুণী জানান, “বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আমরা সচেতন হয়েছি এবং অন্য নারীদেরও এ বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়াও নারীরা নির্যাতনের শিকার হলে নির্দিষ্ট কমিটিকে জানাতে উৎসাহ পাচ্ছি, যা আমাদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪-এর সহকারী ইনচার্জ শ্যামপদ বিশ্বাস জানান, প্রশিক্ষণ পেয়ে রোহিঙ্গা নারীরা এখন আগের চেয়ে বেশি সচেতন, বিশেষ করে বাল্যবিবাহ প্রায় পুরোপুরি কমে এসেছে। নারীরা যেকোনো সমস্যা নিয়ে সরাসরি সিআইসি অফিসে অভিযোগ করছেন, যা ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণ।