শনিবার ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

মহেশখালীর আদিনাথ মেলা ও শিব চতুর্দশী পূজা শুরু ১৫ ফেব্রুয়ারী

মোহাম্মদ শাহাবউদ্দীন-মহেশখালীঃ   |   শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   121 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মহেশখালীর আদিনাথ মেলা ও শিব চতুর্দশী পূজা শুরু ১৫ ফেব্রুয়ারী

মহেশখালীর ঐতিহাসিক আদিনাথ মন্দিরে আজ রবিবার ( ১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু শিব চতুর্দশী পূজা ও মেলা শুরু। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মহাদেবের আশীর্বাদ লাভের আশায় এই মন্দিরে সমবেত হন।

মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রাহুল চক্রবর্তীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মূল পূজার লগ্ন শুরু হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৫ টা ৪মিনিটে। যা ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত চলবে। তবে পূজা-অর্চনার মূল পর্ব শেষ হলেও ভক্তদের জন্য ৮ দিন ব্যাপী বিশেষ দর্শন ও উপাসনার ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান

১৪ ফেব্রুয়ারী শনিবার থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পুণ্যার্থীরা মহেশখালীর মৈনাক পর্বতের পাদদেশে আসতে শুরু করেছেন। শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতি বছরের মতো এবারও ভারতসহ অসংখ্য ভক্ত ও পর্যটক এ মেলায় অংশ নিতে পারে বলেও জানা গেছে। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চলে আসা এ মেলা লোকজ সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলন মেলায় পরিণত হয়।

শিব চতুর্দশী পূজা ও আদিনাথ মেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, ‘ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভক্তদের নির্বিঘ্নে পূজা-অর্চনা ও মেলা উপভোগের সুযোগ দিতে আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং চালিয়ে যাব।

দর্শনার্থী আবুল বশর, ছালামত উল্লাহ বলেন এখানে পূজা হিন্দুরা করে। তবে মেলায় ধর্মের ভেদাভেদ নেই। সবাই একসাথে আনন্দ করে। আদিনাথ মেলার গুড়ের জিলাপি মেলার এক নিজস্ব ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। বটমূলের ছায়ায় বসে জিলাপি আর চা খেতে খেতে দর্শনার্থীরা হারিয়ে যান মৈনাকের রহস্যময় বাতাসে।’

এছাড়া, বিভিন্ন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা কমিটি, দোকান ব্যবস্থাপনা ও টোল আদায় কমিটি, অর্থ ও ব্যয় তদারকি কমিটি, স্বাস্থ্যসেবা কমিটি, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কমিটি, আপ্যায়ন কমিটি ও সাজসজ্জা-পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শিব চতুর্দশী পূজা ও মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে পুলিশ, আনসার ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল। মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুজিবুর রহমান প বলেন, ‘ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের জন্য পুলিশ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি মেলায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভ্রাম্যমাণ টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তার বাইরেও, মেলা উদযাপন কমিটির পক্ষ হতে প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে।’

মহেশখালী পূজা ফ্রন্টের সভাপতি চিত্ত দে জানান
এ মেলায় ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী লোকজ পণ্যের স্টল বসে, যেখানে দেশিয় হস্তশিল্প, প্রসাধনী, পোশাক, খাদ্যদ্রব্য এবং কাঁসা-পিতলের তৈজসপত্র বিক্রি হয়। এছাড়া, শিশু-কিশোরদের জন্য নাগরদোলা, বিনোদনমূলক আয়োজনও রয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য শিব চতুর্দশী পূজা যেমন এক ধর্মীয় আবেগের উৎসব, তেমনি এটি বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যেরও এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মহেশখালীর মৈনাক পাহাড়ের শৃঙ্গজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আদিনাথ মন্দিরের শোভা আর পূজার ঘণ্টাধ্বনি যেন কয়েক শতকের পুরনো এক আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করে, যা ভক্ত-পর্যটকদের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকে।

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com