নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | 95 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কক্সবাজার–৪ (উখিয়া–টেকনাফ) সংসদীয় আসনের নির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে দায়ের করা মামলার শুনানি হাইকোর্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে অনিয়ম, ব্যালট পেপার গণনায় জালিয়াতি এবং পোলিং এজেন্টদের বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা ইলেকশন পিটিশনের প্রাথমিক শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) হাইকোর্ট বিভাগের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে বিচারপতি ড. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চে এ সংক্রান্ত মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের ব্যালট পেপার, ফলাফল শিট (রেজাল্ট শিট) এবং ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আলামত সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। মামলার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে এসব আলামত সংরক্ষণ করা প্রয়োজন বলে আদালত মন্তব্য করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কক্সবাজার জেলা আমির মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে আদালতে একটি ইলেকশন পিটিশন দায়ের করেন। তার অভিযোগে বলা হয়, নির্বাচনের বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোট গণনায় অসঙ্গতি ছিল এবং কিছু স্থানে ব্যালট পেপার গণনায় জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে তার পক্ষে থাকা পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া বা দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। অপরদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী পান ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ১ হাজার ৫৪৯ ভোট, যা নির্বাচনকে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলে।
পিটিশনারের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র এডভোকেট ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন। তাকে সহায়তা করেন এডভোকেট মোঃ মাহমুদুল হাসান, এডভোকেট শুভ স্বত্ব রফিকসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী।
আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, নির্বাচনের বিভিন্ন কেন্দ্রে সংঘটিত অনিয়মের বিষয়গুলো সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ফলাফল সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। এ কারণে তারা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী নথিপত্র ও আলামত সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ব্যবধান তুলনামূলক কম হওয়ায় এ মামলার ফলাফল কক্সবাজার–৪ আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। পরবর্তী শুনানির তারিখে মামলার অগ্রগতি এবং আদালতের পর্যবেক্ষণের দিকে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।