নিজস্ব প্রতিবেদকঃ | রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | 91 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ঐ বন কর্মকর্তার কাছ থেকে কথিত “লাইন” নিয়ে নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে বেশ কিছু পাহাড় ইতিমধ্যে নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে এবং আরো বেশ কয়েকটি পাহাড় পাহাড়কেখোরা দিনে রাতে কেটে পরিবেশের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের পূর্ব রুহুল্লার ডেইল, পূর্ব হামজার ডেইল, আদর্শ গ্রাম, বনাকাটা, পূর্ব ইসলামবাদ, কদমতলী, ঘোনার পাড়া, তেতৈয়া এলাকায় বেশ কয়েকটি পাহাড় ইতিমধ্যে নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। আরো দেখা যায়, পূর্ব ইসলামবাদ মসজিদের সামনে, কদমতলী মুজিব বর্ষের ঘরের পেছনে , আর্দশগ্রাম বটগাছ তলা এলাকায় , ঘোনার পাড়া এলাকায়, তেতৈয়া এলাকায়, পূর্ব রুহুল্লার ডেইল এলাকায় দিন রাতে পাহাড় কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে পাহাড়কেখোরা। এভাবে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পাহাড় বিলুপ্ত হয়ে খুরুশকুলবাসি চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন সমাজ।
খুরুশকুল রুহুল্লার ডেইল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন-“আমরা পাহাড় কাটা বন্ধ করার জন্য সামাজিকভাবে অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু পারছি না। পাহাড়কেখোরা অনেক প্রভাবশালী। তারা বন কর্মকর্তাদের মাসিক চুক্তিতে টাকা দিয়ে নির্ভয়ে দিনেরাতে পাহাড় কাটছে। আমরা তাদের কাছে অসহায়”। খুরুশকুল বনাকাটা এলাকার মোঃ রুবেল বলেন-“আমাদের এলাকায় আগে বড় বড় পাহাড় ছিল, যেগুলো উঠলে সাগর দেখা যেতো, সেসব পাহাড় এখন আর নেই। পাহাড়কেখোরা সব শেষ করে দিছে এবং এখনো প্রতিনিয়ত পাহাড় কাটছে। কিন্তু বন কর্মকর্তারা কিছু বলে না”। খুরুশকুল তেতৈয়া এলাকার বাসিন্দা আশরাফ উদ্দিন বলেন-“আমরা ছোট থাকতে আমাদের এলাকায় বড় বড় পাহাড় দেখেছি কিন্তু এখন তা নাই। পাহাড়কেখোরা বন কর্মকর্তাদের সাথে চুক্তি করে এসব পাহাড় দিনেরাতে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়কেখোরা স্থানীয় প্রভাবশালী লোক হওয়াই এলাকার কেউ বাধা দিতে পারে না”।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন অবৈধ ডাম্পার মালিক জানান, খুরুশকুলে প্রায় ২০টি ডাম্পার গাড়ী আছে। তারা এতো সহজে পাহাড় কাটতে পারে না। পাহাড় কাটতে হলে বিট অফিসারের সাথে মাসিক চুক্তি করে “লাইন” নিতে হয়। কথিত “লাইন” নিয়ে তারা পাহাড় কাটে। বিট অফিসারকে প্রতিমাসে ডাম্পার প্রতি ৫ হাজার টাকা করে দিলে “লাইন” পাওয়া যায়। যদি কেউ “লাইন” না নিয়ে পাহাড় কাটে তাহলে তাকে মামলা দেয়া হয় আর “লাইন” নিলে সব মাফ। তারা সারা রাত ঘুমাবে আর আমরা সারা পাহাড় কাটব। কোন অসুবিধা নাই। তিনি আরো জানান, যদি উপরের কোন অফিসার এলাকায় অভিযানে ঢুকে তাহলে আমাদেরকে বলে দিতে হবে এই শর্তে আমরা “লাইন” নিই।তারপরেও মাঝে মাঝে কয়েকটি ডাম্পার আটক হয়ে গেলেও আমরা জামিন করে নিয়ে আসি। আমরা যেহেতু ব্যবসা করি, সেহেতু বন কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে ব্যবসা করি আরকি।
এ বিষয়ে জানার জন্য খুরুশকুলের বন বিট কর্মকর্তা মোঃ মোশারফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি “লাইন” দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পাহাড় কাটার বিষয়ে স্বীকার করে বলেন-আমি আসার পর থেকে পাহাড় কাটা বন্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেহেতু পাহাড়কেখোরা রাতে পাহাড় কাটে, সেহেতু আমি সীমিত জনবল নিয়ে রাতে অভিযানে যেতে পারি না। পাহাড়কেখোদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাহাড়কেখোরা অনেক প্রভাবশালী হওয়াই হামলার ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নিতে পারছি না। তবে কয়েটি মাটি কাটার পয়েন্ট আমরা ইতিমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছি।
পাহাড়কেখোদের “লাইন” দেয়া এবং নির্বিচারে পাহাড় কাটার বিষয়ে জানার জন্য পিএমখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ জাকারিয়া এর সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে বারংবার কল করার পরেও রিসিভ না করাই বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।