মঙ্গলবার ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

প্রজন্মের পর প্রজন্ম রাষ্ট্রহীন হচ্ছে রোহিঙ্গারা

অনিশ্চয়তায় ভিন দেশে পরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ২৬ আগস্ট ২০১৮

অনিশ্চয়তায় ভিন দেশে পরবাসী

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাষ্ট্রহীন হচ্ছে রোহিঙ্গারা। আর এতে তারা জাতি হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভে ব্যর্থ হচ্ছে বারম্বার। ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট থেকে ২০১৮ সালের ২৫ আগষ্ট এই এক বছরে ৭লাখ ২২ হাজার রোহিঙ্গা এখন রাষ্ট্রহীন হয়ে বাংলাদেশে পরবাসী হয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে ১৯৭৮ সাল থেকে আরো ৫ দফা রোহিঙ্গা দল বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। নতুন পুরাতন মিলে নিবন্ধনকৃত ১১ লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গা রাষ্ট্রহীন হয়ে শুধু বাংলাদেশে রয়েছে। নিবন্ধনের বাইরে লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বাস করছে। একইভাবে ভারত, মালেশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে রাষ্ট্রহীন হয়ে বসবাস করছে রোহিঙ্গারা। নিজ দেশ হারিয়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়া এসব রোহিঙ্গারা এখনো তারা ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঢলের বর্ষপূর্তি হলেও তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় প্রকৃতপক্ষে কোন অগ্রগতি নেই। এসব খবর আইএসসিজি’র।মিয়ানমারের সাথে প্রত্যাবসান প্রক্রিয়ার আলোচনার মধ্যে রাখাইন রাজ্যে উপযোগী পরিবেশ না থাকায় বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ইউএনএইচসি আরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত, একমাত্র অগ্রগতি হচ্ছে প্রত্যাবাসন বিষয়ে মিয়ানমারের সাথে আলোচনা বন্ধ হয়নি। দুর্ভাগ্যবশত রাখাইন রাজ্যে অনুকূল পরিবেশের অভাবে রোহিঙ্গারা এখনো বাংলাদেশে আসছে।’

সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করেন। রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারের ফেরানোর সময়সীমা বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘এটি সত্যি নয় যে বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে’ উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রতি সপ্তাহে এখনো রোহিঙ্গাদের ছোট ছোট দল বাংলাদেশে আসছে।

রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর দমন অভিযানের প্রথম বার্ষিকী পার হয়। অথচ উল্টো প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার বলছে, পুলিশ স্টেশনে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) আক্রমণ করেছে।
সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা হাজার হাজার রোহিঙ্গাদের হত্যা করেছে, গ্রামের অসংখ্য ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে, ব্যাপক যৌন সহিংসতা চালিয়েছে। ফলে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।
এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ সীমান্ত এখনো খোলা রয়েছে যা নজিরবিহীন এবং মানবিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ উদারতা দেখাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে এক বক্তব্যে মিয়ানমার নেত্রী সু চি বলেন, রোহিঙ্গা মুসলিমদের রাখাইন রাজ্যে ফেরানোর বিষয়ে সময়সীমা বেঁধে দেয়া কঠিন। কারণ এ বিষয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেয়া দেশ বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন মিয়ানমারের।
তিনি বলেন, ফেরত আসা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে মিয়ানমার। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করছে।

রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম দমন অভিযানের কারণে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালানোর ঘটনায় মিয়ানমার সরকারের পদক্ষেপে সমর্থন জানিয়ে সু চি বলেন, সন্ত্রাসবাদের কারণে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সামাজিক বৈষম্যের কারণে নয়।
গত ১১ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনে করে ওই রাজ্যে চালানো ‘ব্যাপক বিধ্বংসী অবস্থা’ পর্যবেক্ষণ করেছেন। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়িগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখেছেন। অথচ মিয়ানমার সরকার ওইসব ঘরবাড়িতে ‘দুর্ঘটনাজনিত আগুন’ লেগেছে বলে বর্ণনা করছে।

রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক বলেন, তারা খুব আশাবাদী যে রোহিঙ্গারা রাখাইনে তাদের নিজ বাড়িতে একটি প্রক্রিয়া মধ্য দিয়ে ফিরে যাবে। তবে তিনি জানায়, মিয়ানমার ফিরে যাওয়ার আগে রোহিঙ্গারা তাদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের নিশ্চিয়তা চাচ্ছেন। সেজন্য প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।

‘এতে কোন সন্দেহ নেই যে তারা মিয়ানমার ফিরে যাবেন’, বলেন পররাষ্ট্র সচিব।তিনি আরো বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াটি একটি চ্যালেঞ্জ। সব চ্যালেঞ্জেরই একটি সমাধান রয়েছে। আমরা যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারবো যদি দুই দেশের বা দলের মধ্যে একটি দৃঢ় ইচ্ছা আছে। যেটা সবচেয়ে জরুরি।’তিনি উল্লেখ করেন, গত এক বছরে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত ছিল। বাংলাদেশের সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উভয় ভাবে কাজ করেছে।

 

দেশবিদেশ /২৬ আগস্ট ২০১৮/নেছার

Comments

comments

Posted ২:২৩ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৬ আগস্ট ২০১৮

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com