• শিরোনাম

    বিশে^র দীর্ঘ লম্বা মানুষ জিন্নাত আলীর আক্ষেপ:

    অনেকের অনুরোধে ছবি তুলেছি, আর না

    দীপক শর্মা দীপু, | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

    অনেকের অনুরোধে ছবি তুলেছি, আর না

    ‘ভাই এখন আর আমি কোন ছবি তুলবোনা। আমি দাঁড়াবোনা, কোন ছবি তুলবোনা। আমাকে অনুরোধ করলেও ছবি তুলবোনা। জীবনে অনেক ছবি তুলেছি, আর না।’ বিশে^র দীর্ঘ লম্বা মানুষ জিন্নাত আলীর ছবি তুলতে চাইলে তিনি আক্ষেপ করে এসব কথা বলেন।
    কেন তিনি ছবি তুলতে চাইনা এই বিষয়ে জানতে চাইলে তার একমাত্র দিনমুজর বড় ভাই মো: ইলিয়াছ আলী বলেন, তাকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেকে বহুবার ছবি তুলেছে। ছবি তোলার সময় তাকে বলা হয়েছিল , তার দায়িত্ব যেন সরকার নেয় সেই ব্যবস্থা করা হবে, তাকে প্রতিমাসে আর্থিক সাহায্য করা হবে, তার চিকিৎসা করা হবে, তাকে সমাজ সেবার মাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবন্ধিভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে, তাকে নানাভাবে সাহায্য করা হবে। এভাবে অনেকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছবি তুললেও আজ পর্যন্ত কেউ কথা রাখেননি। ফলে এখন তার মনে কারো প্রতিশ্রুতির বিশ^াস নেই। তাই ছবি তুলতে চাইনা। তার এই মনের আক্ষেপ প্রকাশ করার জন্য এই প্রতিবেদক ছবি তুলার অনুরোধ করলে পরে সেই অনুরোধ রাখেন।
    জিন্নাত আলী রামু উপজেলার গর্জনিয়ার বড়বিল গ্রামের আমির হামজা ও শাহপুরি বেগমের সন্তান। এখন তার বয়স ২২ বছর। ১১ বছর আগে হঠাৎ করে তার শরীরের অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া শুরু হয়। এখন তার উচ্চতা ৮ ফুট ৫ ইঞ্চি । যা বর্তমানে বেঁচে থাকা মানুষের মধ্যে দীর্ঘ লম্বা মানুষ হিসেবে পরিচিত। অতিরিক্ত লম্বা হওয়ার কারনে তেমন কোন কাজ করতে পারছেনা।
    জিন্নাত আলীর বাবা আমির হামজা পাহাড় থেকে বাঁশ কেটে সংসার চালাত। এখন তিনি অক্ষম হয়ে পড়েছেন। সংসার চালানোর ভার পড়েছে তার বড় দিনমজুর ইলিয়াছের উপর। কিন্তু ইলিয়াছের স্ত্রী সন্তান রয়েছে। তার পক্ষে মা, বাাবা, ভাই ও নিজের পরিবারের সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। জিন্নাত আলীর প্রতিবেলায় খাবার লাগে এক কেজির উপর। তার মাপ অনুযায়ী বাজারে পোশাক না থাকায় তা অতিরিক্ত খরচ দিয়ে তৈরি করতে হয়। এই অবস্থায় দিনমুজর ভাই ইলিয়াছ আলী অর্থের ভাইয়ের জন্য এসব কিছু যোগাড় করতে পারছেনা বলে জানান। এই জন্য তিনি সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
    জিন্নাত আলী অসুস্থ্য হয়ে এখন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার চিকিৎসার জন্য ঘরে থাকা ছাগলটি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এখন ছাগল বিক্রির সেই টাকাও খরচ হয়ে গেছে। চিকিৎসাসহ অন্যান্য খরচ বহন করতে পারছেনা তার একমাত্র হতভাগ্য ইলিয়াছ আলী।
    জিন্নাত আলীর ইচ্ছা সেই স্বাভাবিক মানুষের মতো কাজ করতে চাই। তার সুচিকিৎসা হলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে-এমন আশাবাদি জিন্নাত আলী সবার সহযোগিাতা কামনা করেছেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ