সোমবার ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

অবশেষে মামলা নিলেন রামু থানা পুলিশ

দেশবিদেশ ডেস্ক   |   বুধবার, ১৬ জুন ২০২১

অবশেষে মামলা নিলেন রামু থানা পুলিশ

রামুর এক অসহায় নির্যাতিতা মহিলা দীর্ঘদিন ধরে রামু থানায় ঘুরাঘুরি করার পরও স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে নিজের দায়ের করা এজাহার খানা মামলা হিসাবে দায়ের করাতে পারেনি। গতকাল (১৪ জুন) কক্সবাজার থেকে সাংবাদিকদের একটি টিম উপস্থিত হলে রামু থানা পুলিশ নির্যাতিতার দায়ের করা এজাহারটি অবশেষে মামলা হিসাবে গ্রহণ করেন।

ঘটনার সুত্রে প্রকাশ, রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব বোমাংখীলের বাসিন্দা আজিজুর রহমানের কন্যা শামীমা আক্তার ডলির সাথে বিগত ৩০ আগস্ট ২০২০ ইংরেজি তারিখ ইসলামি শরিয়া ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিকাহ রেজিস্ট্রার মূলে ১০ লাখ টাকার দেনমোহর নির্ধারণ করে ৫লাখ টাকা নগদ ও ৫ লাখ টাকা বাকীতে রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের উত্তর পাড়ার আবুল কালামের ছেলে মোঃ রাসেলের সাথে বিবাহ সম্পন্ন হয়।

নির্যাতিতা শামীমা আক্তার ডলির দায়ের করা এজাহার সুত্রে জানা যায়, বিবাহের পরে কিছুদিন যেতে না যেতেই নির্যাতিতা শামীমা আক্তার ডলির শাশুড়ী শামসুন্নাহার ছেলেকে কুপরামর্শ দিতে থাকে এবং ডলির পিতার কাছ থেকে ২লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য স্বামী রাসেল চাপ দিতে থাকে। শামীমা আক্তার ডলির পিতার আর্থিক অবস্থা ভাল না থাকায় ডলি স্বামীর পণের ২ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় স্বামী রাসেল তার মায়ের কু-প্ররোচনায় শামীমা আক্তার ডলিকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও মানষিক নির্যাতন করতে থাকে। অসহায় শামীমা আক্তার ডলি ভবিষ্যতে সুখের সংসারের আশায় স্বামীর নির্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করেছে।

বিগত ০৮মে ২০২১ ইং তারিখ দুপুর ১২.০০ যৌতুক লোভী স্বামী রাসেল তার মায়ের কু-প্ররোচনায় স্ত্রী শামীমা আক্তার ডলিকে পিতার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। শামীম আক্তার ডলি যৌতুকের দাবীকৃত ২ লাখ টাকা এনে দিতে পারবেনা বললে পাষণ্ড স্বামী ডলিকে লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অমানুষিক নির্যাতন চালাতে থাকলে প্রতিবেশীরা ডলির আর্তচিৎকার শুনে এগিয়ে আসলে, পাষণ্ড স্বামী রাসেল স্ত্রী শামীমা আক্তার ডলির স্বর্ণালঙ্কার পরনের কাপড় কেড়ে নিয়ে এক কাপড়ে একা ডলিকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় বলে শামীমা আক্তার ডলির দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেছেন। পরে নির্যাতিতা অসহায় শামীমা আক্তার ডলি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে গত ১৯ মে ২০২১ ইংরেজি তারিখ যৌতুক লোভী পাষণ্ড স্বামী রাসেলকে প্রধান আসামী করে রাসেলের যৌতুক লোভী মা শামসুন্নাহারকে ২নং আসামী করে রামু থানায় একখানা এজাহার দায়ের করেন। এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি নিজের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় রামু থানা পুলিশকে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা এজাহারটি মামলা হিসাবে না নেওয়ার জন্য এক প্রকার চাপ দিতে থাকে।

নির্যাতিতা শামীমা আক্তার ডলি ও তার অসহায় মা এলাকার বিভিন্ন জনের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েও কোন সুরাহা পায়নি এবং রামু থানা পুলিশের কাছে বার বার তদবির করার পরও যখন নির্যাতিতা শামীমা আক্তার ডলি তার উপর চালানো নির্যাতনের বিরুদ্ধে কোন প্রকার মামলা দায়ের করতে না পারায় অসহায় নির্যাতিতা শামীমা আক্তার ডলির আত্মীয় সংবাদকর্মী ও সমাজসেবক নুরুল আমিনের মাধ্যমে সিনিয়র সাংবাদিক জি.এ.এম. আশেক উল্লাহ, মো. আকতার হোছাইন কুতুবী, আমিনুল হক আমিন, মো. শহিদ উল্লাহ, আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের কক্সবাজার জেলা শাখার আহবায়ক রেবেকা সুলতানা আইরিন এল.এল.বি, সদস্য সচিব এড. মো. মুজিবুল হককে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করেন। সাংবাদিকদের একটি অনুসন্ধানী টিম গতকাল ১৪ জুন ২০২১ ইংরেজি তারিখে সরজমিন উপস্থিত হন। অনুসন্ধানী সাংবাদিক টিম সরজমিন উপস্থিত হয়ে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে নির্যাতিতা শামীমা আক্তার ডলির স্বামী সম্পর্কে নানা অপরাধের তথ্য পাওয়া যায়। স্থানীয়রা আমাদের অনুসন্ধানী টিমকে জানান, রাসেল মূলত একজন অস্ত্রধারী শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং মাদকাসক্ত নারীলোভী এবং বন মামলাসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি এমনটাই জানিয়েছেন। সন্ত্রাসী ও মাদকাসক্ত রাসেলের নিকট আত্মীয় ছিদ্দিক আহমদ রাসেলের নানা অপকর্ম সম্পর্কে আমাদের অনুসন্ধানী টিমকে জানান। তার মাঝে উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল, রাসেল তার স্ত্রী শামীমা আক্তার ডলিকে মারধর করে বাপের বাড়ি তাড়িয়ে দেওয়ার পর লম্পট রাসেল গর্জনীয়া এলাকার এক নাবালক মেয়ে শিশুকে বিয়ে করার কথা বলে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলার চাঞ্চল্যকর খবর জানিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুন) আমাদের অনুসন্ধানী টিম গর্জনীয়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসির সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি রাসেলের খারাপ চরিত্র সম্পর্কে আমাদের জানিয়েছেন। পরে আমাদের অনুসন্ধানী টিম রামু থানার ওসি (তদন্ত) এর সাথে নির্যাতিতা শামীমা আক্তার ডলির গত ১৯ মে ২০২১ ইংরেজি তারিখে দায়ের করা এজাহারটি মামলা হিসাবে দায়ের না করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আমাদের অনুসন্ধানী টিমকে জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করার কথা থাকায় মামলা হিসাবে গ্রহণ করা হয়নি বলে জানান। আমাদের অনুসন্ধানী টিমের অনুসন্ধানে মাদকাসক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী নারীলোভী স্ত্রী শামীমা আক্তার ডলিকে নির্যাতনকারী রাসেলের বিরুদ্ধে পাওয়া নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য এবং রাসেল শামীমা আক্তার ডলিকে নির্যাতন করে ২লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার পর আরেক নাবালক মেয়ে শিশুকে নিকাহ রেজিস্ট্রার ছাড়া বিবাহ করা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিয়ে করার খবর তিনি শুনেছেন তবে এর সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছেন। তবে শামীমা আক্তার ডলিকে নির্যাতনকারী স্বামী রাসেলের নানা খারাপ চরিত্র সম্পর্কে জানতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন। সর্বশেষ আমাদের অনুসন্ধানী টিম রামু থানার ওসি (তদন্ত) এর কাছে নির্যাতিতা শামীমা আক্তার ডলির গত ১৯ মে ২০২১ ইংরেজি তারিখে দায়ের করা এজাহারটি মামলা হিসাবে গ্রহণ করা হবে কিনা জানতে চাইলে, তিনি আমাদের অনুসন্ধানী টিমকে বলেন, অবশ্যই আজই শামীমা আক্তার ডলির দায়ের করা এজাহারটি মামলা হিসেবে দায়ের করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
আজ ১৫ জুন মঙ্গলবার রামু থানা নির্যাতিতা শামীমা আক্তার ডলির এজাহারটি ১১(গ)৩০-২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩ এর যৌতুকের জন্য মারধর করা ও সহায়তা করার অপরাধ ধারায় মামলা হিসেবে গ্রহণ কক্সবাজারে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (রামু) এ প্রাথমিক তথ্য বিবরণী হিসেবে প্রেরণ করেন। যার রামু থানা মামলা নং-৩০, জি.আর-২৮৪/২১, তাং-১৪/০৬/২০২১।
অবশেষে রামু থানা নির্যাতিতা শামীমা আক্তার ডলির দায়ের করা মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করায় ডলি ও তার অসহায় পরিবার আমাদের অনুসন্ধানী টিমের কাছে আবেগজড়িত কণ্ঠে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে, আমাদের অনুসন্ধানী টিমকে এবং রামু থানার অফিসার ইনচার্জ ও পরিদর্শক (তদন্ত) এর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Comments

comments

Posted ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৬ জুন ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com