• শিরোনাম

    শহরে নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ

    অভিযোগের পরও ব্যবস্থা নেয় না কউক

    বার্তা পরিবেশক | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

    অভিযোগের পরও ব্যবস্থা নেয় না কউক

    কক্সবাজার শহরে একের পর এক নির্মিত হচ্ছে নকশা বহির্ভূত ভবন। চারপাশে আলো, বাতাস ও পানি চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা না রেখেই নির্মাণ করা হচ্ছে এসব ভবন। ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন করে নির্মিত এসব ভবনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেনা কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। ফলে পুরো শহরেই অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়ে যাচ্ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে পর্যটন নগরীর বাহ্যিক সৌন্দর্য।
    এই বিষয়ে বিভিন্ন সময় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন অভিযোগ করেন কউক কার্যালয়ে। যদিও অধিকাংশ সময় এসব অভিযোগকে আমলে নেননা কউক কর্মকর্তারা। মাঝে মাঝে কউক’র অভিযানে ভবনগুলোর অবৈধ অংশ কিছুটা ভেঙ্গে দেয়া হয়। নকশা বহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণকারীদের কাছ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হয়। এরপর আর এই বিষয়ে কোন খবর নেয়ার প্রয়োজন বোধ করে না কউক। অভিযানের কারণে ভবন নির্মাণকারীরা কিছুদিন নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখেন। অভিযানে শিথিলতা দেখা দিলেই পুনরায় দ্বিগুণ উৎসাহে শুরু করেন অবৈধ অংশে নির্মাণ কাজ।
    এদিকে, নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হচ্ছে কলহ। এক পক্ষ পর্যাপ্ত জায়গা খালি রেখে ভবন নির্মাণের অনুরোধ করেন। অপরপক্ষ জমির মূল্যের কথা চিন্তা করে জোরপূর্বক নির্মাণকাজ চালিয়ে যান। এতে নষ্ট হচ্ছে সামাজিক পরিবেশ। প্রতিবেশিদের মধ্যে সৃষ্ট এই বিবাদ অনেক সময় থানা পর্যন্ত গড়ায়। মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। যা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সৃষ্টি করছে।
    এই ধরনের একটি সমস্যায় পড়েছেন প্রফুল্ল ধর’র আমেরিকা প্রবাসী পুত্র সুব্রত ধর। তাঁর মালিকানায় কক্সবাজার শহরের গোলদিঘির পূর্ব পাড় (বৈদ্যঘোনা) এলাকায় প্রফুল্ল ভবন নামে একটি চারতলা বাড়ি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আছেন রাম মানিক ধর। সেবক পাল নামে অন্য এক ব্যক্তির জমি রয়েছে সুব্রত ধর’র ভবনের পাশে। বেশ কয়েকমাস আগে সেবক পাল তাঁর জমিতে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
    বিষয়টি জানার পর সুব্রত ধর’র প্রতিনিধি রাম মানিক ধর পর্যাপ্ত জায়গা খালি রেখে ভবন নির্মাণ করতে সেবক পালকে অনুরোধ করেন। সেবক পালও প্রতিশ্রুতি দেন সুব্রত ধর’র ভবনের যাতে কোন সমস্যা না হয় সেভাবেই তিনি ভবন নির্মাণ করবেন। বাস্তবে সেবক পাল সেই কথা রাখেননি। ফলে উভয়ের মধ্যে সৃষ্টি হয় বিবাদ। একাধিকবার বাক-বিত-ায় জড়িয়ে পড়েন সেবক পাল এবং সুব্রত ধর’র প্রতিনিধি রাম মানিক ধর।
    বাক-বিত-ার সূত্র ধরে রাম মানিক ধর কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বরাবর সেবক পালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অভিযোগে রাম মানিক ধর উল্লেখ করেন, ইমারত নির্মাণ আইন অমান্য করে সেবক পাল ভবন নির্মাণ করছেন। ভবনটি নির্মিত হলে প্রফুল্ল ভবনে আলো, বাতাস প্রবেশ করবে না। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে সেবক পালের ভবনের পশ্চিম অংশে পানি চলাচল করতে ড্রেনের জন্য রাখা হয়নি পর্যাপ্ত জায়গা।
    জানা যায়, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে যান কউক’র একটি প্রতিনিধি দল। কউক’র প্রকৌশলী ইমতিয়াজ গিয়ে নকশা বহির্ভুতভাবে ভবন নির্মাণের সত্যতাও খুঁজে পান। এরপর সেবক পালকে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ না করার আহবান জানান। সেবক পাল সেই নোটিশে কান না দিয়ে ইচ্ছেমতো চালিয়ে যাচ্ছেন নির্মাণ কাজ। নোটিশের অবমাননা করা হলেও রহস্যজনক কারণে পরবর্তীকালে কউক’র পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
    সরেজমিনে প্রফুল্ল ভবন সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রফুল্ল ভবনের সামনের এক অংশের দেয়াল ঘেষে ভবন নির্মাণ করছেন সেবক পাল। প্রায় শেষ পর্যায়ে চারতলা ভবনের প্রাথমিক কাজ । ওই অংশে ড্রেনের জন্য রাখা হয়নি পর্যাপ্ত জায়গা। নির্মাণাধীন ভবনের কারণে দিনের বেলায় প্রফুল্ল ভবনে আলো প্রবেশ করতে পারছে না।
    ইতঃপূর্বে সেবক পালের ভবনের পশ্চিম অংশে ড্রেনের জন্য জায়গা রাখা হয়েছিল। বর্তমানে সেই অংশেও চলছে নির্মাণ কাজ। ইতোমধ্যে খালি রাখা জায়গার ১ম তলায় আরসিসি ছাদ নির্মাণ করা হয়েছে। উপরের দিকেও ছাদ নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। ছাদটি নির্মিত হলে সেবক পালের ভবনের পানি চলাচলের কোন জায়গা থাকবে না। ভবন সংলগ্ন সড়কের উপর দিয়েই পুরো ভবনের পানি চলাচল করবে। যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন আমেরিকা প্রবাসী সুব্রত ধর।
    জানা গেছে, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)’র কাছ থেকে ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেন সেবক পাল। ইতঃপূর্বে কউক’র সভায় তাঁর জমিতে ৪ তলা ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন করা হয়। যে নকশায় ভবনের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়। নকশা অনুযায়ী প্রথম দিকে নির্মাণ কাজও শুরু করেন তিনি। কিন্তু মাঝপথে এসে তাঁর মানসিকতায় পরিবর্তন আসে। যে অংশটুকু ড্রেনের জন্য খালি রেখেছিলেন সেই অংশেই শুরু করেন নির্মাণ কাজ। প্রতিবেশিদের কথায় পাত্তা না দিয়েই জোরপূর্বক বর্তমানে নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন তিনি।
    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আমেরিকা প্রবাসী সুব্রত ধর এর প্রতিনিধি রাম মানিক ধর বলেন, ভবন নির্মাণকালীন প্রতিবেশিরা সেবক পালের সঙ্গে কথা বলি। ওই সময় তিনি ভবনের চতুর্দিকে ১ ফুট করে জায়গা খালি রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্মাণের সময় দেখা যায় আমাদের ভবনের পাশে ১ ইঞ্চি জায়গাও খালি রাখেননি। এ কারণে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আমাদের সমস্যা হবে। পাশাপাশি অন্য মৌসুমগুলোতেও ভবনে সূর্যের আলো প্রবেশ করবে না। এখন কউক’র হস্তক্ষেপ ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ