• শিরোনাম

    চকরিয়া কেন্দ্রীয় হরি মন্দির দুর্গোৎসবের প্রতিপাদ্য

    অসুরকে বধ করে মণি-ঋষিদের দেবলোক ফিরিয়ে দিলেন ‘মা দুর্গা’

    মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া | ০৩ অক্টোবর ২০১৯ | ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

    অসুরকে বধ করে মণি-ঋষিদের দেবলোক ফিরিয়ে দিলেন ‘মা দুর্গা’

    অমরত্ব লাভের আশায় মহিষাসুর ব্রক্ষার তপস্যায় মগ্ন হন। দীর্ঘকাল অসুরের তপস্যায় পৃত হয়ে ব্রক্ষা মহিষাসুরের কাছে প্রকট হন। ব্রক্ষা অসুরের তপস্যায় সন্তুষ্টু হয়ে কি চাই জানতে চান। অসুর এসময় ব্রক্ষার কাছে অমরত্ব দাবি করেন। কিন্তু ব্রক্ষা এই বর দিতে অস্বীকৃতি জানান। ব্রক্ষা এসময় অসুরকে বলেন এই পৃথিবীতে আমিও অমর নই, তোমাকে কীভাবে অমরত্ব দান করবো। ব্রক্ষা অসুরকে অমরত্ব না দিলেও প্রবল শক্তিশালী এবং অপরাজেয় হওয়ার বর দেন তবে এও বলেন তোমার মৃত্যু হবে কোন এক নারীর কাছে। এতেই তুষ্ট হন মহিষাসুর।

    বর পাওয়ার সাথে সাথে শুরু করে অত্যাচার-নির্যাতন। তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠে দেবলোক। স্বয়ং ইন্দ্রদেব থেকে শুরু করে মণি-ঋষি, সাধু-সন্ন্যাসী সবাই অসুরের কাছে ধরাশায়ী। মহিষাসুর নিজেকে ঈশ্বররুপে প্রতিষ্টা করতে উন্মাধ হয়ে উঠেন। সবাইকে তার পুজো করার নির্দেশ জারি করেন। যে তার পুজো করবেনা তার মৃত্যুদন্ডাদেশ হবে বলেও ঘোষনা করেন। এই ভয়ে সাধু-সন্ন্যাসীরা ছুটে গেলেন ব্রক্ষা, বিষ্ণু ও শিবের কাছে। কিন্তু তারাও অসুরের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অসুরকে যে প্রবল শক্তিশালী হওয়ার বর দিয়েছেন ব্রক্ষা। বিষ্ণু ও শিব সাধু-সন্ন্যাসীদের ব্রক্ষার কাছে যেতে বলেন।

    কিন্তু ব্রক্ষার একার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন ! তাই অসুরকে কীভাবে বধ করা যায় তার করণীয় ঠিক করতে ব্রক্ষা, বিষ্ণু ও শিব বৈঠকে মিলিত হলেন। তাদের সকলের প্রচেষ্টায় সৃষ্টি হলো দূর্গতিনাশিনী মা দূর্গা। তাদের সকলের ত্যাজে মা দূর্গা হয়ে উঠলেন ভয়ংকরী, অগ্নীরুপী। ফলে অসুরের সাথে যুদ্ধ লিপ্ত হলেন মা দূর্গা। যুদ্ধে পরাস্ত হলেন অসুর। মা দূর্গার হাতে বধ হলেন মহিষাসুর। সাধু-সন্ন্যাসীরা ফিরে গেলেন দেবলোকে।
    ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে এভাবেই ফুটিয়ে তুলা হয়েছে চকরিয়া পৌরসভার হিন্দুপাড়াস্থ সার্ব্বজনীন কেন্দ্রীয় হরি মন্দিরের দুর্গোৎসবকে। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে রংয়ের কাজ। বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেষ হবে পুরো কাজ।
    গত শনিবার মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছে দেবী পক্ষের আগমন। চন্ডীপাঠ, বিভিন্ন অনুষ্টানের মধ্যদিয়ে মা দূর্গাকে মর্ত্যলোকে আহবান করেন ভক্তকুল। আগামী শুক্রবার ষষ্ঠী পুজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে মায়ের অর্চনা। মঙ্গলবার দশমীর পুজার মাধ্যমে মাকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা।

    সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দূর্গোৎসবকে ঘিরে কেন্দ্রীয় হরি মন্দিরে চলছে সাজসাজ রব। সবাই যার মতো ব্যস্ত। কেউ ব্যস্ত লাইটিংয়ের কাজে, কেউ ব্যস্ত প্রতিমা তৈরীর কাজে আবার কেউ ব্যস্ত সাজসজ্জায়। মা দূর্গাকে মাঝখানে রেখে এর দু’পাশে বসানো হয়েছে স্বরস্বতী, লক্ষী, গণেশ ও কার্তিককে। এদের দু’পাশে বসানো হয়েছে পানির ফোয়ারা। এছাড়াও ব্রক্ষা, বিষ্ণু ও শিব এবং বেশ কয়েকটি অসুর বানানো হয়েছে। স্টেইজের মাঝে মাঝে বসানো হয়েছে বিভিন্ন কালারের লাইট।
    ফরিদপুর থেকে এসেছেন মৃৎ শিল্পী সুমন পাল। এই মন্ডপে পুরো থিমটি তৈরী করতে তিনি ২০/২৫টি প্রতিমা তৈরী করেছেন। তাদের এসব প্রতিমা তৈরীতে সময় লেগেছে ২০দিন। গত মঙ্গলবার থেকে প্রতিমার গায়ে রংয়ে তুলি বসান তারা। বৃহস্পতিবারের মধ্যে রংসহ পুরো সেট তৈরী করবেন বলে জানান সুমন পাল।

    মন্ডপের আলোকসজ্জার কাজ করছেন চট্টগ্রাম মাহনগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার নাটাই লাইটিং সিস্টেম। এর কর্ণদ্ধার মো.নবী বলেন, ইতোমধ্যে লাইটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে আমরা লাইটিং সিস্টেম চালু করবো। আশাকরি চকরিয়ার ভক্তরা সুন্দর একটি আলোকসজ্জা দেখতে পাবেন।

    এদিকে, চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দরবার ডেকোরেটার্সের মালিক মানিক রুদ্র তার দলবল নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন পুজা মন্ডপকে সাজসজ্জায় সাজাতে। তিনি গত এক সপ্তাহ ধরে পুরো মন্দির এলাকাকে সাজাতে তার ১৫ জন কর্মী কাজ করছেন বলেও জানান। হরি মন্দিরের দুর্গোৎসবকে ঘিরে বেশ কয়েকটি বড় বড় তোরণ নির্মাণ করেছেন। তিনি বলেন চকরিয়ার মধ্যে সেরা সাজসজ্জা হবে চকরিয়া কেন্দ্রীয় হরি মন্দিরের পূজা মন্ডপ।
    চকরিয়া সার্ব্বজনীন কেন্দ্রীয় হরি মন্দির দূর্গোৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কান্তি দে ও সাধারণ সম্পাদক ডা.অসীম কান্তি দে রুবেল জানান, এবছর চকরিয়ায় ৪৬টি পূজা মন্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্টিত হচ্ছে। এসব মন্ডপের মধ্যে আশা করি আমরা নতুন কিছু দেখাতে পারবো। তাই আমরা এবছর অসুরের অত্যাচারে অতিষ্ট সাধু-সন্ন্যাসীদের মা দূর্গা কীভাবে রক্ষা করেছেন তা থিমের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলার চেষ্টা করছি। এছাড়া অষ্টমী পুজারদিন রাতে ধর্মীয় নাটক ‘পরশুরামের মাতৃহত্যা’ কাহিনী নিয়ে নাটিকা মঞ্চস্ত করা হবে। এজন্য আমাদের এবারের পুজার বাজেটও বেশি। প্রায় ৮ লাখ টাকা। আশাকরি সকলের সাহায্য-সহযোগিতায় চকরিয়াবাসী তথা কক্সবাজারবাসীকে সুন্দর একটি পুজা উপহার দিতে পারবো।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ