• শিরোনাম

    দেশ হবে দস্যুমুক্ত মাদকম্ক্তু সন্ত্রাসমুক্ত দুর্নীতিমুক্ত- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *১৫৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ২৮৪ রাউন্ড গুলি ও অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জাম জমা

    অস্ত্র ছেড়ে ফুল নিলেন ৯৬ জন জলদস্যু

    দীপক শর্মা দীপু ও মো: শাহাবুদ্দিন মহেশখালী কালারমারছড়া থেকে ফিরে | ২৪ নভেম্বর ২০১৯ | ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

    অস্ত্র ছেড়ে ফুল নিলেন ৯৬ জন জলদস্যু

    স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র সমর্পণ করছেন কালারমারছড়া একজন আত্মসমর্পণকারী বাহিনী প্রধান

    মহেশখালী,পেকুয়া, চকরিয়া ও কুতুবদিয়ার ১২ বাহিনীর দুর্ধর্ষ ৯৬ জন জলদস্যু,অস্ত্রের কারিগর ও সন্ত্রাসী স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় আত্মসমর্পণ করেছে। একই সঙ্গে তারা দেশি-বিদেশি ১৫৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৮৪ রাউন্ড গুলি ও অস্ত্র তৈরীর বিভিন্ন প্রকার সরাঞ্জামাদী জমা দেয়। ২৩ নভেম্বর শনিবার দুপুর ১২টায় মহেশখালী উপজেলার পাহাড়ী ইউনিয়ন কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করে তারা। অতীত কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত এই জলদস্যুরা পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার শপথ নিয়েছে। পুনর্বাসনের জন্য তাদের জনপ্রতি তাৎক্ষনিক ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করেন মন্ত্রী, সাথে তাদের হাতে তুলে দেন ফুল। পরে আরো তাদের আরো ৫০ হাজার টাকা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে আগের কাজে ফিরে গেলে তাদের কঠোর পরিণতি হবে। তিনি বলেন, খুন ও ধর্ষণ ছাড়া যাদের বিরুদ্ধে অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বিভিন্নভাবে যারা বিপথে চলে গেছে, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে তারা সবাই ফিরে আসবে, স্বাভাবিক জীবনযাপন করে শান্তিপূর্ণ দেশ বিনির্মাণে সহযোগিতা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
    তিনি আরো বলেন, দস্যুতামুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, মাদকমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করা হবে। যারা এসব অপকর্মে জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরমধ্যে কেউ বাঁধা হয়ে দাঁড়ালে কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা।
    অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, যে সমস্ত জলদস্যু আত্মসমপণ করেনি তারা ভুল করেছে। ‘মহেশখালী এমনকি পুরো কক্সবাজার জেলায় কোনো দস্যুতা চলবে না। এখনও যারা বিপথগামী, তারাও ফিরে আসুন। স্বাভাবিক জীবনে না ফিরলে কঠিন পরিণতির জন্য তারা প্রস্তুত থাকুক।’ এ সময় তিনি সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি আরো বলেন, যে সব দস্যু আত্মসমপর্ণ করেনি তাদের তালিকা পুলিশের কাছে আছে। আর যারা জলদস্যুদের গডফাদার তাদের নাম আছে পুলিশের নিকট। নতুন করে কোন জলদস্যুতা বানানো হলে গফফাদারদের আটক করা হবে।
    কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে পুলিশ লাইন মসজিদের পেশ ইমান এএসআই আবদুল মন্নানের কোরআন তেলোয়াতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার-১-এর সাংসদ জাফর আলম,কক্সবাজার ৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুন সরওয়ার কমল,চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, কক্সবাজার জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক আশরাফুল আফসার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তাফা, জেলা আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান, কক্সবাজার জেলা কমিউিনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক এড. তোফায়েল আহমদ, আত্মসমর্পণকারী দলের বাহিনী প্রধান সিরাজদৌল্লাহ চৌধুরী।
    মহেশখালী কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ছেড়ে অস্ত্রসহ আত্মসমপর্ণ করেছে তাদের সার্বিক সহযোগীতা করা হবে। আতœসমপর্ণ করার কারণে তাদের পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য জন প্রতি ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আতœসমপর্ণ করার পর পরবর্তীতে তারা যেন কোন অন্যায় কাজে না জড়ায় সে জন্য অনুরোধ জানান।
    সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি বলেন, পৃথিবীর নানা দেশে জঙ্গি তৎপরতা বেড়েই চলেছে। আর বাংলাদেশে তা দমন করা হয়েছে। অন্যদেশে আত্মসমপর্ণ করাতে পারেনা, আর আমরা আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দেশে শান্তির সুনিশ্চিত করছি। এটিই বাংলাদেশ। যা বিশ^কে দেখিয়ে দিয়েছে।
    জাফর আলম এমপি বলেছেন, মহেশখালী শান্ত থাকলে চকরিয়া পেকুয়াও ভাল থাকবে। মহেশখালীর জলদস্যুদের আত্মসমর্পণের সুখবর মানে চকরিয়া পেকুয়ার সুখবর। তিনি অবৈধ দখলে যাওয়া চিংিড় ঘের গুলো আত্মসমর্পণকারি জলদস্যুদের দেয়ার জন্য আহবান জানান।
    চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক জানান, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে শতাধিক অস্ত্রের কারিগর, জলদস্যু আত্মসমপন করেছে। তাদের স্বভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সব ধরণের সহযোগীতা করা হবে। তবে যারা আত্মসমপন করে নাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কক্সবাজার জেলা পুলিশকে লক্ষ্য করে বলেন কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করলে আপনারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা জলদস্যু ও অস্ত্রের কারিগর তৈরীকারীদের হুশিয়ার করে বলেন আপনারা ভাল হয়ে যান না হলে পরিনতি ভয়াবহ হবে।
    কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, ২০১৮ সালের ১৭ মে থেকে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও বিশেষ অভিযানে ১৯৮ জন অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী জেলা পুলিশসহ বিভিন্ন আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়। সুরারাং মহেশখালী আর সন্ত্রাস করা যাবে না। এখনো যারা এখনো আত্মসমপর্ন করেননি তারা দ্রুত আত্ম সমপর্ণ করুন নতুবা তাদের পরিনিত শুভ হবে। আমরা আশা করি জলদস্যু ও অস্ত্র মুক্ত হবে। তিনি আরো বলেন, জলদস্যু, অবৈধ অস্ত্রধারী ও অস্ত্র তৈরির কারিগরদের আত্মসমর্পণের ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাদের আত্মসমর্পণ সমাজের শুধু জলদস্যু, অবৈধ অস্ত্রধারী ও অস্ত্র তৈরির কারিগরদের জন্যই নয়, নানাবিধ অবৈধ পন্থা অবলম্বনকারি ব্যবসায়ী, কুচক্রীমহল অপরাধী মহলের জন্য একটি যথোপযুক্ত বার্তা হিসেবে কাজ করবে। দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা ও অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে মহেশখালী কুতুবদিয়া সর্বোপরি জেলার যে কোন সুনাম জলদস্যু , অবৈধ অস্ত্রধারী ও অস্ত্র তৈরির কারিগরদের কারনে হুমকির মুখে পড়েছিল। এখন আত্মসমর্পণের মাধ্যমে হুমকি দূর হয়েছে।
    ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: আশরাফুল আফসার বলেন, দেশের সব অপরাধীকে সত্য সুন্দর আলোর পথে আসতে হবে। তা নাহলে তাদের জীবন যেমন বিপন্ন, পাশাপাশি তাদের পরিবার সদস্যদের জীবন অনিশ্চিয়তার মধ্যে থাকা। সরকার সবাইকে সুযোগকে দিচ্ছে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য। আর সেই সুযোগ গ্রহণ করে সকল অপরাধীর আত্মসমর্পণ করা উচিত।
    জেলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ বলেন, সমাজে সত্য প্রকাশ করতে হবে। আর সত্য প্রকাশের মাধ্যমে সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ সমাজ গঠণ করা সম্ভব। তিনি মহেশখালীবাসীকে শান্ত এবং মেধাবী বলে আখ্যায়িত করে বলেন, জেলার প্রথম মুক্তিযুদ্ধের শহীদ মো: শরীফ চেয়ারম্যান কালারমারছড়ার মানুষ। আর সেই মুক্তিযোদ্ধার এলাকা সন্ত্রাসের রাজত্ব হবে তা মেনে নেয়া যায়না। এখন মহেশখালীবাসীও এগিয়ে এসেছেন সন্ত্রাস রুখতে।
    আতœসমপর্নকারী সন্ত্রাসী ও জলদস্যু সিরাজ দৌল্লাহ বলেন, আমি প্রতিকপক্ষের হাত থেকে রক্ষা করতে একটি বাহিনী গঠন করে সাগরে দস্যুতা, জেলেদের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবী, মহেশখালীর পাহাড়ে থাকা অস্ত্রের কারিগর থেকে অস্ত্র নিয়ে এসব কর্মকান্ড করে আসছিল। পুলিশের ভয়ে কখনো পাহাড়ে, কখনো সাগরে জীবণ যাপন করেছে। স্ত্রী, সন্তান ও আতœীয় সজনদের সাথে যোগাযোগ করতে পারি নাই। এলাকার লোক জন আমাকে ঘৃণা করে। এ সব অপকর্ম ত্যাগ করে জেলা পুলিশের কাছে আত্মসমপন করেছি।
    কালারমারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ সাংবাদিকদের জানান, কক্সবাজার জেলার মধ্যে তার ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি অপরাধ প্রবণ এলাকা। খুন, রাহাজানি, দস্যুতা, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ সব জঘন্য অপরাধকর্ম সংগঠিত হওয়া কালারমারছরার জন্য একেবারে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। মহেশখালীর চিহ্নিত অস্ত্রের কারিগর ও কুখ্যাত বেশ ক’টি জলদস্যু বাহিনীর সর্দার, অস্ত্রের শীর্ষ কারিগর ও বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসেব বলে আশা ব্যাক্ত করেন।
    অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণে মধ্যস্থতাকারী বেসরকারি টিভি চ্যানেল আনন্দ টিভির বিশেষ প্রতিনিধি আকরাম হোসাইনকে সম্বর্ধিত করা হয়। সভা পরিচালনা করেন বিটিভি কক্সবাজারের প্রতিনিধি জাহেদ সরওয়ার সোহেল।
    আতœসমর্পণকারী ১২ দস্যুবাহিনীর মধ্যে জলদস্যু ও অস্ত্রের কারিগর আয়ুব বাহিনীর প্রধান আয়ুবসহ ১২ জন, আবদুল করিম বদিয়া বাহিনীর প্রধান আবদুল করিম বদিয়া,গুরা কালু বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ কালু, হামিদ বাহিনীর প্রধান মোঃ আবদুল হামিদ, কালা জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান মোঃ কালা জাহাঙ্গীর,জিয়া বাহিনীর প্রধান জিয়াউর রহমান, করিম বাহিনীর প্রধান মাহমুদুল করিম, সিরাজ বাহিনীর প্রধান সিরাজ দৌল্লাহ চৌধুরী, স্বপণ বাহিনীর প্রধান মান্নান দে স্বপণ, মিন্টু বাহিনীর প্রধান আবদুল্লাহ মিন্টু, সিকদার বাহিনীর ২ জন,সোনাদিয়ার আন্জু বাহিনীর ১ জন, জুনায়েত বাহিনীর ২জন, কালা জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১ জন, অস্ত্রের কারিগর ৯ জন, কলাবাদা বাহিনীর ২ জন, স্বপণ বাহিনীর ১ জন, জিয়া বাহিনীর ২ জন, গুরা কালু বাহিনীর ১ জন, অন্যান্যসহ ১২ বাহিনীর ৯৬ জন সন্ত্রাসী ১৩টি ৩০৩ রাইফেল, ১টি দোলনা বন্দুক, ১৪১টি একনলা বন্দুক,২৮টি ৩০৩ রাইফেলের গুলি, ২৫৫টি কার্তুজ ও অস্ত্র তৈরীরর বিভিন্ন সরাঞ্জাম জমা দেন।
    আত্মসমর্পণকারীরা হচ্ছেন হোয়ানকের আয়ুব বাহিনীর প্রধান আয়ুব আলী ও তার বাহিনী সদস্য আবু শামা, নুর মোহাম্মদ,মোহাম্মদ হাবিব,আমিরুল হক,মঈনুল উদ্দীন,নাছির, আবদুল খালেক,শহিদ উল্লাহ, গিয়াস উদ্দীন,মোঃ নেজাম, কালারমারছড়ার আবদুল করিম বাহিনীর প্রধান আবদুল করিম ও তার বাহিনীর ৬ সদস্য আজিজুল হক,এরফান, মোহাম্মদ উল্লাহ, মোহাম্মদ রফিক, রফিকুল ইসলাম, কুতুবদিয়ার গুরা কালু বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ কালু, ৮ সদস্য মোঃ মামুন, মোহাম্মদ জাফর, মোহাম্মদ রাসেল,খলিলুর রহমান , জালাল আহমদ, মোহাম্মদ শাহরিয়ার, হাদিম বাহিনীর প্রধান আবদুল হামিদ, তার সদস্য গিয়াস উদ্দীন,মুজিবুর রহমান, জমির উদ্দীন, একরামুল হক। কালা জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর, নেছার উদ্দীন, সেলিম উল্লাহ,জসিম উদ্দীন, আবুল কাসেম, সালামত উল্লাহ, মাহবুব আলম,জমির উদ্দীন, জিয়া বাহিনীর প্রধান জিয়াউর রহমান তার বাহিনী সদস্য সরওয়ার কামাল, মোহাম্মদ জাফর আলম, সাগর উল্লাহ, মোহাম্মদ মানিক, আজিজূল হক, রুবেল, খোরশেদ, নাজিম উদ্দীন, সাদ্দাম হোসাইন, মাহমুমুদুল করিম করিম বাহিনীর প্রধান মাহমুদুল করিম, মোহাম্মদ বেলাল,, আবদুল মালেক, জসিম উদ্দীন, সিরাজ বাহিনীর প্রধান সিরাজ দৌল্লাহ, মোহাম্মদ বশির, মোঃ সিরাজ,আবদু শুক্কুর, মোজাম্মেল হক, আবু বক্কর, মোঃ বাদশা, সিকদার বাহিনীর জাহাঙ্গীর আলম, রুবেল উদ্দীন, স্বপণ বাহিনীর প্রধান মান্না দে,তার সদস্য রবিউল হক, আন্জু বাহিনীর সদস্য মোঃ বেলাল, ঝুনাইদ বাহিনীর মোঃ নাছের, অস্ত্রের কারিগর জাফর আলম,মোকাদ্দেস, বাকদুল হাকিম, মিন্টু বাহিনীর মিন্টু কালাবদা বাহিনীর মোঃ আমিন, স্বপণ বাহিনীর আনছার উল্লাহ, জিয়া বাহিনীর আজিজুল হক, কালা জাহাঙ্গীর বাহিনীর রোরহান উদ্দীন, মো : কাউছার ।
    এ বাহিনীগুলো মহেশখালী ও কুতুবদিয়া পাহাড় ও চ্যানেলে ডাকাতি ও দস্যুতা, পাহাড়ে অস্ত্র তৈরী করে দেশের বিভিন্ন প্রাপ্তে বিক্রয় করার কাজে লিপ্ত ছিল। এছাড়াও নিজেদের আতিপত্ত বিস্তার করতে গিয়ে একাধিক হতাহতের ঘটনায় জড়িয়ে গিয়ে নিজেরা ডাকাতি করে আসছিল।
    প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর মহেশখালীতে অনুরূপভাবে ৪৩ জন সশস্ত্র জলদস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছিলো। সেখানে ৪৩ জনের মধ্যে আকরাম হোসাইনের একক মধ্যস্থতায় ৩৭ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছিলেন। আত্মসমর্পণকারীরা মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়ার সমুদ্র উপকূলের ভয়ংকর জলদস্যুরা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। আকরাম হোসাইনের মধ্যস্থতায় চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ১০২ জন ইয়াবাকারবারী টেকনাফে আত্মসমর্পণ করেছিলো। গত বছরের ২০ অক্টোবর মহেশখালীতে আত্মসমর্পণ করা ৪৩ জন জলদস্যু সরকারের কাছ থেকে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে অনুদান পেয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে এখন ক্ষুদ্র ব্যবসা বাণিজ্য করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ