• শিরোনাম

    কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া)

    আওয়ামী লীগ এগিয়েছে অত্যন্ত ধীরে, বিএনপি দ্রুতগতিতে

    শহীদুল্লাহ্ কায়সার | ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

    আওয়ামী লীগ এগিয়েছে অত্যন্ত ধীরে, বিএনপি দ্রুতগতিতে

    এক সময় শুধু চকরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত হয় কক্সবাজার-১ সংসদীয় আসন। চকরিয়া উপজেলাকে দ্বিখ-িত করে চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার সমন্বয়ে বর্তমান কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন। জনসংখ্যা এবং আয়তনের দিক থেকে এটি কক্সবাজার জেলার সবচেয়ে বড় সংসদীয় আসন।
    ১টি পৌরসভা এবং দুই উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসনটিতে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুন। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে যেখানে ভোটার সংখ্যা ছিলো প্রায় ১ লাখ সাড়ে ৪৬ হাজার। বর্তমানে সেখানে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৯১ হাজার। যে অনুপাতে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে আসনটিতে সেই অনুপাতে বাড়েনি আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট। চকরিয়া-পেকুয়ায় আওয়ামী লীগ এগুচ্ছে অত্যন্ত ধীরে, আর বিএনপি দ্রুতগতিতে।
    ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের পর অনুষ্ঠিত কোন সংসদীয় নির্বাচনেই আসনটিতে জয়লাভ করতে পারেননি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত চারটি সংসদীয় নির্বাচনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দুই বার প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু কাঙ্খিত ফল লাভ করা সম্ভব হয়নি।
    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে আওয়ামী লীগ। হারানো আসন পুনরুদ্ধারই এখন দলটির প্রধান লক্ষ্য। যদিও বিএনপির দুর্গে পরিণত হওয়া এই আসন নিয়ে ততোটা আশাবাদী নন কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা।
    তবে, বিএনপি এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে আসনটিতে রাজনৈতিক এই সংগঠনের অবস্থান ছিলো চতুর্থ। পরবর্তী সময়ে সেই অবস্থান থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রথম অবস্থানে চলে আসেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। এরপর থেকে সংগঠনটিকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদও বিএনপির মনোনয়নে এই আসন থেকে একবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবার বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য তাঁকেই মনোনীত করেছে।
    পরপর তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এবার প্রার্থী করা হলো চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, পদ ত্যাগকারী উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম {বি.এ (অনার্স)এম.এ} কে।
    ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম পান ভোটদানকারীদের মধ্যে শতকরা ৩৩ ভাগের সমর্থন। তখন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহামুদুল করিম চৌধুরী পেয়েছিলেন ১৪.২ ভাগের সমর্থন। ওই নির্বাচনে আসনটিতে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হলেও পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে তৃতীয় স্থানের উপরে অবস্থান করতে পারেনি জামায়াত।
    ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ায় বি.এন.পি সমর্থিত প্রার্থী। ওই নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ পান ৪৫.৫১ ভাগের সমর্থন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সালাহউদ্দিন আহমদ সি.আই.পি পান ৩১.৭১ ভাগের সমর্থন। এই নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি এই আসনে শক্ত ভীত গড়ে তুলে।
    ২০০১ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপি’র সালাহউদ্দিন আহমেদ। সেবার ৬৩.৩৬ ভাগ ভোটারের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হন তিনি। অন্যদিকে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি পান ৩৪.৯৭ ভাগ ভোটারের সমর্থন।
    ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি। তবে, ভোটের ব্যবধান কিছুটা কমাতে সক্ষম হন। আইনি জটিলতায় পড়ে সেবার বিএনপি’র সালাহউদ্দিন আহমেদ’র পরিবর্তে প্রার্থী হন তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। পরাজিত সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি পান ৪২.৯২ অংশের সমর্থন। অন্যদিকে হাসিনা আহমেদ ৫৫.৭৩ ভাগ ভোটারের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হন।
    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও হাসিনা আহমেদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করলেও আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন বিএনপি’র প্রার্থীনিই হবেন তাঁদের দলের প্রার্থীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এ কারণে এই নির্বাচনকে হাল্কাভাবে নিচ্ছেন না তাঁরা। তবে, বরাবরের মতো এবারের নির্বাচনেও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই কেন্দ্রীয় এবং জেলার নেতাদের।
    কেন বারবার আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয় ?
    চকরিয়ার ব্যাপারে কক্সবাজার জেলায় একটি বাক্য প্রবাদে পরিণত, ‘এই আসনে আওয়ামী লীগের নেতা আছে; কর্মী নেই।’ ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচন থেকে শুরু করে বিগত কমিটি পর্যন্ত (বর্তমান কমিটি ব্যতিক্রম)কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে ছিলেন চকরিয়ার নেতারা। ফলে জেলার অন্যান্য উপজেলার তুলনায় কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে চকরিয়ার নেতাদের থাকতো প্রাধান্য। অগণিত নেতা জন্ম হওয়ায় খুব দ্রুতই উপজেলাটিতে দলীয় কোন্দল চরমে উঠে। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ছাড়িয়ে সেই কোন্দল ওয়ার্ড কমিটি পর্যন্ত যায়। কোন্দলের মধ্যে আবার উপ-কোন্দলও সৃষ্টি হয়।
    অধিকাংশ সময় জেলার নেতারা এমনকি প্রার্থীরাও এসব কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন। নিজ সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারবেন। এই আশায় প্রকাশ্যে কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। ফলে দলীয় মনোনয়ন পেলেও বিরোধীরা একজোট হয়ে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন। বেশ কয়েকটি নির্বাচনে চলেছে আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন স্ববিরোধী রাজনীতি। ফলে ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়। নির্বাচনে ভরাডুবি হয় দল মনোনীত প্রার্থীর।
    জাফর আলম কি পারবেন ?
    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাফর আলম {বি.এ (অনার্স) এম,এ}। যিনি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কোন্দলে জড়িত। চকরিয়ার রাজনীতির একটি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে। এক সময় সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি’র অত্যন্ত কাছের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের একজন ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের সেই সম্পর্কে চিড় ধরে। দুই জন অবস্থান নেন দুই মেরুতে। প্রকাশ্যে আক্রমণ করতে থাকেন একজন অপরজনকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মনোনয়ন চেয়েছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি। কিন্তু জাফর আলম মনোনয়ন নিশ্চিত করলেও তফসিল ঘোষণার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপিকে দেখা যায়নি। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও যে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে নিজ দলের বিরাট একটি অংশের সমর্থন হারাতে হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এই অবস্থায় জাফর আলম একাই কি পারবেন বিপুল সংখ্যক ভোটারের মন জয় করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হবে? এই প্রশ্ন সবার।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ