• শিরোনাম

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

    আকাশ-পাতাল ব্যবধানে বিজয়ী ৪ আওয়ামী লীগ প্রার্থী

    শহীদুল্লাহ্ কায়সার | ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

    আকাশ-পাতাল ব্যবধানে বিজয়ী ৪ আওয়ামী লীগ প্রার্থী

    সারাদেশের মতো কক্সবাজার জেলাতেও সম্পন্ন হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গতকাল ৩০ ডিসেম্বর রবিবার কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। নির্বাচনী সহিংসতায় পেকুয়া উপজেলার রাজাখালীতে নিহত হয়েছে আব্দুল্লাহ্ আল ফারুক নামে এক যুবক। নিহত ফারুক রাজাখালীর উলুদিয়া পাড়ার আবুল কালামের পুত্র।
    রাতে জেলাপ্রশাসক কার্যালয়ে স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করা হয়। রিটার্নিং অফিসার ও কক্সবাজারের জেলাপ্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী জেলার ৪টি আসনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের পর এবারই প্রথম জেলার ৪টি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হলেন। কক্সবাজার-২ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন ছাড়া প্রতিটি আসনেই দুই লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা।
    কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জাফর আলম। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী হাসিনা আহমেদকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৭০৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাফর আলমের প্রাপ্ত ভোট ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৬৩। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হাসিনা আহমেদ পেয়েছেন ৫৫ হাজার ২৬০ ভোট।
    কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে বেসরকারভাবে বিজয়ী হয়েছেন আশেক উল্লাহ্ রফিক। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদকে ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আশেক উল্লাহ্ রফিকের প্রাপ্ত ভোট ২ লাখ ২৯ হাজার ২৫০। হামিদুর রহমান আজাদ পেয়েছেন ১৪ হাজার ৬৫৯ ভোট। বিএনপি প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ্ ফরিদ পেয়েছেন ১১ হাজার ৭৮৯ ভোট।
    কক্সবাজার-৩ (কক্সবাজার সদর-রামু) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন সাইমুম সরওয়ার কমল। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের চেয়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪৩০ ভোট বেশি পেয়েছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমলের প্রাপ্ত ভোট ২ লাখ ২২ হাজার ৬৪৫। অন্যদিকে লুৎফুর রহমান কাজল পেয়েছেন ৬৫ হাজার ২১৫ ভোট।
    কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন শাহীন আক্তার। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র শাহজাহান চৌধুরীর চেয়ে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫৬ ভোট। আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহীন আক্তারের প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৯৬ হাজার ৯৭৪। বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ১৮ ভোট।
    এদিকে নির্বাচনের পরিবেশ দেখতে গতকাল সকালে জেলার বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলাপ্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লাসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জেলাপ্রশাসক ও পুলিশ সুপার প্রথমে কক্সবাজার শহরে পিটিআই কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এরপর বাহারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পৌর প্রিপ্যারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়, কক্সবাজার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমিতে স্থাপিত ভোটগ্রহণ কেন্দ্রসহ শহরের বেশ কিছু কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এরপরই তাঁরা স্পিডবোট যোগে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে যান। সেখানে পরিদর্শন করেন ভোটগ্রহণ কার্যক্রম।
    আজকের নির্বাচনে জেলার ৪টি আসনের ব্যালট পেপারে ২৮ প্রার্থীর নাম ও প্রতীক ছিলো। ১২ টি রাজনৈতিক দল মনোনীত ছাড়াও তাঁদের মধ্যে ৩ জন স্বতন্ত্র (নির্দলীয়) প্রার্থী রয়েছেন। ইতঃপূর্বে কয়েকজন প্রার্থী আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে সমর্থন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ঘোষিত প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজেদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেননি তাঁরা। এ কারণে তাঁদের প্রতীকও ব্যালট পেপারে ছাপানো হয়।
    ভোটদানের জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলায় স্থাপন করা হয় ৫১৩টি কেন্দ্র। একজন করে প্রিসাইডিং অফিসার প্রত্যেক কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া কক্ষ স্থাপন করা হয় ২ হাজার ৭৩৮টি। প্রত্যেক কক্ষে ছিলেন ১ জন করে সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার ও ২ জন করে পোলিং অফিসার। ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন তাঁরা।
    জেলার ৪ টি আসনের মধ্যে কক্সবাজার -১ আসনটি চকরিয়া এবং পেকুয়া উপজেলার সমন্বয়ে গঠন করা হয়। এই আসনের ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজার ৬৮১ জন। যাঁদের মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজার ৪২৫ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৫৬ জন।
    উল্লিখিত ভোটারদের মধ্যে চকরিয়া উপজেলার ১ টি পৌরসভা ১৮ টি ইউনিয়নে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৫ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬০৬ জন। তাঁদের ভোটদানের জন্য কেন্দ্র স্থাপন করা হয় ৯৯টি কেন্দ্র। উল্লেখিত সংখ্যক কেন্দ্রে ছিলো ৬০১ টি কক্ষ। এই উপজেলায় ৯৯ জন প্রিসাইডিং অফিসারের অধীনে ৬০১ জন সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ২০২ জন পোলিং অফিসার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
    অন্যদিকে ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত পেকুয়া উপজেলার পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬২০ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ৫০ হাজার ৬৫০ জন। তাঁদের ভোটদানের জন্য স্থাপন করা হয় ৪০ টি কেন্দ্র। উল্লেখিত সংখ্যক কেন্দ্রে ছিলো ২০০টি কক্ষ। এই উপজেলায় ৪০ জন প্রিসাইডিং অফিসারের অধীনে ২০০ জন সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৪০০ জন পোলিং অফিসার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
    কক্সবাজার- ২ আসন গঠন করা হয় মহেশখালী এবং কুতুবদিয়া উপজেলার সমন্বয়ে। এই আসনে ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৯৬ হাজার ৮১ জন। যাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৭২ জন পুরুষ এবং ১ লাখ ৪২ হাজার ১০৯ জন নারী।
    উল্লিখিত ভোটারদের মধ্যে ১ টি পৌরসভা এবং ৮ টি ইউনিয়নের নিয়ে গঠিত মহেশখালী উপজেলায় পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৯ এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৬৬৭ জন। তাঁদের ভোটদানের জন্য কেন্দ্র স্থাপন করা হয় ৬৮ টি। কক্ষ ছিলো ৩৮২টি। এই উপজেলায় ৬৮ জন প্রিসাইডিং অফিসারের অধীনে ১৩৬ জন সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার এবং ২৭২ জন পোলিং অফিসার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
    অন্যদিকে ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কুতুবদিয়া উপজেলায় রয়েছে ৪৪ হাজার ২৩ জন পুরুষ ভোটার, এবং ৪০ হাজার ৪৪২ জন নারী ভোটার। তাঁদের ভোটদানের জন্য স্থাপন করা হয় ৩৭টি কেন্দ্র। কক্ষ স্থাপন করা হয় ১৬০টি। এই উপজেলায় ৩৭ জন প্রিসাইডিং অফিসারের অধীনে ৭৪ জন সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১৪৮ জন পোলিং অফিসার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
    কক্সবাজার-৩ আসন গঠন করা হয় কক্সবাজার সদর এবং রামু উপজেলার সমন্বয়ে। এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৪ হাজার ৩৬ জন। যাঁদের মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ৪২৪ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১২।
    উলিখিত ভোটারদের মধ্যে ১টি পৌরসভা এবং ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কক্সবাজার সদর উপজেলায় পুরুষ ভোটার রয়েছেন, ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪ জন। নারী ভোটার রয়েছেন, ১ লাখ ২১ হাজার ৪ জন। তাঁদের ভোটদানের জন্য কেন্দ্র স্থাপন করা হয়১০৮টি। কক্ষ স্থাপন করা হয় ৫৪৭টি। এই উপজেলায় ১০৮ জন প্রিসাইডিং অফিসারের অধীনে ৫৪৭ জন সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৯৪ জন পোলিং অফিসার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
    অন্যদিকে ১১ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রামু উপজেলায় পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৮১ হাজার ৪১০ জন। নারী ভোটার রয়েছেন ৭৬ হাজার ৬০৮ জন। তাদের ভোটদানের জন্য ৬১ টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয় । কক্ষ স্থাপন করা হয় ৩১৮ টি। ৬১ টি কেন্দ্রে ৬১ জন প্রিসাইডিং অফিসার। ৩১৮টি কক্ষে ৩১৮ সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৬৩৬ জন পোলিং অফিসার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
    কক্সবাজার -৪ আসনটি গঠন করা হয় উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলার সমন্বয়ে। এই আসনে ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪০৬ জন। যাঁদের মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ১০ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৯৬ জন।
    উল্লিখিত ভোটারদের মধ্যে ৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উখিয়া উপজেলায় পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৬০ হাজার ৪৮৮ জন। নারী ভোটার রয়েছেন ৫৮ হাজার ২৯৭ জন। তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য স্থাপন করা হয় ৪৫টি কেন্দ্র। কক্ষ স্থাপন করা হয় ২৩৮টি। এই উপজেলায় ৪৫ জন প্রিসাইডিং অফিসারের অধীনে ২৩৮ জন সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৬৭৬ জন পোলিং অফিসার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
    অন্যদিকে ১ টি পৌরসভা এবং ৬ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত টেকনাফ উপজেলার পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ১০ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৯৬ জন। তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য স্থাপন করা হয় ১১০ টি কেন্দ্র। কক্ষ স্থাপন করা হয় ৫৩০টি। টেকনাফ উপজেলায় ১১০ জন প্রিসাইডিং অফিসারের অধীনে ৫৩০ জন সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৬০ জন পোলিং অফিসার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
    দেশবিদেশ /৩১ ডিসেম্বর ২০১৮

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ