• শিরোনাম

    সমাপনি দিনে মানুষের ঢল

    আগামির বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে কক্সবাজার

    নিজস্ব প্রতিবেদক  | ০৭ অক্টোবর ২০১৮ | ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

    আগামির বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে কক্সবাজার

    জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কক্সবাজার জেলাব্যাপী ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা ২০১৮। সাধারণ মানুষের দোরগোঁড়ায় পৌঁছে গেলো কক্সবাজার জেলার উন্নয়নের চিত্র। মেলার কারণে মানুষ জানতে পারলো তাদের জন্য অপেক্ষমান অনিন্দসুন্দর এক আগামির কথা। মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সাবরাং ইকো ট্যুরিজম জোন, খুরুশ্কুল আশ্রয়ন প্রকল্প, নাফ ইকো ট্যুরিজমের মতো প্রকল্প রয়েছে এই তালিকায়। গতকাল ৬ অক্টোবর মেলার শেষ দিনে সর্বসাধারণের উপস্থিতি ছিলো লক্ষ করার মতো।
    উন্নয়ন মেলার কারণে জেলায় অবস্থানরত মানুষ উন্নয়নের এই চিত্র দেখতে পেলো। শুধু কক্সবাজার শহরে অবস্থানরতরা নন। জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মানুষই এই সুবিধা পেয়েছে। ইতঃপূর্বে মেলাপ্রাঙ্গন থেকে ইউনিয়নগুলোতে উন্নয়নের চিত্র সম্প্রচার করতে এলইডি স্ক্রিনের ব্যবস্থা করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ভবনের সামনে স্থাপিত এলইডি স্ক্রিনের সাহায্যে এই চিত্র দেখার সুযোগ পেল ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
    মেলা উপলক্ষে গতকাল মেলা প্রাঙ্গনে নির্মিত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। “ শিক্ষিত জাতি সমৃদ্ধ দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী। জেলাপ্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা জাসদ সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল, সাংবাদিক আবু তাহের প্রমুখ।
    প্রধান অতিথির বক্তব্যে পবন চৌধুরী বলেন, “২০৩০ সালে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে। ওই বাংলাদেশ বিশ^ অর্থনীতির সূচকে ২৩তম অবস্থানে থাকবে। কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রকল্প যে গতিতে এগুচ্ছে তাতে শুধু কক্সবাজারের চিত্রই পাল্টাবে না। কক্সবাজার পাল্টাবে দেশের অর্থনীতির চিত্র। আগামির বাংলাদেশের অর্থনীতির নেতৃত্ব দেবে কক্সবাজার।
    এবারের মেলায় স্টলগুলোকেও হতাশ হতে হয়নি। তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হলো মেলার স্টলগুলোকে। অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য স্টলগুলোকেই দেয়া হলো এই পুরস্কার। যে দইুটি স্টল শুরু থেকেই মেলার সৌন্দর্যবর্ধন করে আসছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সেই দুইটি স্টল যৌথভাবে অর্জন করলো প্রথম পুরস্কার। একই ক্যাটাগরিতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) এর অবস্থান দ্বিতীয় এবং গণপূর্ত বিভাগের অবস্থান তৃতীয়।
    উল্লিখিত তিনটির চেয়ে সাজ-সজ্জার দিকে কক্সবাজার পৌরসভা কিছুটা পিছিয়ে ছিলো। কিন্তু মেলার অন্যান্য স্টলগুলোর তুলনায় কক্সবাজার পৌরসভার স্টলটি সৌন্দর্যের দিক থেকে ছিলো অনেক উপরে। সৌন্দর্যের পাশাপাশি নাগরিক সেবা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে কার্পণ্য করেনি স্বশাসিত এই প্রতিষ্ঠান। যে কারণে নাগরিক সেবা প্রদানের পুরস্কারের তালিকায় প্রথম স্থানে উঠে এসেছে কক্সবাজার পৌরসভার নাম। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে বিআরটিএ, এবং জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের অবস্থান তৃতীয়। উন্নয়ন ও প্রচার ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্টল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দ্বিতীয় এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির অবস্থান তৃতীয়।
    এদিকে মেলার শেষ দিনেও মানুষের ভীড় ছিলো লক্ষ করার মতো। উদ্বোধনী দিনের মতোই বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় জমিয়েছিলো মেলাপ্রাঙ্গনে। বিকেল হতেই কক্সবাজার শহরের বাহারছড়ার গোলচত্বর মাঠ মুখরিত হয়ে উঠে মানুষের পদভারে। শিশু থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীসহ নারী-পুরুষ সবাই ছিলেন এই কাতারে। অনেকেই এসেছিলো বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে, অনেকে স্বস্ত্রীক আবারো অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। শিশুরা এসেছিলো মা-বাবার সঙ্গে। মেলায় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি থাকলেও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
    অন্যান্য দিনগুলোর মতো সমাপনি দিনেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর স্টল দুটিতে মানুষের ভীড় ছিলো উল্লেখ করার মতো। তবে, অন্য স্টলগুলোতেও উঁকি দিতে ভুল করেননি মেলায় আগতরা। স্টলগুলোতে গিয়ে যেমন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সেবার ধরণ দেখেছেন; তেমনি নিয়েছেন স্টলে সাজিয়ে রাখা বিভিন্ন কাগজপত্র। অনেকেই ক্ষুধার জ¦ালা সইতে না পেরে ঢুকে পড়েছিলেন মেলার অভ্যন্তরে থাকা অস্থায়ি ক্যান্টিনটিতে।
    সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে মেলার চিত্র পাল্টাতে শুরু করে। সময় যতো পেরোতে থাকে দর্শনার্থীর সংখ্যাও ততোই থাকে বাড়তে। মানুষের ঢলে মেলার মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়। মেলার স্টলগুলো দেখতে যাওয়ার পাশাপাশি সবাই তখন অপেক্ষা করতে থাকে সঙ্গীত সন্ধ্যার। ঢাকা থেকে আগত কন্ঠশিল্পীরা পরিবেশন করেন সঙ্গীত। রাতে কণ্ঠশিল্পী লায়লার সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া মনোজ্ঞ সঙ্গীতানুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী প্রতীক হাসান। সর্বশেষ মানুষের মন মাতাতে মঞ্চে উঠে আসেন শুধু চট্টগ্রাম নয় সারা বাংলাদেশের ঐহিত্যবাহী ব্যান্ড দল ‘সোলস্’। ব্যান্ড দলটির শিল্পী নাসিম আলী খান এবং পার্থ বড়–য়া পরিবেশন করেন বেশ কিছু জনপ্রিয় গান। যা উপস্থিত শ্রোতাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় নস্টালজিয়ায়।
    এবারের মেলায় জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক), জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বেজা), অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, বন বিভাগ, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ, পশু সম্পদ অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, পরিসংখ্যান ব্যুরো, বিআরটিএ, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়, কর্মসংস্থান ব্যাংক, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, ইস্টার্ন রিফাইনারি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক,ওয়ার্ল্ড ভিশন, এমএসএফ, ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিলসহ বেশ কয়েকটি সরকারি-অসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্টল দেয়া হয়েছিলো। মেলায় আগতরা প্রসব প্রতিষ্ঠানের স্টলে গিয়ে জানতে পেরেছেন প্রয়োজনীয় তথ্য। অনেকেই প্রতিষ্ঠানের তাকে সাজিয়ে রাখা পুস্তিকা থেকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পুস্তিকা নিয়েছেন।

    দেশবিদেশ /০৭ অক্টোবর ২০১৮/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ