• শিরোনাম

    ব্যয় হবে সাড়ে আঠার হাজার কোটি টাকা

    আগামী সপ্তাহে একনেকে উঠছে মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প

    দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক | ৩০ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:২৬ অপরাহ্ণ

    আগামী সপ্তাহে একনেকে উঠছে মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প

    বহুল প্রত্যাশার ‘মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প’ একনেকে উঠছে আগামী মঙ্গলবার। ইতোমধ্যে সরকারের ফার্স্ট ট্র্যাকে ঠাঁই পাওয়া প্রকল্পটি ওইদিনই অনুমোদন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কোনো কারণে আগামী মঙ্গলবারের একনেকে সম্ভব না হলে পরের মঙ্গলবারে প্রকল্পটির অনুমোদন নিশ্চিত বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে বন্দরটি দেশের গভীর সমুদ্র বন্দরের অভাব ঘুচানোর পাশাপাশি আগামী দিনের চাহিদা মেটানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মহেশখালীর মাতারবাড়ি এলাকায় সরকারি খাতের দুটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ‘কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড’ (সিপিজিসিবিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। জাপানের জাইকার সহায়তায় ৩০ হাজার কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জাইকার পক্ষ থেকে প্রকল্পটির ব্যাপারে বিভিন্ন সমীক্ষা পরিচালনা করা হয় এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চোখ খুলে দেয়া হয়। ৬শ’ মেগাওয়াট করে ১২শ’ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটির জন্য প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ কয়লা লাগবে। এই কয়লা যোগান দেয়ার জন্য বিদেশ থেকে প্রচুর কয়লা আমদানি করতে হবে। প্রয়োজনীয় কয়লা মজুদের জন্য গুদাম এবং জাহাজ থেকে কয়লা খালাসের জন্য একটি জেটি নির্মাণের পাশাপাশি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই জেটিতে জাহাজ ভিড়ানো এবং কয়লা খালাসের জন্য বঙ্গোপসাগরের উপক‚লে ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ, ১৮ মিটার ড্রাফটের ২৫০ মিটার প্রস্থ একটি খাল (চ্যানেল) খনন করার উদ্যোগ নেয়া হয়। জাইকা এই চ্যানেল তৈরির কার্যক্রম শুরু করে বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানায়, কয়লা খালাসের জন্য যা করা হবে তার সাথে আর কিছু পদক্ষেপ নিলেই এখানে এখানে একটি গভীর সুমদ্র বন্দর গড়ে তোলা সম্ভব। যেখানে ২০ হাজার টিইইউএস কন্টেনার বোঝাই অন্তত ১৬ মিটার ড্রাফটের জাহাজ অনায়াসে ভিড়ানো যাবে। ১৪ মিটারের বেশি ড্রাফটের জাহাজ ভিড়ানো যাওয়া বন্দরকেই গভীর সমুদ্রবন্দর বলা হয়। এতে করে মাতারবাড়িতে ১৬ মিটার ড্রাফট পাওয়া গেলে এটি অনায়াসে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দরের অভাব ঘুচাবে বলেও জাইকার পক্ষ থেকে বলা হয়।

    জাইকার প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে চট্টগ্রাম বন্দর। একটি প্রতিনিধিদল সরজমিনে গিয়ে প্রকল্প এলাকা দেখে আসে। বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘মেঘ না চাইতে বৃষ্টি’র মতো অবস্থা দেখতে পান। তারা নিশ্চিত হন যে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা খালাসের জন্য জাইকা যেসব অবকাঠামো গড়ে তুলছে তার সাথে কিছু বাড়তি কাজ করলেই অনায়াসে বাণিজ্যিক একটি বন্দর গড়ে তোলা যায়। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়। সমীক্ষায়ও নতুন বন্দর গড়ে তোলার ব্যাপারে পজেটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। বন্দর কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নতুন করে প্রকল্প তৈরি করে। এতে মাতারবাড়ি এবং ধলঘাট মৌজার ১০৮০ একর ভূমি নিয়ে নতুন বন্দরের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। খরচ নির্ধারণ করা হয় ১৮ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় থেকেও প্রকল্পটির ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া মিলে। সমন্বিত উদ্যোগে জাইকার সাথেও আলোচনা করা হয়। জাইকার পক্ষ থেকে প্রকল্পটির জন্য অতি স্বল্প সুদে ১৩ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। বাকি ২ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ও ২ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে সংস্থান করে মাতারবাড়ি বন্দর নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। নতুন এই বন্দরের জন্য কয়লা খালাসের লক্ষ্যে খনন করা চ্যানেলকে আড়াইশ মিটার থেকে পাশে আরো একশ’ মিটার বাড়িয়ে সাড়ে তিনশ’ মিটার প্রস্ত করতে হবে। এর বাইরে ব্রেক ওয়াটার বাড়াতে হবে ৩৯৭ মিটার। ২৭.৭ কিলোমিটার রাস্তাও নির্মাণ করতে হবে। প্রকল্প সারপত্র পুরোপুরি তৈরি করে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। পরিকল্পনা কমিশনের বিভিন্ন ব্যাখার জবাবও ইতোমধ্যে দিয়ে দেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের পর আগামী মঙ্গলবার প্রকল্পটি একনেকে যাচ্ছে। একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে ইতোমধ্যে প্রকল্পটিকে সরকারের ফার্স্ট ট্র্যাকভুক্ত করা হয়েছে। একনেকের অনুমোদনের পর যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের শীর্ষ একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাতারবাড়ি বন্দর এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই বন্দর নির্মাণে আর কোনো সংশয় নেই। দেশের আগামীর চাহিদা এবং অর্থনীতির উন্নয়নে এই বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নিশ্চিত হয়েছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে নিজেদের উচ্ছ¡াসের কথা জানিয়েছেন।

    এদিকে গতকাল বুধবার নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপির নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি দল মাতারবাড়ি বন্দর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এই সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, মেম্বার (হারবার) কমডোর এম শফিউল বারী, প্রধান পরিকল্পনাবিদ মাহবুব মোরশেদ চৌধুরী, চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার আরিফুর রহমান, সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক, ম্যানেজার এস্টেট মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান প্রতিনিধি দলে ছিলেন।

    প্রতিনিধি দলের একজন সদস্য জানান, মাননীয় মন্ত্রী প্রকল্পটি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্বপ্ন জাগানিয়া এই প্রকল্পটি অতি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন। মন্ত্রী নৌপথে মাতারবাড়ি গিয়ে রাস্তা সম্পর্কে ধারণা নেয়ার জন্য সড়ক পথে চট্টগ্রাম ফিরেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    দেশবিদেশ/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মাতারবাড়ী ঘিরে মহাবন্দর

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ