• শিরোনাম

    একাদশ সংসদ নির্বাচন ঃ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃংখলা বাহিনী

    আজ থেকে তিনদিন বিধি-নিষেধের আওতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প

    দীপক শর্মা দীপু | ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

    আজ থেকে তিনদিন বিধি-নিষেধের আওতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প

    রোহিঙ্গারা কোন গোষ্টি বা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা বা কেন্দ্রে গিয়ে অপ্রীতিকরকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সে জন্য সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইনশৃখলা বাহিনী । ক্যাম্পে অতিরিক্ত পুলিশ,আনসার ও সেনাবাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। তারা যেন ক্যাম্পের বাইরে আসতে না পারে সেই জন্য নির্বাচন কমিশন বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। রোহিঙ্গারা যেমন বাইরে আসতে পারবেনা একইভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও যাতে কেই ঢুকতে না পারে সেই বিষয়েও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই জন্য এনজিও কর্মকর্তা ও কর্মীদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে না ঢুকার জন্য নির্দেশনা রয়েছে। তবে এই নির্দেশনা রয়েছে নির্বাচনের আগের দিন, নির্বাচনের দিন ও নির্বাচনের পরের দিন।
    কক্সবাজা জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৩১ ডিসেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের কাম্পের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
    চিঠিতে বলা হয়েছে, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের যেন নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ব্যবহার করতে না পারে বা তারা যেন কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। এছাড়াও কোন দুষ্কৃতিকারীর যেন তাদের ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য বিশেষ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
    এ লক্ষ্যে কোন রোহিঙ্গা শরণার্থী যেন ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৩১ ডিসেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ক্যাম্পের বাইরে যেতে না পারে বা অন্য কোথাও যেতে না পারে সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ইসি সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
    একইসঙ্গে এই সময় পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা কাম্পে কোনো এনজিও বা স্বেচ্ছাসেবীকর্মী গাড়ি নিয়ে ঢুকতে বা বের হতে না পারে সেই নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। তবে খাদ্য, ত্রাণ বা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কাজে ক্যাম্পে প্রবেশের ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা শিথিল থাকবে।
    উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প ৫ এর রোহিঙ্গা মাঝি মো: আয়ুব জানান, ২৯ ডিসেমস্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে যাতে নাই যাই সেই জন্য সবখানে সবাইকে বলে দেয়া হয়েছে।
    উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটির সাধারণ সম্পাদক গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, ২০১৪ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে বের না হতে কোন বাধ্যবাদকতা ছিলনা। তখনো নানাভাবে রোহিঙ্গারা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে। এবারো নির্বাচনের তফশিল ঘোষনার পর থেকে রোহিঙ্গারা দলবদ্ধ হয়ে ক্যাম্পের বাইরে চলে আসেন। অনেকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন এমন কি অনেকে নির্বাচনি প্রচারনার সাথে জড়িয়ে পড়েন। নির্বাচন কমিশন রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে বের না হতে যে তিনদিনের নির্দেশনা দিয়েছেন তা আরো বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। তেমন নির্দেশনা না থাকায় রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে প্রচারনা করার সুযোগ পেয়েছে। এতে করে রোহিঙ্গাদের কারনে যে কোন বড় ধরনের সহিংতার আশংকা করা হচ্ছে।
    কক্সাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আয়াছুর রহমান জানান, মিয়ানমারের রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনা নির্যাতনের ফলে পালিয়ে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বন ও পাহাড় কেটে ছোট-বড় ৩০টি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে অনেক রোহিঙ্গা কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯৭৮-৭৯ সালে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছে। ভোটার হওয়া এসব রোহিঙ্গাদের সাথে অন্যান্য কিছু রোহিঙ্গারাও নির্বাচনে অংশগ্রহন বা ভোটকেন্দ্রে নাশকতা ঘটাতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন তিনি।
    পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন জানান, ইসি তিন দিনের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিলেও আগে থেকে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ ব্যাপারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
    ক্যাম্পের চারপাশে ৯টি পয়েন্ট ও প্রধান সড়কের ৩টি পয়েন্টে চেকপোষ্ট থাকবে। ক্যাম্পে অতিরিক্ত ৪৮০ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিন দিন ক্যাম্পে ভিতরে রাস্তায় ৮টি টহল টিমের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, আনসার, ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল টিম পরিচালিত হবে।
    কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে রোহিঙ্গাদের সতর্ক করার পাশাপাশি সকল ক্যাম্পের মাঝিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা সহ সকল সংস্থার কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। জরুরী চিকিৎসা সহ একেবারেই অপরিহার্য্য প্রয়োজন ছাড়া কেউ যাতে ক্যাম্পে প্রবেশ বা বাহির হতে না পারে সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
    তিনি আরো জানান, নির্বাচন উপলক্ষে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের যে কড়া নির্দেশনা রয়েছে, সেগুলো গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা টহল দিয়ে যাচ্ছে।
    নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। প্রার্থীদের মধ্যে প্রচার প্রচারণায় তেমন কোন বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার মত কোন কিছুই নজরে আসেনি বলে জানান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন।
    কক্সবাজারে ৪টি সংসদীয় আসনে ২৮ জন প্রার্থী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে ৪টি পৌরসভা ও ৭১টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩৭৩ জন এবং পুরুষ ভোটার ৭ লাখ ৭ হাজার ৮৩১ জন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ